ভাসবে বাংলদেশ! ফারাক্কার সব গেট খুলে দেওয়ার আর্জি

Published:

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: একটানা বৃষ্টির কারণে গঙ্গার জলস্তর বাড়তে থাকায় বিহারে বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কাকে সামনে রেখে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ফারাক্কার (Farakka Barrage) সমস্ত গেট খুলে দেওয়ার অনুরোধ করেছেন পড়শি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী। সম্রাট বাবুর দাবি, গঙ্গার জলস্তর অত্যাধিক বেড়ে গিয়েছে। যার কারণে যেকোনও সময় বিহারে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ঠিক সে কারণেই তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ফারাক্কার সব গেট খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। আর তাতেই বন্যার আশঙ্কায় বাংলাদেশ (Bangladesh)!

ফারাক্কার সব গেট খুলে দিলে ভেসে যাবে বাংলাদেশ?

রবিবার, নিজের এক্স হ্যান্ডেলে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী জানান, গঙ্গার জলস্তর বাড়তে থাকায় বিহারে বন্যা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ফারাক্কার সমস্ত গেট খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। প্রতিবেশী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “গঙ্গার জলস্তর দিন দিন বাড়তে থাকায় বিহারে বন্যা পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মহাশয়ের সাথে ফোনে কথা বলেছি। তাঁকে ফারাক্কা ব্যারেজের সমস্ত গেট খুলে দেওয়ার অনুরোধ করেছি।”

এদিন সম্রাট চৌধুরী আরও জানান, ‘ফারাক্কা ব্যারেজের সব গেট খুলে দিলে গঙ্গার জলের প্রবাহ স্বাভাবিক হবে। যা বিহারে বন্যার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এ নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন। আমাদের কাছে বিহারের নিরাপত্তা সবার আগে।” আর এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই বন্যার আশঙ্কায় দিন গুনছে বাংলাদেশ। আসলে ফারাক্কার সমস্ত গেট খুলে দেওয়া হলে গঙ্গার সেই জল গিয়ে আছড়ে পড়বে পদ্মা নদীতে। কাজেই নদীতে জলপ্রবাহ বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশের নিম্বাচল প্লাবিত হতে পারে সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না!

 

আরও পড়ুন: পুজোর আগে টানা বন্ধ ব্যাঙ্ক-ATM! ধর্মঘটের ডাক কর্মীদের, কবে কবে? দেখুন

উল্লেখ্য, 1996 সালে ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছিল গঙ্গা জল বন্টন চুক্তি। এই বিশেষ চুক্তির অধীনেই ফারাক্কা ব্যারেজ থেকে ওপার বাংলায় জল সরবরাহ করা হয়। আগামী ডিসেম্বর মাসে এই চুক্তির মেয়াদ পূর্ণ হচ্ছে। এদিকে দেশের অভ্যন্তরে বিশেষ করে বিহারের স্বার্থ সুরক্ষিত করতে এখনই গঙ্গা জল বন্টন চুক্তি নবায়ন করার পক্ষপাতী নয় বেশ কিছু রাজনৈতিক দল। অন্যদিকে বাংলাদেশের তরফে ইতিমধ্যেই এই বিশেষ চুক্তি নবায়ন করা নিয়ে দিল্লির সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে।