সহেলি মিত্র, কলকাতা: আপনি কি জানেন, তারাপীঠের (Tarapith) খুব কাছেই রয়েছে গুপ্তকাশী? হ্যাঁ ঠিক শুনেছেন। এমন এক জায়গা যেখানে এক সময়ে নাকি ১০৮টি শিব মন্দির ছিল, তবে তার মধ্যে কয়েকটিই আর ভালো অবস্থায় রয়েছে। সবথেকে বড় বিষয়, আপনি কি জানতেন, মা তারার বড় বোনও ছিলেন? চলুন বিশদে জেনে নেওয়া যাক।
তারাপীঠের খুব কাছেই রয়েছে গুপ্তকাশী
তারাপীঠ থেকে মাত্র ১৯ কিলোমিটার দূরে ঝাড়খণ্ডের দুমকা জেলায় রয়েছে মা মৌলীক্ষা মন্দির। এই জায়গা এক অলৌকিক ও জাগ্রত পুণ্যভূমি। অনেকেই হয়তো জানেন তো আবার অনেকেই হয়তো জানেন না যে মৌলীক্ষা হলেন তারা মায়ের বড় বোন, যিনি ‘বড় মা’ নামেও পরিচিত। এখানে পরম সাধক বামাখ্যাপা নিজে সাধনা করেছিলেন। অনেকেই বলেন, মায়ের এই রূপের দর্শন পাওয়া সত্যিই পরম সৌভাগ্যের।
এক সময়ে ১০৮টি শিব মন্দির ছিল
বীরভূম ও ঝাড়খণ্ড সীমান্তের কাছে অবস্থিত ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক গ্রাম মালুটি যা অনেকেই মুলুটি বা মালুটি নামে চেনেন মূলত তার টেরাকোটা মন্দির এবং তান্ত্রিক ঐতিহ্যের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। এখানে এক সময়ে ৩৫০ মিটারের ব্যাসার্ধের মধ্যে ১০৮টি শিব মন্দির ছিল। বর্তমানে ১০৮টি শিব মন্দিরের মধ্যে ৭২টি মন্দির আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে। মন্দিরের গায়ে রয়েছে রামায়ণ মহাভারতের নানা ইতিহাস। এখানেই রয়েছে মা মৌলিক্ষা দেবীর মন্দির। জানলে অবাক হবেন, মন্দিরে দেবীর কোনো সম্পূর্ণ মূর্তি নেই, কেবলমাত্র ল্যাটেরাইট পাথরের লাল রঙের মুখমণ্ডল পূজিত হয়।
আরও পড়ুন: বেঁকে বসলো ভারতীয় ট্রাক চালকরা, পণ্য আমদানি বন্ধ হল বাংলাদেশের!
তান্ত্রিক মতে, মা মৌলীক্ষাকে তারাপীঠের মা তারার বড় বোন বলা হয়।এখানে একসঙ্গে এতগুলি শিবলিঙ্গ এবং তান্ত্রিক শক্তিপীঠের সান্নিধ্য থাকার কারণে মালুটি অঞ্চলকে ‘গুপ্ত কাশী’ বলা হয়।
প্রতি বছর কালীপুজো ও শিবরাত্রিতে বিশাল উৎসব হয়।গ্লোবাল হেরিটেজ ফান্ড (GHF) এই ঐতিহ্যবাহী প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনকে বিশ্বের অন্যতম বিপন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
কীভাবে যাবেন?
রামপুরহাট থেকে প্রায় ১৬ কিমি দূরে অবস্থিত হল এই মা মৌলীক্ষা দেবীর মন্দির। আপনি চাইলে স্থানীয় টোটো বা গাড়ি বুক করে সেখানে পৌঁছে যেতে পারেন।










