প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: দোরগোড়ায় ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026), তাই শেষ মুহূর্তে ভোটের প্রচারে তুমুল ব্যস্ততা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে। এমতাবস্থায় ফের খবরের শিরোনামে উঠে এল কয়লা পাচার মামলা (Coal Mining Case)। জানা গিয়েছে, বেআইনি কয়লা পাচার মামলায় আবার ১৫৯.৫১ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি (Enforcement Directorate)। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের হেডকোয়ার্টার প্রিভেনশন অব মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট ২০০২-এর অধীনে এই অপরাধজনিত সম্পত্তি অস্থায়ীভাবে বাজেয়াপ্ত করেছে বলে খবর।
বেআইনি পরিবহণ চালান ব্যবহার
তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়লা পাচার মামলায় বেআইনিভাবে কয়লা উত্তোলন করত একটি চক্র। আর সেই কয়লা পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন কারখানায় সরবরাহ করা হতো। এই চক্রের মাথায় ছিল অনুপ মাজি ওরফে ‘লালা’। এমনকি এই কাজে স্থানীয় প্রশাসনের সক্রিয় সহযোগিতা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে যে, অনুপ মাজি ‘লালা প্যাড’ নামে একটি বেআইনি পরিবহণ চালান ব্যবহার করা হত। যা অস্তিত্বহীন সংস্থার নামে ট্যাক্স ইনভয়েস হিসেবে ব্যবহার করা হতো। আর এই ভুয়ো চালানের সঙ্গে পরিবহণকারীদের একটি ১০ বা ২০ টাকার নোট দেওয়া হত।

অস্থায়ীভাবে বাজেয়াপ্ত ১৫৯ কোটি টাকা
ED-র অভিযোগ, ১০ বা ২০ টাকার নোটটি গাড়ির নম্বর প্লেটের পাশে ধরে ছবি তুলে চক্রের অপারেটরকে পাঠাত। জানা গিয়েছে, সেই ছবি নাকি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পুলিশ ও সরকারি আধিকারিকদের কাছে পাঠানো হত, যাতে গাড়িটি আটকানো না হয় বা আটকালে দ্রুত ছেড়ে দেওয়া হয়। ইডির বিবৃতিতে দাবি, ১৫৯ কোটি ৫১ লক্ষ টাকার সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে কর্পোরেট বন্ড এবং বিকল্প বিনিয়োগ তহবিল, যা ‘শ্যাম সেল অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড’ এবং ‘শ্যাম ফেরো অ্যালয়স লিমিটেড’-এর সঙ্গে যুক্ত। যা সঞ্জয় অগ্রবাল এবং ব্রিজ ভূষণ আগরওয়ালের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ED provisionally attaches Rs.159.51 Crore in illegal coal mining case. Assets held by Shyam Sel & Power Ltd and Shyam Ferro Alloys Ltd (Shyam Group, controlled by Sanjay & Brij Bhushan Agarwal) attached. Total attachments in the case now is Rs. 482.22 Crore. pic.twitter.com/gtB445IJwd
— ED (@dir_ed) April 15, 2026
মোট বাজেয়াপ্ত সম্পদের পরিমাণ
কয়লা পাচার চক্রের নথিপত্র অনুযায়ী, এভাবে দিনের পর দিন চুরি করে ২,৭৪২ কোটি টাকা মিলেছে। এই মামলার তদন্তে হাতে পাওয়া রেজিস্টার, ডিজিটাল তথ্য, ট্যালির ডেটা এবং হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ বিশ্লেষণ করে নগদ লেনদেন এবং অর্থ স্থানান্তরের প্রমাণও পাওয়া গেছে। এছাড়াও তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, ইস্পাত ও লোহা শিল্পের কিছু সংস্থা নগদে এই বেআইনি কয়লা কিনত। সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত রাজ্যে কয়লা পাচার সংক্রান্ত মামলায় মোট বাজেয়াপ্ত করা সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৮২ কোটি ২২ লক্ষ টাকা।
আরও পড়ুন: হাওড়া, শিয়ালদা লাইনে ফের একগুচ্ছ ট্রেন বাতিল করল পূর্ব রেল, দেখুন সূচি
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালেই কয়লা পাচার মামলার তদন্ত শুরু করে সিবিআই প্রথমে অনুপ মাজি ওরফে লালার সন্ধান পেয়েছিল। পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরের বাসিন্দা লালার বিভিন্ন বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত শুরু হয়। রাজ্যে রেলের বিভিন্ন সাইডিং এলাকা থেকে কয়লা চুরির ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই প্রথমে আয়কর দফতর, তার পরে সিবিআই কয়লাকাণ্ডের তদন্তে নামে। এবং ২০২৪-এ জামিন পেয়েছিলেন লালা। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট জানিয়েছে, বেআইনি খনন ও মানি লন্ডারিংয়ের বিরুদ্ধে তারা কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কারণ প্রাকৃতিক সম্পদ দেশের মানুষের সম্পদ হিসেবে সংরক্ষিত। আর তাই এই ধরনের অপরাধ দেশের সাধারণ মানুষের ক্ষতি করে।










