সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বাংলায় চলবে না শাসকের আইন। আইনের শাসন কার্যকর করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সিন্ডিকেট, তোলাবাজি রুখতে এবার বিরাট দাওয়াই দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সমাজবিরোধী কার্যকলাপে সরাসরি যুক্ত থাকলেই নয়, বরং যে কোনও চিহ্নিত অপরাধী বা গুন্ডাকে আশ্রয় দেওয়া বা লুকিয়ে রাখা কিংবা পালিয়ে যেতে সাহায্য করলেই পড়তে হবে শাস্তির মুখে। এমনকি অপরাধীকে বাড়িতে লুকিয়ে রাখলে হবে ২ বছরের জেল। স্পষ্ট বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর।
অপরাধ দমনে অ্যাকশন মুডে শুভেন্দু
প্রসঙ্গত, আগামী সোমবার বিধানসভায় পেশ হবে দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি এন্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল। বিশেষ করে গুন্ডা, মাফিয়া এবং তোলাবাজি দমনের জন্যই এই বিল আনা হচ্ছে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে। এই বিল অনুযায়ী, যদি কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে জেল ছাড়ার নির্দেশ থাকে, এবং তা জানা সত্ত্বেও যদি কেউ তাকে আশ্রয় দেয়, তাহলে উল্টে তাকেই পড়তে হবে শাস্তির মুখে। বিশেষ করে যদি নিজের বাড়িতে লুকিয়ে রাখা হয় বা পালিয়ে যেতে সাহায্য করা হয়, তাহলে দুই বছরের কারাদণ্ড এবং জরিমানা গুনতে হতে পারে বলেই জানানো হয়েছে। এমনকি তার বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা দায়ের করা হবে।
অপরাধীদের পাশাপাশি এবার অপরাধ দমনে সাহায্য করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও সোজা অ্যাকশন নেবে শুভেন্দু সরকার। এমনকি জনশৃঙ্খল নষ্ট করা কিংবা সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করার মতো অপরাধে যুক্ত থাকলেও ছাড় দেওয়া হবে না কাউকে। বেআইনিভাবে জমি কিংবা সম্পত্তি দখল বা সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তি নষ্ট করলে নিজের বাড়ি বিক্রি করে সেই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে বলে আগেই জানানো হয়েছিল রাজ্য সরকারের তরফ থেকে। এছাড়া নতুন এই বিলের আওতায় অস্ত্র আইন থেকে শুরু করে মাদক আইন, অনৈতিক পাচার প্রতিরোধ আইন বা বিস্ফোরক আইনসহ একাধিক অপরাধে যুক্ত অপরাধীদেরকে শাস্তি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নতুন এই বিল অনুযায়ী, এবার থেকে পুলিশ এবং প্রশাসনের আধিকারিকদের সমাজবিরোধী কিংবা সিন্ডিকেট চক্রের হদিস পাওয়ার জন্য যে কোনও সন্দেহভাজন জায়গায় ঢুকে তল্লাশি করার অনুমতি দেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে রাস্তাঘাটে কোনও ব্যক্তি বা যানবাহন থামিয়ে তল্লাশির পাশাপাশি বেআইনিভাবে উপার্জিত টাকা বা নথি কিংবা সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার অনুমতিও পাবে পুলিশ। এছাড়া ক্ষমতার অপব্যবহার রুখতে একটি উচ্চ পর্যায়ের অ্যাডভাইজারি বোর্ড গঠন করা হবে বলে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে। সেই বোর্ডের চেয়ারম্যান হবেন হাইকোর্টের বর্তমান কিংবা প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি।
আরও পড়ুন: পুকুরে ইলিশ চাষ, ছিপ ফেলে ধরতে পারবেন রুপোলী শস্য! গবেষণায় বড় সফলতা পেল বাংলা
এছাড়া অপরাধ দমনে পুলিশ এবং জেলা প্রশাসনকে আগাম আটক করার ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে এই নতুন বিলে। সেক্ষেত্রে রাজ্য সরকার, পুলিশ কমিশনার কিংবা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট যদি মনে করেন যে, কোনও ব্যক্তি সমাজবিরোধী কাজ করতে পারে কিংবা তার বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ রয়েছে, তাহলে সরাসরি তাকে আটক করা হতে পারে। এমনকি সর্বোচ্চ ১২ মাস পর্যন্ত আগাম আটক করে রাখা যাবে।










