সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। তবে তার আগে রাজ্যে একের পর এক অভিযান চালাচ্ছে ইডি (Enforcement Directorate)। কসবার ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ পোদ্দার অরফে সোনা পাপ্পু কাণ্ডে (Sona Pappu) এবার বিরাট সাফল্য পেল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। রবিবার দিনভর অভিযানের পর বেহালার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে পাপ্পু ঘনিষ্ঠ প্রোমোটার জয় কামদারকে (Joy Kamdar)। ইডি সূত্রে খবর, জয়ের হাত ধরেই কয়েক হাজার কোটি টাকা সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে। এমনকি হাসপাতালের বেডে শুয়েও চলছে জিজ্ঞাসাবাদ।
ভুয়ো সংস্থার আড়ালে হাজার কোটি টাকার কারবার
ইডি সূত্রে খবর, জয় কামদারকে ডিজিটাল ডিভাইস পরীক্ষা করে একাধিক ভুয়ো বা সেল কোম্পানির হদিশ পাওয়া গেছে। আদালতে পেশ করা তথ্যে ইডি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, এই ভুয়ো সংস্থার মাধ্যমেই ১১০০ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। এমনকি ক্যালকাটা গুজরাটি এডুকেশন সোসাইটি সংস্থার নাম ব্যবহার করে আরও ৪০ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। আর জয়ের সুপ্রিম ক্রেডিট কর্পোরেশন লিমিটেড কোম্পানির সঙ্গে সোনা পাপ্পুর সরাসরি আর্থিক যোগসূত্র রয়েছে। সেক্ষেত্রে সোনা পাপ্পু নিজেই জয়ের সংস্থায় ১.৫ কোটি টাকা ট্রান্সফার করেছেন।
রবিবার সকালে বেহালার বাড়ি থেকে জয়কে আটক করে সিজিও কমপ্লেক্স নিয়ে যাওয়া হয়। আর দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর বয়ানে অসঙ্গতি মেলার কারণেই তাঁকে গ্রেফতার করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তবে গ্রেফতারের পর অসুস্থ বোধ করার কারণে জয়কে আরজি কর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। যদিও তাতে তদন্ত থেমে যায়নি। হাসপাতালের বেডে শুয়েই আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
প্রসঙ্গত, পেশায় প্রোমোটার জয় কামদারের সঙ্গে সোনা পাপ্পুর ঘনিষ্ঠতা দীর্ঘদিন ধরেই। ইডি সূত্রে খবর, এর আগে জয়ের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছিল। আর সোনা পাপ্পুর বাড়িতেও তল্লাশি চালিয়েছে ইডি। সেখান থেকে যে সমস্ত আর্থিক নথি মিলেছে তাতে জয়ের নাম বারবার উঠে আসে। পাশাপাশি বার দুয়েক তলব করা সত্ত্বেও ইডি হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছিলেন জয়, যা তাঁর উপরে সন্দেহ আরও বাড়িয়ে দেয়।
আরও পড়ুন: ব্যারেল প্রতি ৯০ ডলার, যুদ্ধ মাথাচাড়া দেওয়ায় ফের ৮% বাড়ল তেলের দাম
অন্যদিকে তদন্তে নেমে ইডি জানতে পারে যে, সোনা পাপ্পুর স্ত্রীর নামেও একাধিক কোম্পানি খোলা হয়েছে। যদিও জিজ্ঞাসা করার সময় তাঁর দাবি যে, তাঁর নামে কোনও কোম্পানি আছে বলে জানা নেই। অন্যদিকে এই সূত্রে পুলিশ আধিকারিকের বাসাতেও পৌঁছেছে ইডি। রবিবার বালিগঞ্জে কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বাড়িতেও হানা দিয়েছিল তদন্তকারী সংস্থা। তবে গত ফেব্রুয়ারি মাসে কাকুলিয়া রোডে গুলি চালানোর ঘটনায় নাম জড়ানোর পর থেকেই সোনা পাপ্পু কেন্দ্রীয় এজেন্সির নজরে রয়েছেন।










