বিদ্যাসাগর নিয়ে বিতর্ক, বাতিল হতে পারে মালদার শিক্ষক তনয় মিশ্রর সার্টিফিকেট!

Published:

Malda Teacher Tanay Mishra

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ক্রমেই বিতর্ক বাড়ছে বিদ্যাসাগর সম্মানে ভূষিত সেই ভাইরাল মালদহের (Malda) প্রধান শিক্ষক তনয় মিশ্রের নাম, যিনি কিনা বলেছিলেন, ‘সহজপাঠ বিদ্যাসাগরের লেখা’। প্রশ্ন উঠছে কীভাবে একজন প্রধান শিক্ষক বাংলার মনীষীদের নিয়ে সাধারণ জ্ঞানটুকুও মনে রাখতে পারে না। আর তার জেরেই ফের খবরে শিরোনামে উঠে এসেছে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির প্রসঙ্গ। অনেকের ধারণা ঘুষের টাকা দিয়ে হয়তো তনয়বাবুও শিক্ষক হয়েছেন। এদিকে শিক্ষক দিবসে তাঁকে মর্যাদাপূর্ণ বিদ্যাসাগর সম্মানে (Vidyasagar Award Controversy) ভূষিত করার জন্যও প্রশ্নের মুখে পড়েছে সর্ব শিক্ষা অভিযানের সিদ্ধান্ত।

ঠিক কী হয়েছিল?

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, পুরাতন মালদহের কাদিরপুর কিরণময়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হলেন তনয় মিশ্র। দীর্ঘদিন ধরে তিনি প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে রয়েছেন। চলতি শিক্ষক দিবসে মালদহ জেলা থেকে রাজ্য সরকারের দেওয়া ‘বিদ্যাসাগর পুরস্কার’ও তিনি পেয়েছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে ওই প্রধান শিক্ষকের কাছে বিদ্যাসাগর সম্পর্কে কয়েকটি প্রশ্ন করা হলে দেখা যায় তিনি সব ভুল উত্তর দেন। এমনকি বিদ্যাসাগরের জন্মস্থান মেদিনীপুরের বদলে তিনি বর্ধমানের নাম বলেন বলেও দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এবং সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের একটি কবিতা নিয়েও তাঁকে প্রশ্ন করা হলে উত্তর নিয়েও তৈরি হয়েছে বিতর্ক। এমনকি শিক্ষক হয়েও তিনি বিদ্যাসাগর বানান ঠিক করে লিখতে পারেননি।

কী বলছেন বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু?

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিওটি ভাইরাল হতেই অনেকেই প্রধান শিক্ষকের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন করছেন। একজন শিক্ষক এবং বিশেষ করে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে এমন সাধারণ সাহিত্য ও ইতিহাসের তথ্য জানা কতটা জরুরি তা নিয়েও নানা মত সামনে এসেছে। এমনকি বিদ্যাসাগরকে নিয়ে এমন ভুল তথ্য বলায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু। তিনি জানিয়েছেন, “ কোনো শিক্ষকের তরফে এইরূপ উত্তর কখনোই আশা করা যায় না। আমি মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর শুভেন্দু অধিকারীর কাছে অনুরোধ জানিয়েছি যে যত দ্রুত সম্ভব ওই শিক্ষকের সমস্ত সার্টিফিকেট বাতিল করে দিক।

আরও পড়ুন: অন্নপূর্ণার টাকা জমিয়েই প্রথম দুর্গাপুজো, মালদহে নতুন চমক মহিলাদের

এদিকে বিদ্যাসাগর পুরস্কার প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তনয় মিশ্র সোশ্যাল মিডিয়ায় এই সম্মান গ্রহণের নেপথ্যে ধন্যবাদ জানিয়েছেন সমগ্র শিক্ষা মিশনের প্রজেক্ট কো অর্ডিনেটর অঞ্জন মিশ্রকে। তারপরেই সাংবাদিকরা বিতর্কিত শিক্ষককে এই পুরস্কার দেওয়ার প্রসঙ্গে যোগাযোগ করেন অঞ্জন মিশ্রের সঙ্গে। সে জানিয়েছেন, “ঠিক বা ভুল বিচার করার দায়িত্ব আমার নেই। তাই আদতে গোটা বিষয়ে ঠিক কি হয়েছিল কিছুই আমার জানা নেই।” অন্যদিকে জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শক মলয় মণ্ডল এবং অতিরিক্ত জেলাশাসক (শিক্ষা) সপ্তর্ষি নাগ জানিয়েছেন, বিষয়টি তাঁরা জানতে পেরেছেন এবং পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

google button