অনন্যা সরকার, কলকাতা: বর্তমানে সরকারি স্কুলের শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মীরা জনগণনার (Census) কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। এরকম পরিস্থিতিতে, একই সাথে পরীক্ষার দায়িত্ব ও জনগণনার কাজ কীভাবে সামলানো সম্ভব হবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। তাই, বাধ্য হয়ে পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) স্কুল শিক্ষা দপ্তরের কাছে ২০২৭ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার (Madhyamik Exam) সময়সূচি পরিবর্তনের প্রস্তাব পাঠিয়েছে। আগে দশম শ্রেণির বোর্ডের পরীক্ষাটি ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল, তবে এখন তা মার্চ মাসে পিছিয়ে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও পর্ষদ স্পষ্ট করেছে যে, এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, এই প্রস্তাব বর্তমানে আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।
মাধ্যমিক পরীক্ষা পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা
৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হয়েছে জনগণনার প্রথম পর্যায়। দ্বিতীয় পর্যায় আগামী ২৫ জানুয়ারি থেকে ২৮শে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে বলে ইতিমধ্যেই জানানো হয়েছে। এরপর তথ্য সংশোধনের জন্য ৫ মার্চ পর্যন্ত সময় রাখা হয়েছে। যদিও গত জুলাই মাসে পর্ষদ ঘোষণা করেছিল যে, ২০২৭ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষা ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে, যা জনগণনার দ্বিতীয় পর্যায়ের সময়ের সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যাচ্ছে। তাই রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পর, পর্ষদ পরীক্ষা শুরুর তারিখ ২ মার্চে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।

যদি সরকার এই প্রস্তাবে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দেয়, তবে আগের সময়সূচি বাতিল করে নতুন করে সময়সূচি প্রকাশ করা হবে। খসড়া প্রস্তাবে বলা হয়েছে যে, মাধ্যমিক পরীক্ষা ২ মার্চ থেকে ১৬ মার্চের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে পারে এবং পরীক্ষাগুলো সকাল ১০:৪৫টা থেকে দুপুর ২:০০টার মধ্যে পরিচালিত হতে হবে। তবে পর্ষদের এক আধিকারিক জানিয়েছেন যে, এটি কেবল একটি প্রস্তাব, কোনো চূড়ান্ত সময়সূচি নয়। পরীক্ষার সূচি বদল সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে, তা আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: মিলতে পারে ডবল কিস্তি! নভেম্বর মাসে অন্নপূর্ণা যোজনার ৩০০০ টাকা কবে ঢুকবে?
পরীক্ষা পিছানোর পাশাপাশি, ফলাফল প্রকাশের সময় নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। যেহেতু মে মাস থেকে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে, তাই শিক্ষকরা প্রশ্ন তুলেছেন যে, পরীক্ষা পিছিয়ে গেলে এত কম সময়ের মধ্যে উত্তরপত্র মূল্যায়ন ও ফলাফল ঘোষণা কীভাবে সম্ভব হবে। তবে, মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি আগেই স্পষ্টভাবে জানান যে, উত্তরপত্রের সঠিক মূল্যায়ন ও সময়মতো ফলাফল প্রকাশের বিষয়ে পর্ষদ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাই এই পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।










