প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্যে বেআইনি নির্মাণ (Illegal Construction) রুখতে এবার আরও কড়াকড়ি হচ্ছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। তারাতলার ঘটনার পর শিক্ষা নিয়ে এবার থেকে বিল্ডিং প্ল্যান (New Building Plan) অনুমোদনে নতুন ব্যবস্থা আনছে প্রশাসন (Government Of West Bengal)। জানা গিয়েছে, রাজ্যে নাকি এখন থেকে বাড়বে বিল্ডিং প্ল্যান পাশের খরচ। তার কারণ রাজ্যে বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনের ক্ষেত্রে থার্ড পার্টি এজেন্সি বা বিশেষজ্ঞ সংস্থাকে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)।
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক অগ্নিমিত্রা পালের
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল অর্থাৎ সোমবার সকালে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে নির্মাণ সক্রান্ত ইস্যু নিয়ে বৈঠক করেছিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এবং দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই। বৈঠকে অবৈধ নির্মাণ বন্ধ করার জন্য নানা আলোচনা হয়, পাশাপাশি বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনের ক্ষেত্রে থার্ড পার্টি এজেন্সি বা বিশেষজ্ঞ সংস্থাকে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, রাজ্যে বাড়তে চলেছে বিল্ডিং প্ল্যান পাশের খরচও। আসলে তারাতলায় নির্মীয়মাণ বাড়ি বিপর্যয় প্রাণ কেড়েছিল ১৭ জনের। যা নিয়ে আতঙ্ক এখনও কাটেনি। তাই এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে তার জন্য নবান্ন বিল্ডিং প্ল্যান সংক্রান্ত এই পদক্ষেপের কথা ভেবেছে।
বিল্ডিং প্ল্যানে থার্ড পার্টি ক্লিয়ারেন্স বাধ্যতামূলক
রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন যে, পুর আধিকারিকরা ইনস্পেকশনের দায়িত্বে থাকলেও এখন থেকে বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনের ক্ষেত্রে থার্ড পার্টি এজেন্সি বা বিশেষজ্ঞ সংস্থাকে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি স্তরের নির্মাণকাজ থার্ড পার্টি এজেন্সির স্ক্যানারে থাকবে। সব ঠিকঠাক থাকলে মিলবে পরবর্তী ধাপের অনুমোদন। এবং এই থার্ড পার্টির ইনস্পেকশনের যাবতীয় খরচ বহন করতে হবে বিল্ডিং প্ল্যানের আবেদনকারীকে। যত তলা বাড়ি হবে, সেই অনুযায়ী স্বাভাবিকভাবেই বিল্ডিং প্ল্যান বাবদ খরচ অনেকটাই বাড়বে। অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে যে শহরের অবৈধ নির্মাণ যাতে পুরোপুরি বন্ধ করা যায় সেই নিয়ে কড়াকড়ি হচ্ছে রাজ্য।
আরও পড়ুন: ফের অস্বস্তিতে অভিষেক, ডায়মন্ড হারবারে কোভিড পরীক্ষা নিয়ে রিপোর্ট তলব কমিশনের
বিল্ডিং প্ল্যান বাবদ খরচ বৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সরকারের যুক্তি, নির্মাণ কর্মী থেকে ভবিষ্যতে যাঁরা সেখানে বসবাস করবেন, তাঁদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতেই নির্মাণকারী সংস্থা বা ব্যক্তিকে এই অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হবে। অন্যদিকে, অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চলতি বছরের ৩১ মার্চকে কাট-অফ-ডেট হিসাবে ধার্য করা হয়েছে। তার পরবর্তী সমস্ত বেআইনি নির্মাণের ক্ষেত্রে উচ্চ শতাংশ ফাইন নেওয়ার পথে হাঁটছে রাজ্য। পাশাপাশি প্রশাসনের তরফে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাজ্যজুড়ে যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা, থুতু ফেলা ও নিষিদ্ধ প্লাস্টিক ব্যবহারের বিরুদ্ধে জরিমানা কার্যকর করা হতে চলেছে৷










