তারাপীঠে চুরি যাওয়া বাইক পুলিশের তৎপরতায় উদ্ধার হল কান্দিতে, গ্রেফতার অভিযুক্ত

Published:

tarapith

আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: বিপদে-আপদে সাধারণ মানুষের ভরসার অন্যতম জায়গা পুলিশ। কোনও সমস্যায় পড়লে সাধারণ মানুষ সাহায্যের আশায় সবার প্রথমেই পুলিশের দ্বারস্থ হন। আর সেই অভিযোগের ভিত্তিতে হারিয়ে যাওয়া সম্পত্তি উদ্ধার থেকে শুরু করে অপরাধীদের গ্রেফতার, একাধিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে পুলিশ। পুলিশের (Police) এমনই তৎপরতা ও দায়িত্ববোধের সাক্ষী মিলল বীরভূমের তারাপীঠে (Tarapith)। চুরি যাওয়া একটি মোটরবাইক (Bike) উদ্ধার করে অভিযোগকারীর হাতে ফিরিয়ে দিলেন তারাপীঠ থানার পুলিশ।

কবে, কীভাবে ঘটল এই ঘটনা?

ঘটনাটি গত মাসের ১২ অক্টোবরের। মুর্শিদাবাদ জেলার মল্লারপুর থানার অন্তর্গত ঘোষগ্রামের বাসিন্দা সাগর মণ্ডল কর্মসূত্রে তারাপীঠ মন্দির চত্বরে একটি ডালির দোকানে কাজ করেন। তাঁর অভিযোগ, ওই দিন সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে তারাপীঠ মন্দির সংলগ্ন পাণ্ডাপাড়ার একটি গলি থেকে তাঁর মোটরবাইকটি চুরি হয়ে যায়। এরপর বাইক চুরির সিসিটিভি ফুটেজ-সহ ১৪ অক্টোবর তারাপীঠ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্তে নামে পুলিশ। তারাপীঠ থানার ওসি অভিষেক ঘোষের নেতৃত্বে এবং এএসআই কিরণ মণ্ডলের তদন্তের ফলস্বরূপ ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে মল্লারপুরের ঘোষগ্রামের বাসিন্দা প্রসেনজিৎ দলুইকে।

দীর্ঘ তদন্তের পর চুরি যাওয়া মোটরবাইকটির সন্ধান পায় পুলিশ। গত ২ নভেম্বর রাতে মুর্শিদাবাদ জেলার কান্দি থানার অন্তর্গত চৈতন্যপুর থেকে বাইকটি উদ্ধার করে তারাপীঠ থানায় নিয়ে আসা হয়। আইনি প্রক্রিয়া মেনে বাইকটি মালিকের হাতে ফিরিয়ে দেন তদন্তকারী আধিকারিক এএসআই কিরণ মণ্ডল। পুলিশের এই পদক্ষেপে স্বাভাবিকভাবেই স্বস্তি ফিরেছে অভিযোগকারী সাগর মণ্ডলের ঘরে।

এ প্রসঙ্গে সাগর মণ্ডল জানান, “আমি সাগর মণ্ডল, পিতা সুনীল মণ্ডল, মল্লারপুর থানার অন্তর্গত ঘোষগ্রামের বাসিন্দা। কর্মসূত্রে তারাপীঠ মন্দির চত্বরে একটি ডালির দোকানে কাজ করি। গত ১২ অক্টোবর সকালে মন্দির সংলগ্ন পাণ্ডাপাড়ার গলি থেকে আমার মোটরবাইকটি চুরি হয়ে যায়। এরপর সিসিটিভি ফুটেজ-সহ তারাপীঠ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তারাপীঠ থানার ওসি অভিষেক ঘোষের নেতৃত্বে এএসআই কিরণ মণ্ডলের তদন্তকারী দল অভিযানে নামে। অভিযুক্তকে গ্রেফতারের পাশাপাশি গত ২ নভেম্বর রাতে মুর্শিদাবাদ জেলার কান্দি থানার চৈতন্যপুর থেকে আমার বাইকটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া মেনে বাইকটি ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তদন্তকারী আধিকারিক। এই গোটা ঘটনায় তারাপীঠ থানার ওসি এবং এএসআই কিরণ মণ্ডলের কাছে আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। তাঁদের অসংখ্য ধন্যবাদ ও আন্তরিক ভালোবাসা জানাই।”

আরও পড়ুন: কালিম্পংয়ে মেডিক্যাল কলেজ থেকে দার্জিলিংয়ে রোপওয়ে, উত্তরবঙ্গ থেকে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

সাধারণ মানুষের অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত তদন্তে নামা, চুরি যাওয়া বাইক উদ্ধার, অভিযোগকারীর হাতে অক্ষত অবস্থায় বাইকটি ফেরত দেওয়া এবং অভিযুক্তকে গ্রেফতার। এত অল্প সময়ের মধ্যে তারাপীঠ থানার পুলিশের এই অসাধারণ ভূমিকা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। বিশেষ করে ওসি অভিষেক ঘোষ এবং তদন্তকারী এএসআই কিরণ মণ্ডল-সহ অভিযানে যুক্ত পুলিশকর্মীদের তৎপরতা এখানে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। দায়িত্ববোধ, নিষ্ঠা এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই প্রচেষ্টাকে কুর্নিশ জানাতেই হয়। এমন উদ্যোগই পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় করে তোলে।

google button