কালীপুজোর আগেই জেলমুক্তি? সুজিত বসু মামলায় ইডিকে নোটিশ সুপ্রিম কোর্টের

Published:

sujit-bose

আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: পুরনিয়োগ দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে অভিযুক্ত রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু। তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের দাবি, দক্ষিণ দমদম পুরসভায় নিয়োগের ক্ষেত্রে একাধিক চাকরিপ্রার্থীর নাম সুপারিশ করেছিলেন সুজিত। অভিযোগ, সেই নিয়োগের পিছনে আর্থিক লেনদেনও হয়েছিল। পাশাপাশি তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যুক্ত একাধিক আর্থিক লেনদেনের বিষয়েও তদন্ত চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। এই মামলাতেই এবার সুজিত বসুর (Sujit Bose) জামিনের আবেদনের প্রেক্ষিতে ইডিকে (Enforcement Directorate) নোটিস পাঠাল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)।

কী বলছে সুপ্রিম কোর্ট?

দক্ষিণ দমদম পুরসভার নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তদন্ত শুরু হওয়ার পর থেকেই সুজিত বসুর নাম রাজনৈতিক আলোচনায় বিশেষভাবে উঠে আসে। এই মামলায় মূলত পুরসভাগুলিতে বেআইনি নিয়োগ এবং সেই নিয়োগের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থা। ইডির দাবি, সুজিত বসুর সুপারিশে প্রায় ১৫০ জনের চাকরি হয়েছিল। অন্যদিকে, তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপের অভিযোগও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

কলকাতা হাই কোর্টেও সুজিত বসুর জামিনের আবেদন নিয়ে দীর্ঘ শুনানি হয়েছিল। গত ১৩ অক্টোবর বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বেঞ্চ তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়। শুনানিতে ইডির তরফে জানানো হয়েছিল, সুজিত ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে প্রায় ৪৫টি স্থাবর সম্পত্তির হদিশ মিলেছে। সেগুলির মূল্য নির্ধারণের কাজও চলছিল। তদন্তকারী সংস্থার আরও দাবি ছিল, এই মামলায় প্রায় ২০.৪০ কোটি টাকার অপরাধলব্ধ অর্থের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। এর আগে ১২ মে গ্রেপ্তারের পর কলকাতার ব্যাঙ্কশাল আদালত তাঁকে ১০ দিনের ইডি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছিল।

হাই কোর্টে জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার পর সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন সুজিত বসু। মঙ্গলবার বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি প্রসন্ন বি ভাড়ালের বেঞ্চে তাঁর জামিনের আবেদন নিয়ে শুনানি হয়। সেখানেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটকে (ED) নোটিস পাঠিয়ে তাদের বক্তব্য জানতে চেয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। অর্থাৎ, জামিনের আবেদনে এবার ইডির জবাবের অপেক্ষা।

আরও পড়ুন: শেয়ারবাজারের লম্ফনেই হল কাজ, ডলারের বিপরীতে দাম বেড়ে গেল ভারতীয় রুপির

এখন সুপ্রিম কোর্টে পরবর্তী শুনানিতে ইডি কী বক্তব্য জানায়, সেদিকেই নজর জনগণের। নোটিস জারি হওয়া মানেই সুজিত বসুর জামিন নিশ্চিত! এমনটা কিন্তু নয়। আদালত তাঁর আবেদন নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই এখন দেখার। কালীপুজোর আগে আদৌ তিনি জেল থেকে মুক্তি পান কি না, সেই প্রশ্নই ঘুরছে রাজনৈতিক মহলে।

google button