অনন্যা সরকার, কলকাতা: দীর্ঘদিন ধরে এই দায়িত্ব ছিল স্থানীয় থানার কাঁধে। তবে এবার পাসপোর্টের আবেদনগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য লালবাজারের তরফে সিকিউরিটি কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন (SCO)-কে আবেদনকারীর নথি ও ঠিকানা যাচাইয়ের (Passport Verification) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হতে চলেছে এই ব্যবস্থা। তবে, ইতিমধ্যেই থানাগুলিতে পাসপোর্ট যাচাইয়ের জন্য যে আবেদনগুলি পড়ে রয়েছে, তার কাজ নভেম্বর মাসের মধ্যেই শেষ করতে বলা হয়েছে। কলকাতা পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ শুক্রবার সমস্ত থানাগুলিকে এই নির্দেশ দিয়েছেন। এই মুহূর্তে কলকাতা পুলিশের অধীনে প্রায় ৪২,০০০ পাসপোর্ট আবেদন জমে আছে।
স্থানীয় থানা আর করবে না পাসপোর্টের ভেরিফিকেশন
বর্তমানে, নথি যাচাইয়ের কাজটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের থানা এবং এসসিও-র মধ্যে ভাগ করা থাকে। তবে নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, আগামী মাস থেকে কলকাতা পুলিশের অধীনস্থ থানাগুলিকে আর পাসপোর্ট যাচাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হবে না। এখন তাদের কাজ হল জমে থাকা পাসপোর্ট আবেদনগুলির নিষ্পত্তি করা। নভেম্বরের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন করা নিশ্চিত করতে, থানার অফিসার ইনচার্জকে ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টির তত্ত্বাবধান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
লালাবাজরের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে যে, থানায় জমে থাকা পাসপোর্টের আবেদন যাচাইয়ের কাজের অগ্রগতির ওপর নজরদারি করবেন বিভাগীয় উপ-নগরপালেরা। এই বিষয়ে যাবতীয় তথ্য জানাতে পাসপোর্ট বিভাগের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত নগরপালের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। বিভাগীয় উপ-নগরপালেরা সাপ্তাহিক ভিত্তিতে পাসপোর্ট যাচাইয়ের অগ্রগতির রিপোর্ট পাঠাবেন লালবাজারে। এই রিপোর্টে উল্লেখ করা থাকবে সপ্তাহের শুরুতে নিষ্পত্তি হওয়া পাসপোর্ট ফাইলের সংখ্যা কত ছিল এবং সপ্তাহ শেষে কতগুলি ভেরিফিকেশন এখনও বাকি রয়েছে।
আরও পড়ুন: আরামবাগে রাতের অন্ধকারে গাড়ির ৪টি চাকাই খুলে চম্পট, প্রকাশ্যে সিসিটিভি ফুটেজ
উল্লেখ্য, গত দশ বছর ধরে পাসপোর্টের আবেদনপত্র যাচাই করার কাজ করে আসা স্থানীয় থানাগুলিকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রসঙ্গে লালবাজার জানিয়েছে যে, নতুন পাসপোর্টের আবেদন ও পুরোনো পাসপোর্ট রিনিউ করানোর সময় জমা দেওয়া বিভিন্ন নথির ফটোকপিগুলি যাচাইয়ের জন্য ওই নথি যে কর্তৃপক্ষ দিয়েছে, তার কাছে পাঠানো হয়। সেই রিপোর্ট আসতে সময় লাগে, এরফলে পাসপোর্ট যাচাইয়ে কাজে বিলম্ব হচ্ছে।
আরও পড়ুন: অলি পাবের জন্যই বিজেপির থেকে পেয়েছেন ২.৫০ লাখ? এবার মুখ খুললেন সায়ক
এছাড়াও, পুলিশ কর্মীরা আইন-শৃঙ্খলার কাজ এবং অপরাধের তদন্ত নিয়ে ব্যস্ত থাকায় অনেক ক্ষেত্রে তাদের পক্ষে পাসপোর্ট যাচাইয়ের কাজে মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হয় না। আর এই দুই কারণেই অমীমাংসিত পাসপোর্ট যাচাইয়ের সংখ্যা বেড়ে ৪২,০০০-এ পৌঁছেছে। এসসিও-কে এই কাজের সম্পূর্ন দায়িত্ব ন্যস্ত করায় পাসপোর্ট নথি যাচাই আরও দ্রুত হবে বলে আশা করছেন পুলিশ কর্মী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।










