৪ হাজার কোটির স্টিল প্ল্যান্ট থেকে JICA-র জল প্রকল্প, পুরুলিয়াকে বড় উপহার মুখ্যমন্ত্রীর

Published:

Suvendu Adhikari

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্যের উন্নত শিল্প ব্যবস্থায় আরও এক বড় পদক্ষেপ নিল বিজেপি সরকার, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আজ পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরে (Raghunathpur) ৪ হাজার কোটি টাকার বিশাল গ্রিনফিল্ড ইন্টিগ্রেটেড স্টিল প্ল্যান্টের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শুধু তাই নয় পানীয় জলের সমস্যা মেটাতে বহু প্রতীক্ষিত জাইকার পানীয় জল (Japan International Cooperation Agency) সরবরাহের কর্মসূচিরও উদ্বোধন করলেন তিনি। বরাবর পূর্বতন সরকারের আমলে শিল্প নিয়ে কাটমানি, তোলাবাজি এবং সিন্ডিকেট রাজের ভুরিভুরি অভিযোগ উঠে এসেছিল। এর জেরে অনেকেই শিল্প ভিন রাজ্যে নিয়ে যায় কিন্তু রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার ভিন্ন রূপ নিল শিল্প ব্যবস্থা।

শিল্প কারখানার ভূমিপুজো করলেন শুভেন্দু

রিপোর্ট অনুযায়ী, আজ, ১৭ আগস্ট, মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরের দুরমুটে ‘অমিত মেটালিকস’-এর গ্রিনফিল্ড ইন্টিগ্রেটেড স্টিল প্রজক্টের নির্মাণকাজের ভূমিপুজো করলেন। এ দিনই মানবাজার ১ ব্লকে পৃথক একটি অনুষ্ঠান থেকে ‘JICA’–র জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সির পানীয় জল সরবরাহ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা করলেন তিনি। জানা গিয়েছে, রঘুনাথপুরের দুরমুট গ্রামে অমিত মেটালিকস লিমিটেডের ৪ হাজার কোটি টাকার বিশাল গ্রিনফিল্ড ইন্টিগ্রেটেড স্টিল প্ল্যান্টের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এর ফলে এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা রাখছে শিল্পমহল।

JICA-র পানীয় জল প্রকল্পের সূচনা

‘অমিত মেটালিকস’ সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রকল্পটি পশ্চিমবঙ্গের প্রতি তাঁদের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতির ফসল। তাঁদের আশ্বাস এই বিনিয়োগের ফলে প্রায় পাঁচ হাজার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। ১৫১ একর জমির উপরে ক্যাপটিভ পাওয়ার প্লান্ট, ফেরো অ্যালয় এবং স্পঞ্জ আয়রন কারখানা মিলিয়ে বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ১.২ মিলিয়ন টন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। অন্যদিকে বিগত কয়েক বছর ধরে পুরুলিয়ার মানবাজার ১, বরাবাজার, পুরুলিয়া ১, পুঞ্চা, আড়শা ব্লকে পানীয় জলের তীব্র সঙ্কট ছিল, এবার সেই সমস্যা দুর হতে চলেছে। কারণ মানবাজারে আজ JICA-র সহায়তায় পানীয় জল প্রকল্পের সূচনা করলেন শুভেন্দু অধিকারী।

আরও পড়ুন: আয়ুষ্মান ভারত চালু হতেই প্রথম সুবিধা পেলেন বাঁকুড়ার শুভদীপ, টুইট মুখ্যমন্ত্রীর

জানা গিয়েছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সির মাধ্যমে এই জল প্রকল্পের মাধ্যমে ৪৫৮ মৌজার ৮ লক্ষ ১৩ হাজার ৪০৬ জন মানুষ প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা নলবাহিত পানীয় জল পাবেন। বাঁকুড়ার মুকুটমনিপুর বাঁধের জলাধার হবে এই জলের উৎস। ৩০০ কিমি পাইপলাইনের মাধ্যমে জল সরবরাহ হবে। দীর্ঘদিন এই এলাকায় নলকূপ ও নদীর তলদেশ থেকে নলের মাধ্যমে পানীয় জল সংগ্রহের ব্যবস্থা থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট ছিল না। বিশেষত গ্রীষ্মকালে জলস্তর প্রায় ৪০ ফুট নেমে যেত, তবে আশা করা যাচ্ছে এবার সেই সমস্যা পুরোপুরি মিটবে।