ভরদুপুরে দাউদাউ করে জ্বলছে সন্তোষপুরের ৫০-৬০ টি ঝুপড়ি, শিয়ালদা লাইনে বন্ধ ট্রেন

Published:

Massive Fire Broke Out In Santoshpur

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: নিবার্চনের আবহে রাজ্য জুড়ে হাওয়া গরম, এমতাবস্থায় দাউ দাউ করে জ্বলে উঠল গোটা বসতি। জানা গিয়েছে, শনিবার দুপুরে আক্রা সন্তোষপুরের ষোলো বিঘা বসতিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের (Massive Fire Broke Out In Santoshpur) ঘটনা ঘটেছে। পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে ৫০ থেকে ৬০টি ঝুপড়ি। আগুনের (Fire) লেলিহান শিখা এতটাই বেশি ছিল যে রেল চলাচলেও বড় প্রভাব পড়েছে। বন্ধ বজবজ-শিয়ালদহ ডিভিশনে ট্রেন চলাচল। চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি এলাকা জুড়ে।

৫০-৬০টি ঝুপড়িতে পরপর আগুন

রিপোর্ট মোতাবেক, আজ অর্থাৎ শনিবার আক্রা সন্তোষপুরের ষোলো বিঘা জমিতে দুপুর ১টা ৪০ মিনিট নাগাদ আগুন লাগে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মুহূর্তের মধ্যে প্রায় গোটা এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ৫০-৬০টি ঝুপড়িতে পরপর আগুন লেগে যায়। তড়িঘড়ি পড়েন স্থানীয়রা। খবর দেওয়া হয় দমকলে কিন্তু তার আগেই প্রাথমিকভাবে বাসিন্দারাই আগুন লাগানোর কাজ শুরু করেন। পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দমকলের চারটি ইঞ্জিন। ঘিঞ্জি এলাকায় আগুন নেভাতে কিছুটা বেগ পেতে হয় কর্মীদের। আপাতত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

বন্ধ ট্রেন চলাচল

এই ভয়ংকর অগ্নিকাণ্ডে কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছে গোটা এলাকা। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, বস্তির কোনও একটি ঘরে শর্ট সার্কিট থেকেই এই অগ্নিকাণ্ড। এদিকে বস্তিটি রেললাইনের ঠিক পাশেই হওয়ায় আগুন দ্রুত ওভারহেড তারে পৌঁছে যায়। তার পুড়ে যাওয়ার ফলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং বজবজ-শিয়ালদহ ডিভিশনে বন্ধ ট্রেন চলাচল। পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাজি জানিয়েছেন, “রেলের বিশেষজ্ঞদের দল দ্রুত এলাকায় পৌঁছেছে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে দ্রুত ট্রেন পরিষেবা স্বাভাবিক করার আপ্রাণ চেষ্টা চলছে।”

আরও পড়ুন: দ্বিতীয় দফায় কেমন ফল করবে বিজেপি? জানিয়ে দিলেন অমিত শাহ

ইতিমধ্যেই অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়েই এলাকায় পৌঁছেছেন মহেশতলা বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী শুভাশিস দাস এবং সিপিএম প্রার্থী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন বস্তিবাসী। আগুনের হাত থেকে বাঁচতে অনেক পরিবার শিশুদের নিয়ে রেললাইনের ওপর আশ্রয় নিয়েছেন। স্থানীয় এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, “২৯ তারিখ ভোট দেব। সব পুড়ে গেছে ভোটার কার্ড। আমরা ঘরে ভাত খাচ্ছি। সেই সময় দেখি আগুনের গোলা….বেরতে না বেরতেই সব শেষ।”