সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ক্ষমতা হারিয়েছেন তিনি। অথচ পদত্যাগ করবেন না। গদি আঁকড়ে বসে থাকবেন। হ্যাঁ, আমরা বলছি বাংলার বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির (Mamata Banerjee) কথা। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বিজেপি এবার ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেসকে পরাজিত করার কারণে নিয়ম অনুযায়ী তাঁর ৭ মে-র মধ্যেই পদত্যাগ করার কথা। কিন্তু তাঁর দাবি, “আমরা হারিনি। আমি পদত্যাগ করব না। দরকার হলে সুপ্রিম কোর্টে যাব। এমনকি আন্তর্জাতিক আদালতেও যাব।” প্রশ্ন উঠছে, আদৌ কি তিনি সেখানে আবেদন জানাতে পারবেন?
পদত্যাগ করবেন না মমতা
বুধবার বিকেলে সাংবাদিক বৈঠক করে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, “আমি হারিনি। আমি গিয়ে পদত্যাগ করব না। রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হলে হোক। রেকর্ড থাকুক। ওরা আমাকে বরখাস্ত করে দিক। আমি চাই সেই দিনটা পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে কালো দিন হিসাবে বজায় থাকুক। অভিষেক অনেক কষ্ট করেছে। আমি মানুষকে বিশ্বাস করি। জ্ঞানেশ কুমারই হল আসল ভিলেন। আর এর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যুক্ত রয়েছেন।”
এমনকি তিনি দাবি করেন যে, “গত ছয় মাস ধরেই রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসনের মতোই বজায় রয়েছে। মানুষজনের হিংসা দেখুন। জিয়াগঞ্জে লেনিনের মূর্তি ভেঙে দিচ্ছে। আমাকে মেরেছে। এমনকি ববি-কেও মেরেছে। আমাদেরকে এখানে হারানো হলেও দিল্লি আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য। আমরা ইন্ডিয়া জোটকে আরও সঙ্গবদ্ধ করব এবং ভারত দখল করব। নেতাজি–গান্ধীজীকে ওরা গেরুয়া আবির মাখাচ্ছে। এটা মেনে নেওয়া যায় না।”
আরও পড়ুন: ভারতের বাসুকি নয়, বিশ্বের সবথেকে দীর্ঘতম ট্রেন এটি
আদৌ কি তিনি আন্তর্জাতিক আদালতের দারস্ত হতে পারেন?
এবার এই প্রেক্ষিতে প্রশ্ন উঠছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি তাহলে সত্যিই আন্তর্জাতিক আদালতের দ্বারস্থ হতে পারবেন? আসলে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের পর থেকেই তিনি গদি আঁকড়ে বসে রয়েছেন। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, এমন কি কোনও নিয়ম রয়েছে, যা অনুযায়ী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তাঁর পদ সামলানর জন্য আন্তর্জাতিক আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন? আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতে নির্বাচনী বিরোধ শুধুমাত্র সংবিধান দ্বারায় পরিচালিত হয়। আর এগুলো দেশের অভ্যন্তরীণ আদালত ও নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারের মধ্যে। যা চ্যালেঞ্জ করার সেখানেই করতে হবে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যাওয়ার কোনও রাস্তা নেই।










