ফের অস্বস্তিতে অভিষেক, ডায়মন্ড হারবারে কোভিড পরীক্ষা নিয়ে রিপোর্ট তলব কমিশনের

Published:

Abhishek Banerjee

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই একের পর এক গুরুতর অভিযোগের মুখোমুখি হতেই চলেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। এমনকি বাদ যায়নি তাঁর নির্মিত সেবাশ্রয় মডেল। আর এই অস্বস্তির মাঝে ফের বিপাকে পড়লেন অভিষেক, অভিযোগ উঠছে ডায়মন্ড হারবারে ২০২২ সালের কোভিড পরীক্ষার কর্মসূচি নাকি নিয়ম মেনে হয়নি। আর তাই এই নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিলকে (West Bengal Medical Council) তদন্ত করার নির্দেশ দিল জাতীয় মেডিক্যাল কমিশন (National Medical Commission)।

প্রশ্নের মুখে ডায়মন্ড হারবার মডেল!

নির্বাচনের আগে সাধারণ জনগণের জন্য ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় চিকিৎসার সুবিধার জন্য ‘সেবাশ্রয়’ শিবির শুরু করেছিলেন। কিন্তু সরকার পরিবর্তন হতেই একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছে এই শিবির ঘিরে। জানা গিয়েছে এই সেবাশ্রয়ের নামে আসলে বিপুল আর্থিক নয়ছয় করা হত। এমনকি ভুল চিকিৎসার দরুন রোগীর অঙ্গহানির অভিযোগও উঠে এসেছে। আর এবার সেবাশ্রয় শিবিরের পরে ডায়মন্ড হারবারে ২০২২ সালের কোভিড পরীক্ষার কর্মসূচি নিয়ে অস্বস্তিতে পড়লেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, অতিমারির সময়ে তাঁর লোকসভা কেন্দ্রের কর্মসূচিতে নিয়ম মেনে কোভিড পরীক্ষা করানো হয়নি। আর এই অভিযোগ তুললেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস।

কোভিড পরীক্ষার কর্মসূচি নিয়ে রিপোর্ট চাইল দিল্লি

জানা গিয়েছে, ২০২২ সালের জানুয়ারিতে ‘মেগা কোভিড-১৯ টেস্টিং ড্রাইভ’-এর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু ওই কর্মসূচির জন্য জিনিসপত্র কেনাকাটা, সরকারি সম্পত্তির ব্যবহার-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পদ্ধতিগত এবং আর্থিক অনিয়মের ইঙ্গিত রয়েছে বলে মনে করছেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস। তাই তিনি সেই অভিযোগ পত্র পুলিশের কাছে জমা দিয়ে আর্জি, জানিয়েছেন যে শীঘ্রই FIR রুজু করে তদন্ত শুরু করা হোক। পাশাপাশি দক্ষিণ ২৪ পরগনার তৎকালীন জেলাশাসক এবং ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার তৎকালীন সুপারিন্টেন্ডেন্ট-সহ মোট ২৬ জন কর্মকর্তাকে তদন্ত করার জন্য আবেদন জানানো হয়েছে।

নথিপত্র উল্লেখ করে বিজেপি নেতা অভিযোগ করে আরও জানান যে, মাত্র একদিনে ২৬০টি পরীক্ষাকেন্দ্র, ২৩টি ভ্রাম্যমাণ ইউনিট এবং ৩০টি কিয়স্কের মাধ্যমে মোট ৫৩ হাজার ২০৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল। এদিকে সেই সময়ে পুরো পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে দৈনিক গড় পরীক্ষা হত প্রায় ৬৫ হাজার থেকে ৭০ হাজার। তাহলে একটি নির্দিষ্ট কেন্দ্রে এক দিনে এত বিশাল সংখ্যক পরীক্ষা কীভাবে সম্ভব?

আরও পড়ুন: দিল্লিতে আজই শুভেন্দুর সঙ্গে বৈঠকে NCPI সাংসদদের, বাড়ছে জল্পনা

বিজেপি নেতার এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের নিয়ে এদিকে কড়া অবস্থান নিয়েছে দিল্লির জাতীয় মেডিক্যাল কমিশন। তারা পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিলকে পুরো ঘটনার তদন্ত করে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। বিজেপি নেতার দাবি, যে ৫৩,২০৩টি ডায়াগনস্টিক কিট ব্যবহার হয়েছিল, তা বিধিবদ্ধ নিয়ম মেনে সংগ্রহ করা হয়েছিল কি না, তা-ও তদন্তের আওতায় আনা উচিত। সব মিলিয়ে ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জলঘোলা শুরু হয়েছে।

আরও Abhishek Banerjee