অনন্যা সরকার, কলকাতা: সম্প্রতি রাজ্যের অর্থ দফতরের তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে ঘোষণা করা হয় যে, পুজোর আগেই মেটানো হবে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (Dearness Allowance)। সেই প্রক্রিয়ায় এবার আরও একধাপ এগোলো রাজ্য প্রশাসন। যেসমস্ত কর্মচারীদের বেতন আগে রাজ্য সরকারের ইন্টিগ্রেটেড ফিনান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বা এইচআরএমএস (HRMS) পোর্টালের মাধ্যমে প্রক্রিয়া করা হয়নি, তাদের জন্য একটি নির্দিষ্ট ও বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে অর্থ দফতরের তরফে। এতে বলা হয়েছে যে, ওয়েস্ট বেঙ্গল সার্ভিসেস (রিভিশন অফ পে অ্যান্ড অ্যালাওয়েন্স) রুলস, ২০১৯ (ROPA 2019)-এর আওতাভুক্ত কর্মচারীদের জন্য ১ এপ্রিল, ২০০৮ থেকে ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৯ পর্যন্ত সময়কালের বকেয়া গণনার ক্ষেত্রে এই পরিকল্পনা মাফিক কাজ হবে।
পোর্টালের বাইরে থাকা সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার রূপরেখা
সরকার জানিয়েছে যে, ২০০৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যেসব কর্মচারীর বেতন পোর্টালের মাধ্যমে তোলা হয়নি, তাদের বেতনের বিস্তারিত তথ্য সিস্টেমে স্বাভাবিকভাবেই নেই। এর ফলে সঠিকভাবে বকেয়া মহার্ঘ ভাতার পরিমাণ গণনা করতে সমস্যা হচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য, অর্থ দফতরের অধীনে থাকা ডব্লিউবিআইএফএমএস (WBIFMS)-এর এইচআরএমএস (HRMS) মডিউলের মধ্যে একটি নতুন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
অর্থ দফতরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ড্রয়িং অ্যান্ড ডিসবার্সিং অফিসারদের (DDO) জন্য পোর্টালে “পে ডিটেলস এন্ট্রি ফর এরিয়ার ডিএ” শিরোনামের সাথে একটি নয়া অপশন যুক্ত করা হয়েছে। এই মেনুর মাধ্যমে কর্মচারীদের প্রধান সার্ভিস বুক ও অন্যান্য নথিপত্রগুলি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করার পর, ওই সময়ের জন্য মূল বেতন অর্থাৎ, ব্যান্ড পে ও গ্রেড পে এবং অন্যান্য অনুমোদিত উপাদান সম্পর্কিত বিবরণ সিস্টেমে এন্ট্রি করাতে হবে।
আরও পড়ুন: মাত্র ১ টাকায় জমা করুন প্রিমিয়াম, কৃষকদের সেরা উপহার দিচ্ছে কেন্দ্রের এই স্কিম
এই সময়কালের মধ্যে কর্মীদের পদোন্নতি, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বা বেতন সংশোধনের মতো পরিবর্তন কবে থেকে কার্যকর হয়েছে, সেই তারিখগুলি সঠিকভাবে আপলোড করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উল্লিখিত সময়কালে যারা ডেপুটেশনে ছিলেন বা এখন অবসরপ্রাপ্ত, সেইসমস্ত কর্মচারীদের জন্যও স্পষ্ট রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। যেসব অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীর এইচআরএমএস আইডি নেই, তাদের জন্য ডিডিও একটি নতুন আইডি তৈরি করবেন ও ‘মাস্টার্স’ অপশনটি ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় তথ্যগুলি যুক্ত করবেন। এছাড়াও, যদি কোনও কর্মচারী ইতিমধ্যে মারা গিয়ে থাকেন, তাদের ক্ষেত্রে সিস্টেমে একাধিক নমিনি ও আইনসম্মত উত্তরাধিকারীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিবরণ নথিভুক্ত করে সরাসরি বকেয়া দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
অর্থ দফতরের নির্দেশিকায় এ-ও বলা হয়েছে যে, তথ্য যাচাইয়ের পর সিস্টেমে দুটি আলাদা বকেয়া বিল তৈরি করা হবে। প্রথমটি হবে ১ এপ্রিল, ২০০৮ থেকে ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৫ পর্যন্ত সময়কালের জন্য এবং দ্বিতীয়টি ১ জানুয়ারি, ২০১৬ থেকে ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৯ পর্যন্ত সময়কালের বকেয়া কিস্তির জন্য। বকেয়া থেকে আয়কর বাদ দিয়ে এবং অতীতের কোনও অতিরিক্ত বা কম পরিশোধিত অর্থ অ্যাডজাস্ট করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। রাজ্য সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, সার্ভিস বুকের রেকর্ডের সাথে সিস্টেমে নথিভুক্ত করা তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করার সম্পূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন সংশ্লিষ্ট ডিডিও। চূড়ান্ত বিল জমা দেওয়ার আগে যেকোনও গরমিল অবশ্যই সংশোধন করে নিতে হবে। বর্তমানে এই নির্দেশিকা রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে কর্মতৎপরতা বাড়িয়ে দিয়েছে।
আরও পড়ুন: ১৮ লক্ষ টাকা বকেয়া পেতে পারেন সরকারি কর্মীরা, দেখুন হিসাব
বিজ্ঞপ্তিটি প্রসঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের সংগঠন, ‘সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ’-এর আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ জানান যে, সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে ২০০৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত জমে থাকা বকেয়া সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের এক কিস্তিতে প্রদান করা হবে। তবে, এতে এখনও কিছু অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। যেমন – বকেয়ার পরিমাণ কীভাবে গণনা করা হবে। এই বিজ্ঞপ্তিতে তা স্পষ্ট করে বলা নেই। তিনি আরও বলেন যে, এই বিজ্ঞপ্তি জারির ফলে সরকারি কর্মচারীদের বকেয়ার বিষয়টি এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, আশা করা যায় খুব শীঘ্রই এর নিষ্পত্তি করা হবে। তবে, অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির কর্মচারীদের বকেয়া মেটানোর জন্য সরকারকে এখনও পর্যন্ত কোনও ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। ভাস্কর ঘোষ বলেন, তাদের সংগঠন এই বকেয়া নিষ্পত্তির জন্য অবিলম্বে গঠনমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছে।










