‘ইতিহাস বলেছি’ মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পরেও বদলায়নি নেতাজিকে অপমানকারী অনন্ত মহারাজ

Published:

Ananta Maharaj

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে (Netaji Subhash Chandra Bose) নিয়ে কোনওপ্রকার অবমাননাকর মন্তব্য বরদাস্ত করবে না রাজ্য সরকার… বুধবার নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠকে এমনটাই স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বিগত কয়েকদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় নেতাজিকে নিয়ে নানারকম কটাক্ষমূলক মন্তব্য ভেসে আসছে, এমনকি বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজও (Ananta Maharaj) নেতাজিকে নিয়ে করেছেন কটাক্ষ। এমতাবস্থায় শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, নেতাজির সম্পর্কে যাঁরা কটূক্তি করার দুঃসাহস দেখিয়েছেন তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারির মতো কড়া পদক্ষেপ করা হবে। এরপরেই প্রশ্ন উঠছে তবে কি গ্রেফতার হবেন অনন্ত মহারাজ?

নেতাজিকে নিয়ে কটাক্ষ অনন্ত মহারাজের

উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে দিনহাটায় একটি কর্মসূচির শেষে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজ সংবাদ মাধ্যমকে বলেছিলেন, “কোচবিহারের মহারাজা সারা পৃথিবীকে স্বাধীন করেছিলেন। মহাত্মা গান্ধী নেহরুর আন্দোলনে ভারতবর্ষ স্বাধীন হয়েছে? এটা যদি হয় তাহলে বাকি রাষ্ট্রগুলো কীভাবে স্বাধীন হল? কোচবিহারের মহারাজা যুদ্ধ করে হিটলার এবং আজাদ হিন্দ ফৌজকে ডেস্ট্রয় করেছে। কোনও নেতাজির ক্ষমতা ছিল না আজাদ হিন্দ ফৌজ তৈরি করার।” তিনি সাংবাদিকদের আরও বলেন যে, “ব্রিটিশ সৈন্যদের জার্মান নিয়ে গিয়েছিল বন্দি করে। সেই জার্মান তাদেরকে নেতাজির হাতে তুলে দিয়েছিল। নেতাজি সেটাকে অপব্যবহার করেছে।”

বিক্ষোভে ফেটে পড়ে নেটিজেনরা

অনন্ত মহারাজ আরও জানিয়েছেন যে, “কোচবিহারের মহারাজা কোন আজাদ হিন্দ ফৌজকে দণ্ড দেয়নি। ব্রিটিশের বিরুদ্ধে আজাদ হিন্দ ফৌজ বন্দুক ধরেছিল। তাদের হাত ব্রিটিশ একমাত্র কেটে দেয়নি তার কারণ ছিল কোচবিহারের মহারাজা। আজ যদি কোচবিহারের মহারাজকে দেশের সম্রাট বানাত তাহলে হিন্দুস্তান পাকিস্তান ভাগ হত না।” এরপরই তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে শুরু হয় তুমুল শোরগোল। বিক্ষোভে ফেটে পড়ে নেটিজেনরা। থানায় থানায় দায়ের করা হয় FIR। নেতাজির এই অপমানকে ঘিরে বিরোধী দলের তরফেও একাধিক অভিযোগ করা হয়। আর তাই নিয়ে গতকাল নবান্নে এই বিষয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

কী জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী?

বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ”নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক। সাইবার সেলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নেতাজিকে যাঁরা সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার করছেন বা অপমানজনক কথা বলছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার। যাঁরা এ ধরনের দুঃসাহস দেখিয়েছেন, তাঁদের বলব এই দুঃসাহস ভাল নয়। আমাদের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এটাকে ভাল ভাবে নিচ্ছে না। বলব, অবিলম্বে ক্ষমা চান।”

অনন্ত মহারাজের প্রসঙ্গ উঠতেই তিনি বলেন, “আইন সকলের জন্য সমান। ওই ব্যক্তি কোনও রাজনৈতিক দলের সাংসদ বা বিধায়ক হতে পারেন, আবার সাধারণ রাজনৈতিক নেতা হতে পারেন অথবা বড় কোনও সরকারি আধিকারিক হতে পারেন – কিন্তু অপরাধ করলে রেয়াত মিলবে না।”

আরও পড়ুন: নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বড় আপডেট, SIT ভাঙতে চেয়ে হাইকোর্টে বিশেষ আর্জি CBI-র

কী বললেন অনন্ত মহারাজ?

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশনার পরেই এই বিষয়ে অনন্ত মহারাজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী কী বলেছেন আমি শুনিনি, যদিও সেটা তাঁর বিষয়। কোনও মিথ্যা কথা বা মনগড়া কথা আমি বলিনি। কারও নামে বদনাম করিনি, যেটা ইতিহাস সেটাই বলেছি। কাউকে গালাগালি করিনি। আমার সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর কোনও কথা হয়নি।” এখন দেখার অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধে প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নেয় কিনা।