শিয়ালদা ডিভিশনে আরও এসি লোকাল, কোন কোন রুটে ছুটবে?

Published:

AC Local Sealdah

সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ যত সময় এগোচ্ছে ততই শিয়ালদা বিভাগের যাত্রীদের চাহিদা বাড়ছে এসি লোকাল (AC Local) নিয়ে। বর্তমানে শিয়ালদা (Sealdah Division) থেকে বেশ কিছু রুটে এসি লোকাল ট্রেন চলছে। আর এই ট্রেনগুলি প্রতিদিনই নিত্য নতুন রেকর্ড গড়ছে যাত্রী নিরিখে। এহেন পরিস্থিতিতে এবার বড় সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে পূর্ব রেল বলে খবর। বাড়তে পারে এসি রেকের সংখ্যা। হ্যাঁ একদম ঠিক শুনেছেন।

শিয়ালদা বিভাগে বাড়ছে এসি লোকাল?

আপনিও কি রোজ শিয়ালদা থেকে এসি লোকাল ট্রেনে করে যাতায়াত করেন? তাহলে আপনার জন্য রইল আজকের এই খবরটি। এমনিতে দিনে দিনে শিয়ালদা বিভাগে যাত্রী সংখ্যা বাড়ছে। সেক্ষেত্রে ট্রেনের দাবিও জোরালো হচ্ছে। সাধারণ লোকাল, এসি লোকাল, মেল এক্সপ্রেস ট্রেনের চাহিদা বাড়ছে। এদিকে গত এক বছরে এসি লোকাল চালিয়ে ভালোই লক্ষ্মীলাভ হয়েছে পূর্ব রেলের। আর এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এক্ষণ পূর্ব রেলের (Eastern Railway Zone) তরফে পাঁচটি এসি রেক চেয়ে পাঠানো হয়েছে।

কোন কোন রুটে ছুটবে নতুন রেকগুলি?

এখন প্রশ্ন উঠতেই পারে, কোন কোন রুটে এই এসি রেকগুলি থাকবে? সূত্রের খবর, বর্তমানে শিয়ালদহ-রানাঘাট, শিয়ালদহ-কৃষ্ণনগর, রানাঘাট-বনগাঁ-শিয়ালদহ এবং কল্যাণী-শিয়ালদহ রুটে এসি লোকাল চলছে। জুনে ২৬ দিনের হিসাবে রানাঘাট-বনগাঁ-শিয়ালদহ রুটে সর্বাধিক ৮১,৩৩২ জন যাত্রী সফর করেছেন, রেলের আয় ৬২.৩৬ লক্ষ টাকা। শিয়ালদহ-রানাঘাট রুটে যাত্রী ৮০,৪০৮ জন, আয় ৬১.৩৮ লক্ষ টাকা। শিয়ালদহ-কৃষ্ণনগর রুটে যাত্রী ৬১,৭৯৭ জন এবং আয় ৪৮ লক্ষের বেশি। কল্যাণী-শিয়ালদহ রুটে যাত্রী ৪৯,২৯৪ জন, আয় প্রায় ৩৭.৫৯ লক্ষ টাকা।

আরও পড়ুনঃ ১০ আগস্ট কলকাতায় বন্ধ একাধিক রাস্তা, তালিকা দিল পুলিশ

বর্তমানে এসি লোকালের ভাড়া ৩৫ থেকে ১৪০ টাকা। রেলের দাবি, পরিষেবা চালুর পর চাহিদা গড়ে ৮০ থেকে ১৩০ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করছে।বর্তমানে শিয়ালদহ-দক্ষিণ ও শিয়ালদহ-ডানকুনি শাখায় এসি লোকাল নেই। হাওড়া ডিভিশনেও হাওড়া-ব্যান্ডেল ও হাওড়া-বর্ধমান রুটে এসি লোকাল চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।

বড় বার্তা পূর্ব রেলের

সূত্রের খবর, পূর্ব রেলওয়ের অন্যতম বৃহত্তম স্টেশন শিয়ালদহ স্টেশনে ২০২৬ সালে দৈনিক যাত্রীর সংখ্যা দশ লক্ষ ছাড়িয়ে গেছে। এই রিজিওনে রেল পরিষেবা ব্যবহারকারী যাত্রীদের জন্য শিয়ালদহ ডিভিশন ৬৮টি নতুন প্যাসেঞ্জার ট্রেন এবং ৬১৩টি ইএমইউ যুক্ত করার ফলেই এটি সম্ভব হয়েছে। শিয়ালদহ বিভাগের বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার রাজীব সাক্সেনা সম্প্রতি জানিয়েছেন, “শিয়ালদহ বিভাগে আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো, স্টেশনে পৌঁছানোর মুহূর্ত থেকে শুরু করে গন্তব্যে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রত্যেক যাত্রী যেন নিজেকে মূল্যবান মনে করেন, তা নিশ্চিত করা। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত লোকাল ট্রেনের মাধ্যমে প্রতিদিনের শহরতলির যাতায়াত সহজ করা হোক, অমৃত ভারত প্রকল্পের অধীনে পরিকাঠামোর উন্নয়ন হোক, কিংবা সেন্ট্রাল গেটের মতো বিশেষ গেটের মাধ্যমে ঝামেলামুক্ত প্রবেশ নিশ্চিত করা হোক আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপই যাত্রীদের আরাম, নিরাপত্তা এবং আধুনিক সুবিধার কথা মাথায় রেখে নেওয়া হয়।”