ফের চালু হল সম্পতি করে বয়স্কদের ছাড়, নির্দেশিকা জারি কলকাতা পুরসভার

Published:

kolkata municipal corporation

আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: প্রবীণ করদাতাদের সম্পত্তি করে ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিধানসভা ভোটের সময় থেকেই বন্ধ ছিল। তবে এবার ফের এই বিশেষ ছাড় চালু করল কলকাতা পুরসভা (Kolkata Municipal Corporation)। চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই এই সুবিধা আবার দেওয়া শুরু হয়েছে। চলতি অর্থবর্ষের শুরুতেই এই ছাড় নিয়ে আলোচনা হয়েছিল কিন্তু এতদিন কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। নির্বাচনি আচরণবিধি কার্যকর থাকায় নতুন ও পুরনো আবেদনগুলির অনুমোদন দেওয়া সম্ভব হয়ে ওঠেনি। ইতিমধ্যেই কলকাতা পুরসভায় এই নিয়ে ৩০০-র বেশি আবেদন জমা পড়েছে।

আইনে থাকলেও কেন আটকে ছিল ছাড়?

পুরসভার সম্পত্তিকর মূল্যায়ন ও রাজস্ব আদায় বিভাগের আধিকারিকদের মধ্যে এই বিশেষ ছাড় নিয়ে শুরু থেকেই কিছুটা মতভেদ ছিল। আধিকারিকদের একাংশের বক্তব্য, সম্পত্তিকরে প্রবীণ নাগরিকদের ছাড় দেওয়ার বিষয়টি তো কোনও নতুন ঘোষণা নয়। পুরসভার আইনের নির্দিষ্ট ধারাতেই এর সংস্থান রয়েছে। তাই শুধু নির্বাচনি আচরণবিধির কারণে এই সুবিধা বন্ধ রাখার কি কোনও প্রয়োজন ছিল? পুরসভার এক আধিকারিকের কথায়, ১৭২(১)(বি)(১এ) ধারায় এই ছাড় দেওয়ার আইনি ব্যবস্থা রয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরেই তা যথারীতি কার্যকর। ফলে এটি নতুন কোনও সিদ্ধান্ত বা নির্বাচনের আগে দেওয়া কোনও সুবিধা হিসেবে দেখার কারণ নেই বলেই তাঁর মত।

৬০ বছরের বেশি বয়সে ১০ শতাংশ ছাড়

পুরসভার নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পত্তিকর জমা দিলে সাধারণ ছাড়ের সুবিধা পাওয়া যায়। অনলাইনে কর মেটালেও অতিরিক্ত ছাড় রয়েছে। এর পাশাপাশি ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সি করদাতাদের সম্পত্তিকরে ১০ শতাংশ বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়। অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মীদের ক্ষেত্রে এই ছাড়ের পরিমাণ বেড়ে হয় ২৫ শতাংশ। কোনও প্রবীণ নাগরিক যদি একবার এই সুবিধার জন্য আবেদন করেন এবং অনুমোদন পেয়ে যান, তাহলে টানা তিন বছর ছাড় পাওয়া যায়। তিন বছর পর ফের পুনর্নবীকরণের জন্য আবেদন করতে হয়। গত মার্চের শেষ দিক থেকে নতুন আবেদন এবং পুরনো সুবিধা পুনর্নবীকরণের জন্য বহু আবেদন জমা পড়েছিল।

আরও পড়ুন: নাবালিকাকে শ্লীলতাহানি ও মারধর বিহারে, জামুই কাণ্ডে অভিযুক্তকে এনকাউন্টার

নির্বাচনের পর ছাড় দেওয়ার প্রক্রিয়াটি দীর্ঘদিন এগোতে পারেনি। পুরসভার আধিকারিকদের একাংশের দাবি, প্রথমে নির্বাচন এবং পরে পুরসভায় প্রশাসনিক পরিবর্তন, সব মিলিয়ে এই ছাড়ের অনুমোদনের বিষয়টি বেশি জটিল হয়ে ওঠে। যাঁরা আগে থেকেই এই সুবিধার অনুমোদন পেয়েছিলেন, তাঁদের ক্ষেত্রে সমস্যা ছিল না। মূলত নতুন আবেদনগুলির অনুমোদনই আটকে ছিল। শেষ পর্যন্ত আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনার পর মুখ্য প্রশাসক স্মিতা পান্ডে ছাড় দেওয়ার অনুমতি দেন। এরপরই সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে নতুন আবেদন এবং পুনর্নবীকরণের আবেদনগুলি নিয়ে ফের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।