প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বিজেপি সরকার (Government Of West Bengal) বঙ্গে ক্ষমতা দখল করার পরেই একের পর এক কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সূচনা করে চলেছে, যার মধ্যে অন্যতম হল ‘আয়ুষ্মান ভারত’ (Ayushman Bharat)। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারের আয়ুষ্মান কার্ড (Ayushman Card) ব্যবহার করার সুযোগ পাচ্ছেন রাজ্যের বাসিন্দারা। এমতাবস্থায় ঘটল এক অবাক করা কাণ্ড, আয়ুষ্মান ভারতের KYC করাতে গিয়েই ব্রেন স্ট্রোক হল পশ্চিম মেদিনীপুরের (Paschim Medinipur) বাসিন্দা, যদিও কেন্দ্রীয় সরকারের এই প্রকল্পের আওতায় চিকিৎসা করিয়ে প্রাণে বাঁচলেন ওই যুবক।
আয়ুষ্মান কার্ডের KYC করাতে গিয়েই ব্রেন স্ট্রোক!
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ১৯ আগস্ট, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ক্ষীরপাই পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বলডাঙ্গা আদিবাসী পাড়ার বাসিন্দা শ্রীনাথ সরেন স্ত্রীর আয়ুষ্মান কার্ডের KYC-র করার জন্য স্ত্রীকে আনতে শ্বশুরবাড়ি গিয়েছিলেন। কিন্তু পরেরদিন শ্বশুরবাড়িতেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন শ্রীনাথ। তড়িঘড়ি তাঁকে আরামবাগ হাসপাতালে ভর্তি করানো হলে চিকিৎসকরা জানান, তাঁর ব্রেন স্ট্রোক হয়েছে এবং দ্রুত অপারেশন প্রয়োজন। মাথায় বজ্রাঘাত পড়ে পরিবারের, যদিও বাঁচিয়ে দেয় কেন্দ্রীয় সরকারের এই প্রকল্প। তড়িঘড়ি হাসপাতালের বেডে শুয়ে তাঁর KYC সম্পন্ন করা হয় স্থানীয় যুবক কার্তিক সরেনের উদ্যোগে।
বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পেলেন ওই রোগী
গোটা ঘটনার খবর স্থানীয় বিধায়ক সুকান্ত দোলই ও রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের কাছে পৌঁছয়। তাঁদের সহায়তায় দ্রুত আয়ুষ্মান কার্ড অনুমোদন করানো হয় এবং ২২ আগস্ট আয়ুষ্মান কার্ডের মাধ্যমেই একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে তাঁর সফল অস্ত্রোপচার হয়। বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন এবং চিকিৎসকের পরামর্শে বাড়িতে বিছানায় শুয়ে বিশ্রামে রয়েছেন ওই আদিবাসী যুবক। এদিকে এমন কঠিন পরিস্থিতিতে আয়ুষ্মান কার্ডের মাধ্যমে যেভাবে বিনামূল্যে চিকিৎসা করার সুযোগ পেয়েছেন শ্রীনাথ, তাতে প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে গোটা পরিবার।
আরও পড়ুন: ‘মহাগুরু’ মিঠুন চক্রবর্তীর কাঁধে এবার নতুন দায়িত্ব, বিরাট ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
স্থানীয় বিধায়ক সুকান্ত দোলুই এর সঙ্গে এই ঘটনা প্রসঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “পশ্চিমবঙ্গের মানুষ দীর্ঘদিন এই প্রকল্প থেকে বঞ্চিত হয়েছে। আমাদের সরকার যথাসাধ্য চেষ্টা করছে মানুষের পাশে থাকার। এই ঘটনা তার উদাহরণ। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সমস্ত প্রসিডিউর শেষ করে ওঁর হাতে কার্ড তুলে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন। আগামী দিনেও এই পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিচ্ছি।”










