মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর উপর হামলার ছক! বর্ধমানে STF-র জালে ধরা পড়ল পাক জঙ্গি

Published:

Suvendu Adhikari

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) বিরুদ্ধে হামলার ছক জঙ্গিদের! বর্ধমানের (Bardhaman) রেনেসাঁ হাউসিং থেকে বেঙ্গল এসটিএফ-এর জালে ধরা পড়ল পাক জঙ্গি হামিদ মণ্ডল। জানা গিয়েছে, কলকাতায় বসেই এই হামিদ নাকি মুখ্যমন্ত্রীর উপর হামলার (Terror Attack On Suvendu Adhikari) ছক কষে আসছিল। তাঁর কাছ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর সফরের খুঁটিনাটি তথ্য এবং কনভয় ডিটেইলস উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্ত মারফৎ জানা গিয়েছে, জম্মু ও কাশ্মীরের সাজ্জাদ ভাট জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগ রয়েছে ধৃতের। আজই আদালতে তোলা হবে অভিযুক্ত জঙ্গিকে।

মুখ্যমন্ত্রীর উপর হামলার পরিকল্পনা

বাংলার বুকে ফের জঙ্গি সন্ত্রাসের জাল, তবে এবার টার্গেট ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জানা গিয়েছে, তাঁর উপর হামলার ছক করেছিলেন কাশ্মীরের মোস্ট-ওয়ান্টেড জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গি হামিদ মণ্ডল। নিউটাউনের ফ্ল্যাটে দীর্ঘদিন থাকছিল এই জঙ্গি হামিদ। সাজ্জাদ ভাটের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হামিদ। তবে এবার মুখ্যমন্ত্রীর উপর হামলার যাবতীয় ষড়যন্ত্র পরিকল্পনা বানচাল করল বেঙ্গল STF। বর্ধমানের রেনেসাঁ হাউসিং থেকে তুলে আনা হয় ওই জঙ্গিকে। সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রীর সফরের খুঁটিনাটি জোগাড় করেছিল এই পাক জঙ্গি হামিদ মণ্ডল। এমনকি ধৃতের ফোনে মুখ্যমন্ত্রীর লোকেশনের যাবতীয় ডিটেইলস পাওয়া গিয়েছে।

ISI হ্যান্ডলার হিসাবে কাজ করতেন এই জঙ্গি

তদন্তকারীদের তরফে জানানো হয়েছে, হাওড়া পিলখানার বাসিন্দা ছিল হামিদ। একটি গেঞ্জির কারখানায় কাজ করতো। দুই মাস আগে বর্ধমান গিয়েছিল। পাকিস্তান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এসেছিল। আইএসআই (ISI) হ্যান্ডলার হিসাবে কাজ করছিল। নিয়মিত যোগাযোগ ছিল পাক গুপ্তচর সংস্থার সঙ্গে। পুলওয়ামায় যে জঙ্গিগোষ্ঠীর যোগ ছিল, শুভেন্দুর উপর হামলায় গ্রেফতার হামিদও সেই জঙ্গি দলেরই অংশ। তিনি জইশ-ই-মহম্মদের সক্রিয় সদস্য এবং পাকিস্তানভিত্তিক শাহজাদ ভাট্টি গোষ্ঠীর সঙ্গে তাঁর সরাসরি যোগাযোগ ছিল। এদিকে এই বিষয়টা নিয়ে ভীষণ উদ্বেগে রয়েছে রাজ্য পুলিশ এবং STF। তবে প্রশ্ন উঠছে বাংলা দখলের কী কোনো বড় প্ল্যান ছিল?

আরও পড়ুন: “লিখিতভাবে সরকারকে জানালে মিলবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার”, দাবি অগ্নিমিত্রা পালের

আপাতত এই হামিদ মণ্ডলকে বর্ধমান কোর্টে তোলা হচ্ছে, সেখান থেকে পুলিশ কাস্টডিতে চাওয়া হবে। এছাড়াও পুলিশ হেফাজতে নিয়ে STF কলকাতায় নিয়ে আসতে পারে হামিদকে। এসটিএফ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাঁর যোগাযোগের নেটওয়ার্ক, সম্ভাব্য পরিকল্পনা এবং এরাজ্যে অন্য কোনও জঙ্গি চক্র সক্রিয় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এমনকি বর্ধমান ও নিউটাউনের যেসব বাড়ির মালিক হামিদকে ফ্ল্যাট ভাড়া দিয়েছিলেন, তাঁদের চিহ্নিত করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন তদন্তকারীরা।