মারা গেছেন স্বামী, দুই মেয়েকে নিয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন অসহায় রত্নাদেবী

Published:

Extreme poverty

আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: স্বামীকে হারিয়েছেন কিছুদিন আগেই। তারপর থেকেই দুই মেয়েকে নিয়ে সংসার চালানো কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠেছে অসহায় মা রত্না নাথের কাছে। ভাঙা বেড়ার ঘরে কোনওরকমে দুটো বাচ্চা মেয়েকে নিয়ে দিন কাটছে তাঁর। বড় মেয়ে দিয়া নাথ এবং ছোট মেয়ে রিয়া নাথ দু’জনেই স্কুলে পড়ে। কিন্তু অভাবের কারণে তাদের পড়াশোনা ঠিক কতদিন চালিয়ে যেতে পারবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রত্না। এমনই এক পরিবারের অসহায়তার ছবি উঠে এসেছে সমাজকর্মী অতীন্দ্রের করা একটি ভিডিওতে (Sad Story)।

টাকার অভাবে বন্ধ হতে পারে মেয়েদের পড়াশোনা

রত্নার কথায়, তাঁদের সংসারে খাবার জোটানোই এখন সবচেয়ে বড় চিন্তার বিষয়। মেয়েদের টিউশনের মাইনে দেওয়ার সামর্থ্য তাঁর নেই। ভালো জামাকাপড় কেনার অবস্থাও নেই। লোকের বাড়ি থেকে আনা পুরোনো জরাজীর্ণ পোশাক পরতে হয় তাদের। বড় মেয়ে অনেক দূর হেঁটেই স্কুলে যায়। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে, কোনওদিন পরিচিত বা প্রতিবেশীদের কাছ থেকে ভাত চেয়ে আনতে পারলে মেয়েদের মুখে খাবার ওঠে, আর খাবার না জুটলে খালি পেটেই দিন কাটাতে হয়। দুই মেয়ের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়াও অসম্ভব হয়ে উঠেছে।

রত্না জানিয়েছেন, শারীরিক সমস্যার কারণে নিয়মিত কাজ করাও তাঁর পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। মাঝেমধ্যেই মাথা ঘুরে পড়ে যান তিনি। সেই কারণেই লোকের বাড়িতে কাজ চাইতে গেলেও অনেকে তাঁকে কাজে নিতে চান না। অন্যদিকে, বাড়ির বাথরুমটিও ভাঙা। ফলে রাতের দিকে দুই মেয়েকে বাড়ির বাইরে বাগানে গিয়ে প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারতে হয়। নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্যের ন্যূনতম সুযোগটুকুও নেই তাঁদের জীবনে।

আরও পড়ুন: ২ মাসেই হবে ফলন, বাড়ির ছাদে টবেই করুন লাউয়ের চাষ, রইল পদ্ধতি

স্বামীকে হারানোর পর সংসারের দায়িত্ব পুরোপুরি এসে পড়েছে রত্নার কাঁধে। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতা, কাজের অভাব এবং চরম আর্থিক সংকট মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। নিজের অসহায়তার কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। দুই মেয়েকে নিয়ে কীভাবে আগামী দিনগুলি কাটাবেন, সেইটাই এখন রত্নার সবচেয়ে বড় উদ্বেগ। অতীন্দ্রের ভিডিওতে উঠে আসা এই পরিবার এখন শুধুই মানুষের সহায়তার অপেক্ষায়।