চলন্ত ট্রেনে হৃদরোগী মহিলার জীবন বাঁচালেন গৃহবধূ, বারুইপুরে চাঞ্চল্য

Published:

Baruipur

সৌভিক মুখার্জী, বারুইপুর: সঠিক সময় যদি সিপিআর দেওয়া যায়, তাহলে মৃত্যুপথগামী মানুষকেও বাঁচিয়ে ফেরানো যায়। তারই জলজ্যান্ত প্রমান মিলল ট্রেনের ভিতর। শিয়ালদা থেকে লক্ষীকান্তপুরগামী লোকাল (Sealdah Lakshmikantapur Local) ট্রেনে নিত্যদিনের মতো সেদিনও ভিড়ে টইটুম্বুর অবস্থা ছিল। তবে তার মধ্যেই ঘটে যায় হারহিম করা ঘটনা। ট্রেনটি বারুইপুর (Baruipur) স্টেশন ছাড়া মাত্রই অসুস্থ হয়ে পড়েন এক মহিলা। অনেকেই ভেবে নেন, তিনি আর নেই। তবে তাঁকেই সঠিক উপায়ে সিপিআর দিয়ে প্রাণ ফিরিয়ে দিলেন মঞ্জু প্রধান নামের এক গৃহবধূ।

ভিড়ের মধ্যেই বীরত্বের পরিচয়

আসলে ট্রেনটি বারুইপুর স্টেশন ছাড়ার পর বছর ৫০ এর এক মহিলা আচমকা অচৈতন্য হয়ে পড়েন। এমনকি তাঁর শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায় এবং নারীর গতিও খুঁজে পাওয়া যায় না। এ নিয়ে গোটা কামড়াতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কারো কারো মুখে শোনা যায় যে, তিনি আর নেই। সবার চোখেমুখে দিশেহারা অবস্থা। তবে সেই ভিড়ের মধ্যেই ত্রাতা হয়ে দাঁড়ান মঞ্জু প্রধান নামের এক গৃহবধ। তিনি যে সিপিআর দিতে জানেন সেটা সকলকে জানান। ভিড়ের মধ্যে অনেকেই ভেবে বসেন যে তিনি হয়তো ডাক্তার। আবার অনেকেই বিশ্বাস করতে চাইছিলেন না। তবে সময় পেরিয়ে যাচ্ছিল ভেবে তাঁকে সিপিআর দেওয়ার জন্য সুযোগ করে দেওয়া হয়।

এমতাবস্থায় ওই ভিড়ের মধ্যেই কোনও ক্রমে মহিলাকে শুইয়ে চলন্ত ট্রেনের মধ্যে সিপিআর দেন মঞ্জু প্রধান। বুকের উপর নিয়মিত বারবার চাপ দেন এবং মুখে শ্বাস দিতে থাকেন। এটাই হয়ে ওঠে মুশকিল আসান। এইভাবে বারবার চাপ দেওয়ার পর হঠাৎ করে মহিলা নড়ে ওঠেন, এমনকি তিনি একটি দীর্ঘশ্বাস নেন। তারপর ধীরে ধীরে চোখ খোলেন। মুহূর্তের মধ্যেই নীরবতা ভেঙে সবাই হাততালি দিতে থাকেন মঞ্জু প্রধানের এই অসাধ্য সাধনের জন্য। এরপর পরবর্তী স্টেশনে তাঁকে নামিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

আরও পড়ুন: হাওড়ায় হাহাকার! একসঙ্গে বাতিল ভূরি ভূরি ট্রেন, বিজ্ঞপ্তি জারি পূর্ব রেলের

আপনাদের জানিয়ে দিই, যদি সঠিক উপায় মেনে সিপিআর দেওয়া হয়, তাহলে মৃত্যুপথগামী ব্যক্তিকেও বাঁচিয়ে ফেরানো যায়। আর তারই প্রমাণ দিলেন মঞ্জু প্রধান, যিনি কুলতলির মৈপীঠ গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় কোনও চিকিৎসক নন, বরং সিনিয়রদের কাছ থেকে শুধু সিপিআর-র প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাডেন কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট বা জলে ডুবে যাওয়ার ক্ষেত্রে যদি সময়মতো সিপিআর দেওয়া হয়, তাহলে মৃত্যুর ভয় কেটে যায়। এমনকি সিপিআর না দিলে প্রতি মিনিটে বাঁচার সম্ভাবনা ১০% করে কমে।