গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তি নিয়ে বিহার সরকারের আপত্তি, বাংলাদেশকে ঝটকা দিতে পারে ভারত

Published:

Ganges water dispute

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: আগামী ১২ ডিসেম্বর শেষ হতে চলেছে ভারত ও বাংলাদেশের গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তি (Ganges Water Dispute)। এমনকি চুক্তিটির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণাও হয়নি বলে খবর। তবে এই ইস্যুতে বিহারের অবস্থান নিয়ে চিন্তা বাড়ল ওপার বাংলার। সম্প্রতি রাজ্যটির জনতা দল ইউনাইটেডের জাতীয় কার্যনির্বাহী সভাপতি তথা জলসম্পদ মন্ত্রী সঞ্জয় কুমার ঝাঁ গঙ্গা জলচুক্তির মেয়াদ না বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। পাল্টা কী বক্তব্য তারেক সরকারের?

গঙ্গা জলচুক্তি নিয়ে আপত্তি বিহার সরকারের

গত ২১ আগস্ট সঞ্জয় ঝাঁ দিল্লিতে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন, বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর এবং উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয় কুমার চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন, আর সেখানে এই বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। এ বিষয়ে বিদেশমন্ত্রী সঞ্জয় ঝাঁকে চিঠি দিয়ে জানান, সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিহারের জলের চাহিদা বিবেচনা করা হবে, এবং কেন্দ্রীয় সরকার সমস্ত প্রয়োজনীয় বিষয় বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেবে। জয়শঙ্কর আরও জানান, জলশক্তি মন্ত্রকের আওতায় বিহারের পানীয় জল এবং শিল্প চাহিদা যথাযথভাবে বিবেচনা করা হবে।

তবে ভারত সরকারের তরফ থেকে যদি এই জলচুক্তি রিনিউ না করা হয়, তাহলে বাংলাদেশ যে বিপাকে পড়বে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। যদিও ১৯৯৬ সালের চুক্তিটি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত হওয়ার সময় বিহার কখনোই তার পক্ষে ছিল না। সঞ্জয় ঝাঁ জানিয়েছেন, চুক্তি অনুযায়ী মরশুমে ফারাক্কায় আনুমানিক ১৫০০ কিউসেক জলের প্রবাহ থাকা প্রয়োজন। কিন্তু বাংলাদেশের সাথে এই চুক্তির জেরেই বিহারে পৌঁছয় মাত্র ৪০০ কিউসেক জল। বিহারের জলের চাহিদার আনুমানিক ৭৩ শতাংশ বাংলাদেশে চলে যায়।

আরও পড়ুন: এ যেন রাঘববোয়াল! মৎস্যজীবীর জালে ধরা পড়ল পেল্লাই সাইজের ইলিশ, দাম কত জানেন?

যদিও ২০১৬ সালে নীতীশ কুমার এ বিষয়ে জানিয়েছিলেন, শুষ্ক মরশুমে গঙ্গায় প্রবাহিত জলের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ বিহারের নিজস্ব নদীগুলি থেকেই আসে। অথচ রাজ্যের পশ্চিম সীমান্তে পৌঁছয় মাত্র ৪০০ কিউসেক জল। বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই উদ্বেগের বিষয়টি কেন্দ্রীয় সরকারের ভাবা উচিত। ঝাড়খণ্ড এবং গঙ্গা অববাহিকার অন্যান্য রাজ্যগুলির ক্ষেত্রে উদ্বেগ কাজ করলেও বিহার জোরালোভাবেই তা দাবি করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। তাই গঙ্গা জলচুক্তি নিয়ে যে বাংলাদেশের চিন্তা আরও বাড়ল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে সব সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে কেন্দ্রের উপরেই।