সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: মালদহের আদিনা মসজিদ (Adina Mosque) নিয়ে নতুন করে বিতর্ক। প্রায় সাড়ে ৬০০ বছরের পুরনো এই মসজিদকে নিয়ে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বিজেপির একাংশের দাবি, এখানে নাকি এক সময় আদিনাথ মন্দির ছিল। সেই কারণে বাইরে শিব পূজার আয়োজন করা হয়েছে। এমনকি মসজিদের ৫০ মিটারের মধ্যেই শিবলিঙ্গ স্থাপিত হতে চলেছে বলেই খবর। এই বিষয়টি নিয়ে গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এমনকি উত্তেজনামূলক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে এই আশঙ্কায় সক্রিয় হয়েছে পুলিশ।
মালদার আদিনা মসজিদ নিয়ে বিতর্ক
জানিয়ে রাখি, মালদহের পান্ডুয়ায় অবস্থিত এই আদিনা মসজিদটি ১৩৭৩ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত। অর্থাৎ বলতে গেলে ৬৫০ বছরের পুরনো এই মসজিদ। তৎকালীন সময়ে বাংলার সুলতান সিকান্দার শাহ এই মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন বলেই উল্লেখ রয়েছে বেশ কিছু নথিতে। এমনকি বাংলার পাশাপাশি গোটা উপমহাদেশের সবথেকে বড় মসজিদ ছিল এটি এমনটাই দাবি। কিন্তু হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের দাবি, ওই এলাকাই আগে আদিনাথ মন্দির ছিল, এবং সেটিকে ধ্বংস করেই মসজিদ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। এমনকি ভিতরে হিন্দু দেব-দেবীর কারুকার্য রয়েছে বলেও দাবি তাদের। পাশাপাশি এ নিয়ে হাইকোর্টে মামলাও চলছে। এখান থেকেই শুরু হয় বিতর্ক।
ওই সংগঠনের বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী ২৭ জুলাই সোমবার ওই মসজিদ সংলগ্ন ৫০ মিটারের মধ্যেই আদিনাথ অর্থাৎ শিবলিঙ্গের রুদ্রাভিষেক করা হবে। এমনকি বাইরে পূজা-অর্চনার আয়োজনও করা হয়েছে। তবে আদিনা মসজিদকে ঐতিহাসিক স্মৃতি সৌধ হিসেবে উল্লেখ করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক এএসআই আধিকারিক জানিয়েছেন, সংগঠকদের সঙ্গে বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। সংরক্ষিত এই স্মৃতিসৌধের ভিতরে কোনও ভাবেই ধর্মীয় কার্যকলাপ বা পূজা করতে দেওয়া হবে না। পাশাপাশি পুলিশি নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: কলকাতায় সাংবাদিক নিগ্রহে গ্রেফতার ১৪, রয়েছে তৃণমূল যোগ, ‘কেউই পড়ুয়া নয়’ দাবি পুলিশের
যদিও এ বিষয়ে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের উদ্যোক্তা কাজল গোস্বামী জানান, “এই স্থাপত্যে আদিনাথ শিবমূর্তির নিদর্শন রয়েছে। স্থাপত্যের বিভিন্ন কারুকার্যে তার প্রমাণ পাওয়া যায়। হিন্দু দেবদেবীর ছবি ফুটে উঠেছে। এটি পুরনো শিব মন্দির। দুনিয়ার কোনও মসজিদে দেবতার মূর্তি পাওয়া যায় না। আদিনাথে পাওয়া গিয়েছে। এমনটা হতে পারে যে এখানে ভুল ইতিহাস তুলে ধরা হচ্ছে। আমাদের মূল লক্ষ্য আদিনাথ মন্দির পুনরুদ্ধার করা এবং সেখানে শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করা। সেই কারণে তারকেশ্বর থেকে প্রায় ৩.৬ ফুট উচ্চতার এবং দেড় টন ওজনের একটি শিবলিঙ্গ নিয়ে আসা হচ্ছে। কিন্তু আইন মেনেই সমস্ত কর্মসূচি চালানো হবে।”










