অনন্যা সরকার, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের মহিলাদের আর্থিক নিরাপত্তা দান এবং মাসিক নগদ সহায়তার মাধ্যমে তাঁদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলার লক্ষ্যে অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) সূচনা করে রাজ্য সরকার। পূর্বতন সরকারের আমলে দেওয়া ১,৫০০ টাকার লক্ষ্মী ভান্ডারের সহায়তার বদলে নবগঠিত সরকার প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকার করে যোগ্য মহিলাদের দেওয়া শুরু করে। রাজ্যের অনেক মহিলাই অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর হয়েছেন এই প্রকল্পের মাধ্যমে। তবে এই প্রকল্প সমস্যার ফেলেছে এক স্বামীকে। সম্প্রতি একটি ভিডিও সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল (Viral Video) হয়েছে, যেখানে এক ব্যক্তিকে অভিযোগের সুরে বলতে দেখা গেছে যে, সরকারি ভাতার জন্য তাঁর স্ত্রী তাঁকে স্বামী বলে সম্মান করেছেন না। এই নিয়ে নেটপাড়ায় শুরু হয়েছে তুমুল চর্চা।
অন্নপূর্ণা যোজনা বন্ধ করার দাবি ক্ষুব্ধ স্বামীর
ওই ভিডিওটিতে দেখা গেছে, একটি ভিড়ে ঠাসার ট্রেনের একটি ছোট ঝলক। যেখানে এক ব্যাক্তি অপর এক ব্যক্তিকে অন্নপূর্ণা যোজনা টাকা দেওয়ার পর তার স্ত্রীয়ের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন করতে দেখা যায়। সেই প্রশ্নের উত্তরে ওই ক্ষুব্ধ ব্যক্তি জানান। প্রকল্পের ৩,০০০ টাকা পাওয়ার পর তাঁর স্ত্রী আর তাঁকে চিনছেনই না! স্বামী বলে তাঁকে গ্রহণ করছেন না তাঁকে। অন্নপূর্ণা যোজনা চালু হওয়ার পর স্বামীর সম্মান পাচ্ছেন না তিনি।
তিনি ভিডিওতে সরকারের কাছে দাবি জানান যেন অবিলম্বে সব রকম ভাতা বন্ধ করা হয়। এতে নাগরিকদের ক্ষতিই হচ্ছে। এর বদলে শিল্প, চাকরি আসুক। মানুষ কর্মসংস্থান পেলে তাঁরা খেটে রোজগার করবেন। সরকারি অর্থের আর দরকারও হবে না। এর পাশাপাশি তিনি জানান যে, আগে যখন লক্ষ্মীর ভান্ডারের ১,৫০০ টাকা পেতেন, তখন তাঁর স্ত্রী তাঁকে সম্মান করতেন, এখন আর তাঁকে স্বামী বলে গ্রহণই করছেন না।
আর পড়ুন: ট্রেনে করে মদ পাচার করছিলেন এই সুন্দরী তরুণী! যা করল রেল পুলিশ
এই ভিডিওতে ওই ব্যক্তির বক্তব্য নিয়ে নেট নাগরিকদের মধ্যে চর্চা শুরু হয়েছে। অনেকে এই ঘটনাটি নিয়ে নানা ব্যাঙ্গাত্মক মন্তব্য ছুঁড়ে দিয়েছেন। আবার কিছু নেটিজেন ওই ব্যক্তির ভাতার বদলে কর্মসংস্থানের মন্তব্যকে সমর্থনও জানিয়েছেন। অনেকে মনে করছেন এভাবে সরকারি সাহায্য মানুষের মধ্যে কর্মের ইচ্ছা কমিয়ে দিচ্ছে। ভিডিওটি আবারও ভাতা বনাম কর্মসংস্থানের বিতর্কটি উস্কে দিয়েছে।










