সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের (Middle East War) দাবানল এবার গ্রাস করতে চলেছে পাকিস্তানের গোটা অর্থনীতিকে। তীব্র জ্বালানি সংকটের জেরে শেহবাজ শরীফ সরকার দেশে স্মার্ট লকডাউন জারির পথে হাঁটতে চলেছে (Lockdown in Pakistan)। একদিকে আকাশছোঁয়া মুদ্রাস্ফীতি, আর অন্যদিকে ফুরিয়ে আসে তেলের ভান্ডার, এই দুইয়ের চাপে পড়ে কার্যত ধুকছে প্রতিবেশী রাষ্ট্রটি।
উল্লেখ্য, ভারত যখন লকডাউনে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিত্তিহীন গুজব ছড়িয়ে ফেলছে, তখন পাকিস্তানে তা বাস্তবে পরিণত হয়েছে। হ্যাঁ, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার কারণে ভারত সরকার আগেই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়ে শুল্ক কমিয়ে দিয়েছে। আর খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজেই দেশবাসীকে আশ্বস্ত থাকতে বলেছেন। কিন্তু পাকিস্তানের চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। কারণ, সেখানে সরকার নিজেই লকডাউনের খসড়া প্রস্তুত করতে চলেছে।
কী এই স্মার্ট লকডাউন?
পাক সংবাদমাধ্যম সূত্রে পাওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, জ্বালানি সাশ্রয় করার জন্য নির্দিষ্ট সময়ে এবার দেশজুড়ে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ থাকবে। জানা যাচ্ছে, আগামী ৪ এপ্রিল শনিবার মধ্যরাত থেকে ৫ এপ্রিল রবিবার রাত ১১:৫৯ মিনিট পর্যন্ত লকডাউন কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। আর এই সময় সমস্ত বাজার, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি দফতর, দোকানপাট বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি স্মার্ট লকডাউন চলাকালীন কোনও বিয়ের অনুষ্ঠান বা সামাজিক উৎসবে জমায়েত করা যাবে না। যদিও সরকার জানিয়ে দিয়েছে, এটি আপাতত খসড়া, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত খুব শীঘ্রই নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: পেট্রোলে মিশ্রণ, LPG-র দাম বৃদ্ধি, প্যান কার্ড! ১ এপ্রিল থেকে বদলাচ্ছে একাধিক নিয়ম
বলাই বাহুল্য, ইরান ইজরায়েলের সংঘাতের জেরে পাকিস্তানে এলপিজি গ্যাসের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গিয়েছে। মাত্র ১১.৬৭ কেজির একটি সিলিন্ডারের দাম দেশটিতে ৩৯০০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১৩৫ টাকা। যার ফলে রিকশা, বাস বা মিনিবাসের ভাড়াও একেবারে কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছে। আর এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে মধ্যবিত্তদের পকেটেই। সবথেকে বড় ব্যাপার, পাকিস্তানের মোট জ্বালানির ৭০ শতাংশ পশ্চিম এশিয়া থেকে আসে। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সেই সরবরাহ সম্পূর্ণ ভেস্তে গিয়েছে। আর সর্বশেষ পাওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, পাকিস্তানে বর্তমানে যে পরিমাণ তেল মজুত রয়েছে, তা আর কোনও ক্রমে ট্রেনেটুনে ১১ দিন চলতে পারে। অন্যদিকে বছরে ২০ লক্ষ টন এলপিজি চাহিদার বিপরীতে মাত্র ২০ হাজার টন নিয়ে তিনটি জাহাজ বন্দরে পৌঁছেছে, যা তুলনায় অনেকটাই কম। সেই কারণেই বড়সড় সিদ্ধান্তের পথে সরকার।












