অন্নপূর্ণা যোজনা না পেয়ে ভয়ঙ্কর কাণ্ড ঘটালেন মহিলারা, জলপাইগুড়িতে তুলকালাম

Published:

Jalpaiguri

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সেপ্টেম্বরে ১ কোটি ৫৬ লক্ষ মহিলার অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তা সত্ত্বেও এখনও অনেক মহিলার অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকেনি। এমনকি জুলাই-আগস্ট মাসেও কানাকড়ি পাননি অনেক মহিলা। পাশাপাশি জুলাই মাস পর্যন্ত টাকা পেলেও আগস্ট বা সেপ্টেম্বরে অন্নপূর্ণা যোজনার ৩০০০ টাকা পাননি অনেকে। এবার সেই ইস্যুতেই জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) বিডিও অফিসের সামনে বিক্ষোভে নামলেন মহিলারা। তাঁদের একটাই দাবি, “সরকারকে অন্নপূর্ণা যোজনা টাকা দিতেই হবে।”

বিডিও অফিসের সামনে বিক্ষোভ মহিলাদের

পশ্চিমবঙ্গ সরকার অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা দেওয়া শুরু করেছে এই ৪ মাস হল। সেপ্টেম্বরে চতুর্থ কিস্তির টাকা সিংহভাগ মহিলার অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে বলেই খবর। তবে যাঁদের আবেদন আন্ডার প্রসেস বা ভেরিফিকেশন পর্যায়ে রয়েছে, তাঁদের মধ্যে অনেকেই টাকা পাননি। এমনকি অ্যাপ্রুভ হলেও অনেকের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকেনি বলেই অভিযোগ মহিলাদের। কিছু কিছু মহিলার দাবি, বিডিও অফিসের আধিকারিকরা ইচ্ছা করেই তাঁদের আবেদন ভেরিফাই করেননি। তাই তাঁরা এই প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অন্যদিকে অযোগ্য সত্ত্বেও অনেকে অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা নিয়ে চলেছেন।

এ প্রসঙ্গে আন্দোলনকারী কল্পনা সরকারের বক্তব্য, “আমি অন্নপূর্ণার অ্যাপ্লাই করেছি জুন মাসে। জুলাই মাসে টাকা পেয়েছি। আগস্ট আর সেপ্টেম্বর, দুই মাসের এক মাসও টাকা পায়নি আমি। আমার টোটাল টাকাটাই আমি চাই। সরকারের কাছে আমার এটাই আবেদন। আজকে আমরা এখানে এসেছি আবেদন করতে। আমি আগের মাসে এসেছি। বলেছে এই মাসে টাকা দেবে। আমি ব্যাংক থেকে ঘুরে আসলাম। কই আমার অ্যাকাউন্টে তো টাকা ঢোকেনি। ওরা বলল, আবার তুমি বিডিও অফিসে যাও। এর জন্য আমি আবার বিডিও অফিসে আসলাম।”

আরও পড়ুন: ‘খাম’ ঋতব্রতদেরই, ISF-র প্রতীক কেড়ে নিল নির্বাচন কমিশন

প্রসঙ্গত, শুধু আজ জলপাইগুড়ি বিডিও অফিস বলে নয়, আগস্ট মাসেও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের বিডিও বা পৌরসভা অফিস ঘিরে মহিলারা আন্দোলন চালিয়েছেন। তাঁদের একটাই দাবি, যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও পোর্টাল খুললে দেখা যাচ্ছে, আবেদন রিজেক্ট করা হয়েছে। অথচ সঠিক কোনও কারণ দেখাচ্ছে না। সেই কারণে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে পুনরায় ভেরিফিকেশন শুরু হয় এবং ব্লক স্তর ও পৌরসভার তরফ থেকে ভেরিফাই করেই যোগ্যদের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয় টাকা। পাশাপাশি এই মাসে ১০ লক্ষ উপভোক্তা বেড়েছে বলেই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে তাও বঞ্চিত হচ্ছেন অনেকেই।