🎓 মাধ্যমিক রেজাল্ট দেখতে ক্লিক করুন
Click Now

মমতার অনড় সিদ্ধান্তে বিড়ম্বনায় রাজ্য! এখন কার হাতে বাংলা?

Published:

West Bengal

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর নিবার্চনেই বয়ে গেল বিপুল ঝড়, মুহূর্তের মধ্যে রাজ্যের (West Bengal) তৃণমূলের ১৫ বছরের রাজত্ব ভেঙে চুরমার করে দিল গেরুয়া শিবির। তৃণমূলকে (Trinamool Congress) বিপুল ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবার বাংলার মসনদে বসতে চলেছে বিজেপি। আর এই ঐতিহাসিক জয়ের পর এখন পালা বাংলায় সরকার গড়ে তোলার। কিন্তু পরাজিত হয়েও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) রীতি মেনে এখনও মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করেনি। ফলে বাংলায় এক নজিরবিহীন এবং অভাবনীয় প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে। বাংলার জনগণের মুখে মুখে স্বাভাবিকভাবেই তাই প্রশ্ন উঠছে এখন বাংলার প্রশাসনিক প্রধান তবে কে?

অভাবনীয় প্রশাসনিক শূন্যতা বাংলায়

প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর‌ বিদায়ী শাসকদলের মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগ পত্র পেশ করেন। তখন রাজ্যপাল তাঁকেই পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী শপথ না নেওয়া পর্যন্ত কার্যনির্বাহী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করার অনুরোধ করেন। ‌তখন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর দল পুনরায় ক্ষমতাসীন হয়ে ওঠে যতদিন না নতুন মুখ্যমন্ত্রী দায়িত্ব লাভ করে। এই রীতিই ভারতের প্রতিটি রাজ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বামফ্রন্ট সরকার পতনের সময় বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যও এই নিয়ম পালন করেছিলেন। কিন্তু এবার সেই নিয়ম মানলেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যার জেরে মহা বিড়ম্বনায় রাজ্য।

পদত্যাগ করেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

গত মঙ্গলবার এক ‘বিস্ফোরক’ সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি এখনই পদত্যাগ করছেন না। তাঁর দাবি, এই নির্বাচনী ফলাফল ‘জনগণের রায় নয়, বরং এটি বিজেপি-কমিশনের সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র’। ফলস্বরূপ তিনি যেহেতু এখনও পদত্যাগ পত্র দেননি তাই রাজ্যপালের কার্যনির্বাহী মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের অনুরোধ করা দূরের বিষয়। এদিকে গতকাল, পশ্চিমবঙ্গের সপ্তদশ বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি। অর্থাৎ ইস্তফা না-দিলেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর মন্ত্রিসভা এখন ‘প্রাক্তন’। এখন প্রশ্ন বাংলার প্রশাসনিক প্রধান তবে কে হবে?

আরও পড়ুন: সংখ্যালঘুদের উন্নয়নের দায় নেই বিজেপির, ওরা আমাদের ভোট দেয়নিঃ দিলীপ ঘোষ

সাংবিধানিক রীতি অনুযায়ী, কেন্দ্রের যেমন সাংবিধানিক প্রধান রাষ্ট্রপতি ঠিক তেমনই রাজ্যেরও সাংবিধানিক প্রধান হয়ে থাকেন রাজ্যপাল। তাই সেক্ষেত্রে যদি কোনো কারণে সাংবিধানিক প্রধান তথা রাজ্যপালকে প্রশাসনিক প্রধানের দায়িত্ব পালন করতে হয় তাহলে রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে নির্দিষ্ট বিজ্ঞপ্তি জারি করতে হয়। আর তখনই নির্দেশ মারফত রাজ্যপাল প্রশাসনিক প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু রাষ্ট্রপতি ভবন এবং লোকভবন থেকে তেমন বিজ্ঞপ্তি জারির কোনও খবর পাওয়া যায়নি। তবুও আপাতভাবে ধরে নেওয়া হচ্ছে রাজ্যপাল এন রবি সেই দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে আগামীকাল, শনিবার, সকাল দশটায় ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে বিজেপির নেতৃত্বাধীন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এখন দেখার কে হবেন পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী।