আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: বয়স হয়েছে ৬৮। সরকারি নিয়মে অবসর নিয়েছেন আজ থেকে আট বছর আগেই। কিন্তু শিক্ষকতা থেকে অবসর নেওয়ার কথা কখনোই ভাবেননি পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকের (Tamluk) তৃপ্তি। একসময় স্কুলের প্রধানশিক্ষিকা হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। অবসর নেওয়ার পর এখন সেই পদ নেই, বেতনও নেই। তবু এতোটুকু অনীহা না দেখিয়ে প্রতিদিন নিয়ম করে স্কুলে যান, পরম স্নেহে পড়ান ছাত্রছাত্রীদের। বয়স যতই বাড়ুক, যতদিন শরীর সঙ্গ দেবে ততদিন নিজের প্রিয় কাজটি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই শিক্ষিকা।
অবসরের পরের দিনই ফিরেছিলেন স্কুলে
২০১৮ সালে শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের খোস্টিকারী প্রাথমিক স্কুল থেকে অবসর নেন তৃপ্তি। বিদায় অনুষ্ঠানের দিনই সহকর্মী ও পড়ুয়াদের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি জানিয়েছিলেন, অবসর নেওয়া মানেই তাঁর কাছে শিক্ষকতা শেষ হয়ে যাওয়া নয়। সেই কথা আজও অক্ষরে অক্ষরে পালন করে চলেছেন বৃদ্ধা শিক্ষিকা। অবসরের পরের দিন সকালেই সবাইকে চমকে দিয়ে ফের স্কুলে হাজির হন সদ্য প্রাক্তন প্রধানশিক্ষিকা। তারপর থেকে নিয়ম করে স্কুলে যাতায়াত চলছে তাঁর।
৩৯ বছরের চাকরি জীবন, ছুটি মাত্র ১১ দিন!
তৃপ্তি শিক্ষকতাকে কতটা ভালোবাসতেন সেটার আরও একটি দিক সামনে আসে তাঁর কর্মজীবনে ছুটি নেওয়ার সংখ্যা থেকে। প্রায় ৩৯ বছর শিক্ষকতা করেছেন তিনি। সহকর্মীদের দাবি, এত দীর্ঘ সময়ে তাঁর ছুটি নেওয়ার সংখ্যা মাত্র ১১ দিন। অবসরের পরেও সেই একই নিষ্ঠা ধরে রেখেছেন। প্রতিদিন বাড়ি থেকে স্কুলে এসে পড়ানো, পড়ুয়াদের খাতা দেখা-সহ বিভিন্ন কাজে যুক্ত থাকেন তিনি। এর জন্য কোনও বেতনও নেন না।
আরও পড়ুন: ৫ মাসের ভাড়া বকেয়া, অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ
তমলুকের বারকোষখানা গ্রামে তৃপ্তির বাড়ি। স্কুল থেকে খুব দূরে নয়। সকাল হলেই স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেন তিনি এবং সাড়ে ১০টার আশপাশে পৌঁছে যান। স্কুলের তরফে তাঁকে সাম্মানিক দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। বরং জানিয়েছেন, যতদিন নিজে সুস্থ থেকে স্কুলে আসতে পারবেন, ততদিন পড়িয়ে যেতে চান। অবসরের বয়স তাঁর কাছে শিক্ষকতার শেষ নয়, ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে থাকার ইচ্ছেটাই তাঁর কাছে বড় জীবনশক্তি।









