কমতে পারে সরকারি কর্মীদের ছুটি, তালিকায় কাটছাঁট করতে অর্থসচিবকে চিঠি মুখ্যমন্ত্রীর

Published:

Suvendu Adhikari

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: আগের সরকারের আমলে সরকারি কর্মচারীদের ছুটির তালিকা দিনের পর দিন দীর্ঘ করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সেই ছুটিতে এবার কাটছাঁট করতে চাইছে শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) সরকার। কর্মচারীদের সরকারি ছুটির সংখ্যা এবার ৪০-এ নামিয়ে আনা হবে বলেই নবান্ন থেকে গতকাল জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। চলতি বছরেই ছুটির সংখ্যা ৫০। তবে সরকারি কাজে গতি ফেরাতে এবার সেই ছুটি আরও কমাতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী।

সরকারি কর্মচারীদের ছুটি ৪০-এ আনছে রাজ্য সরকার

অর্থসচিবকে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ, ছুটির তালিকায় কাটছাঁট করে বছরে ৪০-এ নামিয়ে আনতে হবে। গতকাল রাত পৌনে দশটা নাগাদ সাংবাদিকদের সঙ্গে নবান্নে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, “রাজ্যে কর্মসংস্কৃতি ফেরাতেই কি ছুটি কমানোর এই চিন্তাভাবনা?” জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “হ্যাঁ, তো। কাজের সংস্কৃতি ফেরাতে হবে। নইলে কাজ কীভাবে এগোবে? অনেক কাজ করতে হবে। অনেক কাজ বকেয়া পড়ে রয়েছে। আমি অর্থ সচিবকে ডেকে বলেছিলাম কমাতে হবে। উনি ৪৫ দিনের একটি তালিকা দিয়েছেন। বলেছি ওটা আরও কমিয়ে ৪০ করতে।”

বলাবাহুল্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল সরকারের আমলে রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের ছুটির তালিকা একের পর এক বাড়ানো হয়েছিল। বিভিন্ন মনীষীদের জন্ম ও মৃত্যুর দিনে ছুটির পাশাপাশি একাধিক ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে ছুটির ঘোষণা করা হয় তৃণমূল সরকারের আমলে। এমনকি জামাইষষ্ঠীতে পর্যন্ত হাফ ছুটি দেওয়া হয়েছিল। তবে পালাবদলের পর সেই সব ছুটির তালিকা কমাতে চাইছেন শুভেন্দু।

আরও পড়ুন: ধনতেরাসের আগে ফের বদলে গেল সোনা, রুপোর দাম! আজকের রেট

এমনকি ছুটির প্রসঙ্গের পাশাপাশি রাজস্ব আদায় নিয়েও আগের সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেছেন, আগের সরকারের আমলে গোটা অর্থবছরে যে পরিমাণ রাজস্ব আদায় হত, নতুন সরকার প্রথম ছয় মাসেই তার থেকে ৪০০০ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায় করেছে। এর জন্য অতিরিক্ত কর বসাতে হয়নি। তৃণমূল সরকারের আমলে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব লুট হয়েছে এবং তা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্রয়ে হয়েছে বলেই দাবি শুভেন্দুর। পাশাপাশি বাড়তি আয় কোন কোন ক্ষেত্র থেকে এসেছে বা কোন আর্থিক বছরের সঙ্গে তুলনা টানা হয়েছে, সেই বিষয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি।

google button