১ সেপ্টেম্বর থেকে সমস্ত সরকারি কাজে বাংলা ভাষা বাধ্যতামূলক, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

Published:

Suvendu Adhikari

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বাংলা ভাষার গুরুত্ব আরও বাড়াতে এবার বড় সিদ্ধান্ত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের সর্বস্তরে সরকারি ক্ষেত্রে বাংলা ভাষা বাধ্যতামূলক বলেই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী। বিধানসভায় নিজেই আজ এ ঘোষণা করেছেন তিনি। এমনকি চিঠিপত্র থেকে বিজ্ঞপ্তি, সমস্ত ক্ষেত্রেই বাংলা ভাষাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে প্রয়োজনে বাংলার পাশাপাশি হিন্দি ভাষা ব্যবহার করা যাবে বলে জানানো হয়েছে।

সরকারি কাজে বাংলা ভাষা বাধ্যতামূলক

প্রসঙ্গত, গতকালই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কলকাতার জাতীয় গ্রন্থাগারে ভারতের প্রথম শব্দ সংগ্রহশালা উদ্বোধন করেন। সেখানে বাংলা ভাষার পাশাপাশি আরও মোট ২২টি ভাষার বিবর্তনকে তুলে ধরা হবে বলেই জানান তিনি। মাতৃভাষাকে যাতে কোনও সময় মানুষ ভুলে না যায় সেই বার্তাই শোনা গিয়েছিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গলায়। তিনি বলেছিলেন, “এই শব্দ সংগ্রহশালা বাংলার তথা কলকাতার মুকুটে এক নয়া পালক। এখানে ২২টি ভাষার বিবর্তন তুলে ধরা হবে। ভাষার মাধ্যমেই কোনও দেশের সংস্কৃতিকে বোঝা যায়, এবং তা ঐতিহ্য বহন করে থাকে। এই জাদুঘর আমাদের সেটাই শেখাবে।”

এমনকি সরকার গঠন করেই বাংলা ভাষার প্রসার বাড়ানোর জন্য উদ্যোগী হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সাফ জানিয়েছিলেন, সরকারের সমস্ত ধরনের যোগাযোগে বাংলা ভাষাকেই প্রাধান্য দিতে হবে। আর গতকাল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথা মতোই আজ বিধানসভায় সর্বস্তরে বাংলা ভাষার অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। এমনকি এ বিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রত্যেকটি দফতরকে পাঠানো হয়েছে। সরকারের দাবি, মাতৃভাষার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করলে সাধারণ মানুষের কাছে পরিষেবা পৌছনো আরও সহজ মনে হবে।

আরও পড়ুন: অভিষেককে ‘ক্রিমিনাল’ আখ্যা মদনের! ফেসবুক লাইভে বিস্ফোরক কামারহাটির বিধায়ক

এমনকি এদিন বিধানসভায় স্পিকার রথীন্দ্র বোস নিজেই জানান, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিধানসভার সমস্ত কাজ বাংলা ভাষাতেই করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। আর মুখ্যমন্ত্রী সেই প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়েছেন, এবং বিধানসভার কাজকর্ম বাংলা ভাষাতেই শুরু হয়েছে। তবে নতুন এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে প্রশাসনিক মহল থেকে শুরু করে অন্যান্য কাজে বাংলা ভাষার ব্যবহার আরও বাড়বে।