বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: “ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (Indian Premier League) প্রতিভা তৈরি করে।” কথাটা নেহাতই ভুল নয়। কেননা, এই আসর থেকেই প্রতি বছর বহু নতুন মুখ জনপ্রিয়তা পায়। ভাগ্যের চাকা ঘোরে বৈভব সূর্যবংশীর মতো অনেকেরই। এবারের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগেও সেই নিয়মই ফলে যাচ্ছে। রাজস্থান রয়্যালসের ম্যাচে গতকাল 4 উইকেট তুলেছিলেন ভারতের অনামি ক্রিকেটার তথা কলকাতা নাইট রাইডার্স দলে জায়গা না হওয়া সাকিব হুসেন (Sakib Hussain)। গতকাল বল হাতে তাণ্ডব চালিয়ে ভারতীয়দের মধ্যে প্রথম ম্যাচে সেরা বোলিং করার রেকর্ড গড়েছেন তিনি।
বল হাতে জয়সওয়ালদের নাজেহাল করে ছেড়েছেন সাকিব
গতকাল প্রথম ওভারে বল করতে নেমেই রাজস্থানের ওপেনার যশস্বী জয়সওয়ালকে 1 রানে আউট করেন সাকিব হোসেন। এরপর ডোনোভান ফেরেইরা, জোফরা আর্চার, রবি বিষ্ণোইদেরও উইকেট তুলেছিলেন তিনি। এদিন ইম্প্যাক্ট প্লেয়ার হিসেবে খেলেই 24 রান খরচ করে বড় কীর্তি করেছিলেন সাকিব। গতকাল রাজস্থানকে হারাতে SRH কে পুরোপুরি সঙ্গ দিয়েছেন এই খেলোয়াড়। তবে অনেকেই হয়তো জানেন না, সাকিবের অতীত। যা নিয়ে খুব একটা কাটাছেঁড়া এর আগে হয়নি।
সাকিবের অতীত বেশ কষ্টদায়ক!
বিহারের গোপালগঞ্জের ছেলে সাকিব। ছেলেবেলা থেকে ক্রিকেটের প্রতি একটা আলাদা নেশা তাঁর। সেটাই যে পেশা হয়ে দাঁড়াবে কে জানত? এই প্লেয়ারকে নিয়ে ক্রিকেটে বেশ আশাবাদী ছিলেন তাঁর পরিবার। আসলে ছেলেবেলায় সাকিবের পরিবার যদি তাঁর পেছনে না দাঁড়াতো তাহলে বোধহয় ক্রিকেটে আসাই হতো না এই ছেলের।
বলাই বাহুল্য, 2024 সালে সাকিবকে কিনেছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। তবে গোপালগঞ্জ গ্রামের এই ছেলেকে দিয়ে একটি ম্যাচেও বল করায়নি শাহরুখ খানের দল। ফলে স্বাভাবিকভাবেই কিছু করে দেখানোর সুযোগ পাননি তিনি। তবে এ বছর ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের আগে তাঁকে কলকাতার ছেড়ে দিলে 30 লাখ টাকায় কিনে নেয় SRH।
গতকাল বল হাতে ছেলের সাফল্য দেখার পরই সাকিবের বাবা জানিয়েছেন, “এমন সময় গেছে ঠিকমতো খাওয়া জুটত না। কীভাবে চলবে তা নিয়েই দুবেলা চিন্তা করতে হতো। ও অনেক কষ্ট সহ্য করেছে।” এদিন SRH প্লেয়ার সাকিবকে বলতে শোনা যায়, “আমাদের মধ্যবিত্ত পরিবার। ছোট থেকেই স্বপ্ন ছিল কিছু ভালো করে দেখাবো। একটু ভালোভাবে থাকবো। প্রচন্ড ইচ্ছে ছিল দেশের জন্য কিছু করব।”
জানা যায়, খেলাধুলার প্রতি যোগ থাকলেও সাকিব চেয়েছিলেন সেনাবাহিনীতে যেতে। সেজন্য অবশ্য বাড়ির পাশের একটি স্টেডিয়ামে নিয়মিত দৌড়াতেন তিনি। পরে অবশ্য ভারতীয় সেনার দুই জাওয়ান সাকিবের বাবা আলিকে বলেছিলেন ছেলেকে খেলাধুলায় পারদর্শী করে তুলতে। জানা যায়, একটা দীর্ঘ সময় টেনিস বলে খেপ খেলেছেন সাকিব। তা দিয়েই যা রোজগার হতো সংসারে দিতেন।
সাকিবের বাবা জানিয়েছেন, “ছেলেকে যখন প্রথম খেলাধুলার কথা বললাম, ও ঠিক করে নিয়েছিল ক্রিকেটই খেলবে।” তবে নিছক মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে ক্রিকেটের যাবতীয় সরঞ্জাম থেকে শুরু করে অনুশীলন সবটা সম্ভব হয় না। সেই সময় অত টাকা ছিল না সাকিবের বাবার। ক্রিকেট সরঞ্জামের দাম যোগাড় করতে গেলে দুবেলা দুমুঠো অন্ন জুটবে না। পেট চলবে কীভাবে?
অবশ্যই পড়ুন: দু’বছরের জন্য নির্বাসিত! CSK-র ম্যাচের আগেই শাস্তি পেলেন KKR-র মুজারাবানি
ছেলেকে বড় মাপের ক্রিকেটার করে তুলতে নিজের সুখ স্বাচ্ছন্দ বিলিয়ে দিয়েছিলেন মা সুবুকতারা খাতুন। জুতোর দাম 15 হাজার টাকা। নিজের গয়না বিক্রি করে ছেলেকে জুতো কিনে দিয়েছিলেন মা। সেটা না হলে বোধ হয় ক্রিকেটে নামা হতো না সাকিবের। তবে নিজের অলংকার বিক্রি করে দিয়ে যে অর্থ সাকিবের হাতে তুলে দিয়েছিলেন তার দাম রেখেছে ছেলে। সাকিবের ক্রিকেটার হয়ে ওঠার পেছনে অবদান রয়েছে তাঁর কাকারও। তিনি অবশ্য জানিয়েছেন, একটা সময় বাড়ির ছেলে সাকিবকে নিয়ে একেবারে হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত উপরওয়ালা মুখ তুলে চায়। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে প্রথম সাকিবকে কিনেছিল KKR। 2026 IPL এ বল হাতে মাঠে নামলেও 2024 ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগটাই ভারতীয় বোলারের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল।










