প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: জনবিন্যাসের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026) নিয়ে ক্রমাগত একের পর এক পদক্ষেপ নিয়েই চলেছে নির্বাচন কমিশন। অনেক দিন আগেই থেকেই শোনা যাচ্ছিল যে ভোটকেন্দ্রের (Polling Booths) সংখ্যা বাড়ানো হবে। এবার সেই সংক্রান্ত বড় সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন কমিশন (Election Commission Of India)। জানা গিয়েছে আরও ৪৬৬০টি অতিরিক্ত বুথ তৈরি করার অনুমতি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ ছাড়াও কিছু বুথের স্থানও পরিবর্তন করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
৪৬৬০টি নতুন বুথ তৈরির অনুমতি কমিশনের
উল্লেখ্য, এর আগে শহরাঞ্চলে ভোটদানের হার বাড়াতে ৬০০ বা তার বেশি ভোটার বাস করেন, এমন হাইরাইজ বিল্ডিং বা আবাসনে ভোটগ্রহণ কেন্দ্র করা সম্ভব কিনা, তা জানাতে জেলাশাসকদের কাছে রিপোর্ট চেয়েছিল কমিশন। এখনও পর্যন্ত, রাজ্যে আছে ৮০,৬৮০টি বুথ তবে এখন অতিরিক্ত বুথ বেড়ে যাওয়ায় এই সংখ্যাটা কিছুটা বাড়তে চলেছে। কমিশন সূত্রে খবর, যে সমস্ত বুথে ভোটারের সংখ্যা ১২০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে, সেখানে অতিরিক্ত সহায়ক বুথ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এবং তাই ৪৬৬০টি নতুন বুথ তৈরির অনুমতি দিয়েছে কমিশন। শুধু তাই নয় ভোটারদের সুবিধার্থে ৩২১টি বুথ অন্যত্র সরানো হচ্ছে।
CEO দফতরে চিঠি কমিশনের
আসলে নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী আগে এক বুথে সর্বোচ্চ ১৫০০ ভোটার রাখা হত। এখন সেটা কমিয়ে ১২০০ হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়বে বলেই আগে থেকেই আশঙ্কা করা হয়েছিল। তাছাড়া শহরাঞ্চলে হাইরাইজে যদি ভোটকেন্দ্র তৈরি হয়, তাহলে সেটার সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এবার তাই সেই সিদ্ধান্তই বাস্তবের রূপ নিতে চলেছে। রিপোর্ট মোতাবেক গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি করার অনুমতি দিয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতরে চিঠি পাঠিয়েছিল কমিশন।
বুথের ঠিকানা পরিবর্তনের জোরদার প্রচার
চিঠিতে কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, নতুন বুথ তৈরির ক্ষেত্রে কমিশনের ২০২০ সালের নিয়মাবলি মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যেখানে ভোটকেন্দ্রের ঠিকানা পরিবর্তন হচ্ছে, সেখানে সংশ্লিষ্ট বুথের প্রত্যেক ভোটারকে এই পরিবর্তনের কথা ব্যক্তিগত ভাবে জানাতে হবে কমিশনের আধিকারিকদের। অর্থাৎ বুথের ঠিকানা পরিবর্তন করার কথা সংশ্লিষ্ট এলাকায় ভাল ভাবে প্রচার করতে হবে। পাশাপাশি প্রত্যেক রাজনৈতিক দলকে লিখিত ভাবে বুথ সংক্রান্ত নতুন তথ্য জানিয়ে দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদেরও বিষয়টি সম্বন্ধে অবগত করতে হবে সিইও দফতরকে।
আরও পড়ুন: ঘিরে পাহারা দিচ্ছিল পথকুকুররা, কৃষ্ণনগরে ঝোপের মধ্যে উদ্ধার ৩ মাসের শিশুকন্যা
প্রসঙ্গত, নির্বাচন শুরু হওয়ার আগেই জেলায় জেলায় ভোট পূর্ববর্তী হিংসা দেখা দিয়েছে আর সেই হিংসার জাল যাতে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় না পরে তার জন্য আজ থেকেই মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল জেলা সফর শুরু করছেন। প্রতিটি বুথে ভোটের প্রস্তুতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখবেন তিনি। অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে ভোটের নিয়ম এ বার আগের চেয়ে অনেক কঠোর।












