অনন্যা সরকার, কলকাতা: বর্ষা অনেকদিনই বিদায় নিয়েছে। তবে উৎসবের মরশুমে ইলিশের (Ilish) চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী। রুপোলি শস্যের টানে বাজারে ভিড় জমাচ্ছেন ইলিশপ্রেমীরা। দাম এখন প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেলেও, ভোজনরসিক বাঙালিরা তাদের প্রিয় মাছের স্বাদ থেকে বঞ্চিত হতে একেবারেই রাজি নন। তবে তাদের রসনা তৃপ্তির উৎস এখন আর ডায়মন্ড হারবারের ইলিশ নয়, বরং মায়ানমার থেকে আকাশপথে উড়ে আসছে ইলিশ। ফলে আকাশছোঁয়া দাম মধ্যবিত্তের পকেটে টান ফেলছে।
মায়ানমারের ইলিশে ছেয়েছে বাজার
বর্তমানে স্থানীয় নদী ও ডায়মন্ড হারবার থেকে ইলিশের সরবরাহ প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। এছাড়াও বাংলাদেশ আর ইলিশ পাঠাচ্ছে না। উল্টে তারা আমদানি করছে ভারত থেকে। ফলে, বর্তমানে বাজারে পাওয়া ইলিশের বেশিরভাগটাই আসছে সুদূর মায়ানমার থেকে। মাছ আকাশপথে কলকাতায় আসার পর, শহর ও রাজ্যের বিভিন্ন বাজারে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে ডায়মন্ড হারবার থেকে সরবরাহ প্রায় বন্ধ বললেই চলে। তবে, কাকদ্বীপ হয়ে গুজরাট থেকেও কিছু ইলিশ বাংলার বাজারগুলিতে আসছে। যদিও, দেশীয় সরবরাহের ঘাটতি মেটাতে মায়ানমারের ইলিশই এখন প্রধান উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শুক্রবার জলপাইগুড়ির বাজারে প্রতি কেজি ইলিশের পাইকারি দাম ছিল প্রায় ১,৪০০ থেকে ১,৫০০ টাকা। খুচরো বাজারে মাছের আকার ও গুণমানের ভিত্তিতে এগুলি ১,৬০০ থেকে ১,৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর বড় আকারের ইলিশের দাম কেজি প্রতি ২,০০০ টাকা পর্যন্তও পৌঁছেছে।
আরও পড়ুন: আবার পুরনো পদ্ধতিতে হবে উচ্চমাধ্যমিক? সেমিস্টার প্রথা বাতিল করা নিয়ে শুরু আলোচনা
মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, আগে ডায়মন্ড হারবার থেকে ইলিশের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের মধ্যেই থাকত। এখন ভিন রাজ্য, এমনকি বিদেশ থেকে আকাশপথে মাছ আনার উচ্চ খরচের কারণে দাম অনেকটাই বেড়ে গেছে। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, মায়ানমারের ইলিশ বেশ সুস্বাদু, তাই চড়া দাম হওয়া সত্ত্বেও এর বিক্রি অব্যাহত রয়েছে।
তবে, ক্রেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, দেড় মাস আগেও ইলিশের দাম অনেক কম ছিল, তবে এখন দাম বাড়ার কারণে অনেকে বাধ্য হয়ে মাছ কেনার পরিমাণ কমিয়ে দিচ্ছেন। তবুও অনেকেই স্বীকার করছেন যে, মায়ানমারের মাছটির স্বাদ বেশ ভালো।
সব মিলিয়ে, আর্থিক চাপের মুখে পড়লেও ইলিশের প্রতি বাঙালির আকর্ষণ এখনও অটুট। মানুষ বাড়তি দাম মেনে নিয়েই মায়ানমার থেকে আমদানি করা ইলিশ দিয়ে নিজেদের রসনা তৃপ্ত করছেন। স্থানীয় মাছের আকালের মধ্যেও, আকাশপথে আসা এই রূপালি শস্যকে কেন্দ্র করে বাজার সরগরম হয়ে উঠেছে।










