নবদ্বীপে সম্পত্তি লিখিয়ে অসুস্থ বাবা-মাকে তাড়াল পুলিশকর্মী ছেলে! রাস্তায় অসহায় দম্পতি

Published:

Nabadwip

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: অসুস্থ বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সবকিছু কেড়ে নিয়ে রাস্তায় বের করে দিল এক পুলিশকর্মী ছেলে (Son Throws Parents Out)। কোথাও আশ্রয় না পেয়ে অসুস্থ বৃদ্ধ দম্পতির দিন কাটছে বাসস্ট্যান্ডে, এমনই অমানবিক ঘটনা ঘটেছে নবদ্বীপে (Nabadwip)। রাজ্য পুলিশ কর্মীর এই কর্মকাণ্ডে রীতিমতো তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়। ইতিমধ্যেই অসহায় এবং অসুস্থ বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ভিডিও ভাইরাল (Viral Video) হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

অসুস্থ বাবা-মাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয় ছেলে

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, টাকা পয়সা ও জমিজায়গা লিখে নিয়ে অসুস্থ বৃদ্ধ বাবাকে ভিটেছাড়া করার অভিযোগ উঠেছে রাজ্য পুলিশ কনস্টেবল পদে কর্মরত ছোট ছেলে গৌরাঙ্গ সরকারের বিরুদ্ধে। বৃদ্ধ বাবা ভজন সরকারের গলায় টিউমার সংক্রান্ত জটিল অস্ত্রোপচারের পর তিনি বাকশক্তি হারিয়েছেন এবং নলের সাহায্যে তরল খাবার গ্রহণ করেন। আর সেই অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে জমি-বাড়ি থেকে শুরু করে ব্যাংকের সমস্ত অর্থ নিজের নামে লিখিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয় ছেলে। বর্তমানে বৃদ্ধ বাবা ভজন সরকার ও তাঁর স্ত্রী অনিমা সরকার খোলা আকাশের নিচে নবদ্বীপের একটি বাসস্ট্যান্ডে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।

ভিডিও ভাইরাল হতেই বড় পদক্ষেপ

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায় বৃদ্ধ দম্পতির বড় ছেলে ভরত সরকার প্রতিমা তৈরির কাজ করেন এবং আলাদা ঘরে বসবাস করেন, তাই বাধ্য হয়েই অসহায় মা বাবা নবদ্বীপের বাসস্ট্যান্ডে তাবু খাটিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। বহু কষ্টে দিন চলত এই বৃদ্ধ দম্পতির, পরে ঘটনাটি প্রথম প্রকাশ্যে আসে স্থানীয় সমাজসেবী শুভশ্রী ভৌমিকের মাধ্যমে। জানা গিয়েছে, তিনি দরিদ্র মানুষদের খাবার বিতরণ করতে গিয়ে বাসস্ট্যান্ডে ভজন সরকারকে অসুস্থ অবস্থায় দেখতে পান এবং এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিও ভাইরাল হতেই শুভশ্রীদেবীর অভিযোগ, ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর পুলিশকর্মী গৌরাঙ্গ সরকার ও তার স্ত্রী তাঁকে ভিডিও মুছে ফেলার জন্য ক্রমাগত ফোন করে চাপ দিতে ও হুমকি দিতে থাকেন।

আরও পড়ুন: এবার অন্নপূর্ণা যোজনা বন্ধের দাবি মহিলাদের! হঠাৎ হল টা কী?

ছোট ছেলের এই কর্মকাণ্ডে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন বৃদ্ধা মা অনিমা সরকার। তিনি জানান, “আমাদের সমস্ত কিছু কেড়ে নিয়ে আজ রাস্তায় ফেলে দিয়েছে। আমরা আমাদের ভিটেমাটি এবং ভরণপোষণের খরচের অধিকার ফিরে পেতে চাই।” এরপরই স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি উঠতেই ঘটনাস্থলে হাজির হয়েছিল পুলিশ প্রশাসন। বৃদ্ধ দম্পতিকে আপাতত তাঁর বড় ছেলের বাড়িতে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।