সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের মদ সরবরাহ এবং বন্টন ব্যবস্থায় এবার বিরাট পরিবর্তন আনতে চলেছে রাজ্য সরকার (Government of West Bengal)। আগামী ২৫ জুন থেকেই কার্যকর হবে নতুন আবগারি শুল্ক সংগ্রহের নিয়ম। এমনিতেই আগামীকাল রাজ্যের প্রথম বাজেট। তার পরপরই নতুন নিয়ম অনুযায়ী এবার কোনও মদ প্রস্তুতকারী সংস্থা বা ব্রয়লিং প্ল্যান্ট থেকে পণ্য সরানোর আগেই সংশ্লিষ্ট আবগারি শুল্ক বা অতিরিক্ত আবগারি শুল্ক জমা দিতে হবে (Liquor Policy)। এতে রাজস্ব আদাইয়ে আরও স্বচ্ছতা ফিরবে বলেই দাবি সরকারের।
বদলে যাচ্ছে মদ সরবরাহের নিয়ম
এতদিন পর্যন্ত মদ সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছু নির্দিষ্ট বন্ড এবং পরবর্তী সময়ে শুল্ক পরিশোধের ব্যবস্থা চালু ছিল। কিন্তু নতুন নিয়মে সেই পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এখন থেকে মদ সরবরাহের আগে অগ্রিম আবগারি শুল্ক জমা করতে হবে। আর ডিস্ট্রিবিউটরদের ব্যক্তিগত লেদার অ্যাকাউন্ট থেকেই সরাসরি শুল্ক কাটা হবে। এমনকি পুরনো বন্ড ভ্যালু রেজিস্টার ব্যবস্থা বন্ধ করতে হবে বলে জানানো হয়েছে। সরকারের মতে, এতে শুল্কে বকেয়া থাকার সম্ভাবনা অনেকটাই কমবে এবং রাজ্যের রাজস্ব সংগ্রহ বাড়বে।
কী প্রভাব পড়বে?
এদিকে শুল্ক সংক্রান্ত নতুন ব্যবস্থা চালু হওয়ার আগে ডিস্ট্রিবিউটরদের জন্য একাধিক নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, ২১ জুন পর্যন্ত পুরনো নিয়ম অনুযায়ী নতুন সেল করা জমা দেওয়া যাবে। এরপর আর পুরনো পদ্ধতিতে আবেদন গ্রহণ করা হবে না। এছাড়া ২২ জুনের পর নতুন কোনও অর্ডার অফ সাপ্লাই ইস্যু করা হবে না। ইতিমধ্যেই দেওয়া অর্ডারগুলি ২০ জুন দুপুর দু’টোর মধ্যেই কার্যকর করতে হবে। সময়ের মধ্যে যদি না হয় তাহলে সেই অর্ডার বাতিল হবে।
আরও পড়ুন: CAA-তে আবেদন না করলে… মতুয়াদের সরকারি সুবিধা পাওয়া নিয়ে বড় বয়ান খাদ্যমন্ত্রীর
চলছে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক
এদিকে নতুন নিয়ম কার্যকর করার বিষয়ে শুক্রবার সল্টলেকের সদর দফতরে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে রাজ্যের আবগারি কমিশন, কর্পোরেশন ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং বিভিন্ন বিদেশী মদ এবং দেশি মদ ডিস্ট্রিবিউটররা উপস্থিত থাকেন। সেখানে নতুন ব্যবস্থার কার্যপ্রণালী নিয়ে আলোচনা করা হয়। সরকারের বক্তব্য, নতুন নিয়মের মূল লক্ষ্য হল আবগারি ব্যবস্থায় বাকি কমানো। প্রশাসনিক মহলের মতে, আগে অনেক ক্ষেত্রে ডিস্ট্রিবিউটররা বাজারে পণ্য সরবরাহ করে শুল্কের টাকা পরে জমা দিতেন। নতুন নিয়মে সেই সুবিধা আর থাকবে না। অর্থাৎ এবার ব্যবসায়ীদের আগে থেকেই অর্থ জমা দিয়ে তারপর পণ্য সরানোর অনুমতি নিতে হবে।










