প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: গত ৬ মে অর্থাৎ ভোটের ফলপ্রকাশের ঠিক দু’দিন পর মধ্যমগ্রামের দোহারিয়ায় খুব কাছ থেকে গুলি করে খুন করা হয় শুভেন্দুর দীর্ঘদিনের আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে। এরপরই তদন্তে নামে CBI। ঘটনায় (Chandranath Rath Murder Case) বালিয়া থেকে পঞ্চম অভিযুক্ত রাজ সিংকে গ্রেপ্তার করতেই শুরু হয় গণ্ডগোল। অবশেষে সেই বিভ্রান্তির জট কাটল। বৃহস্পতিবার গ্রেফতার হওয়া ‘রাজ সিং’কে জেলমুক্তি দিল আদালত। আর এবার জেল থেকে বেরিয়েই বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন রাজ সিং।
ক্ষোভ প্রকাশ করলেন রাজ সিং
সংবাদ সংস্থা ANI-কে রাজ সিং জানিয়েছেন, “সবাই জানেন শুভেন্দু অধিকারীর পিএ খুনের মামলায় আমাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। মূল অভিযুক্তের নাম রাজকুমার সিং। কিন্তু পুলিশ আমাকে ভুল করে সেই রাজ সিং ভেবে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করে। আমি মায়ের সঙ্গে অযোধ্যায় রামলালার দর্শন করে গিয়েছিলাম। দর্শন সেরে বাড়ি ফেরার পথে একটি ধাবার সামনে থেকে SOG টিম আমাকে গ্রেফতার করে। এরপর আমাকে সোজা তাদের অফিসে নিয়ে যায়। আমার মা পুলিশকে অনেক কাকুতি মিনতি করে বোঝানোর চেষ্টা করছিলেন যে আমি নির্দোষ। কিন্তু পুলিশ কোনও কথা শোনেনি বা কোনও প্রমাণ দেখার চেষ্টাও করেননি।”
মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করত CID
রাজ সিং সাক্ষাৎকারে আরও বলেন, “ গত ৬ মে আমি কোথায় ছিলাম জানতে চাইলে, আমি জানিয়েছিলাম যে নিজের এলাকাতেই ছিলাম। কিন্তু পুলিশ আমার কথা বিশ্বাস না করে আমাকে এনকাউন্টার করার ও গুলি মারার হুমকি দেয় এবং জোর করে দোষ স্বীকার করানোর চেষ্টা করে। এরপর আমাকে কলকাতায় নিয়ে আসলে সেখানে CID-র হেফাজতে রাখা হয়েছিল আমায়। কিন্তু সেখানেও আমাকে অপরাধী হিসেবে প্রমাণ করার জন্য অনবরত মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়।” এরপরই তিনি রাজ সিং, সিবিআই-কে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন যে সিবিআই তদন্তভার নেওয়ার পরই সত্যি সামনে এসেছে।
আরও পড়ুন: সুজিত মামলায় দুই আইনজীবীর বাগযুদ্ধ! পাচু রায়ের বয়ানেই বড় মোড় নিল তদন্তে
সাক্ষাৎকার সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ সিং, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কাছে আবেদন জানিয়েছেন যেন SOG টিমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এছাড়াও তিনি দাবি করেন যে তিনি এবং তাঁর পরিবার শুরু থেকেই বিজেপির সঙ্গে যুক্ত এবং এই ঘটনার মাধ্যমে তাঁর ও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। এদিকে ছেলের এই অবস্থায় ভেঙে পড়েছেন রাজের মা। CBI-কে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন যে, “অবশেষে অযোধ্যার রামচন্দ্রজির কৃপায় সত্যের জয় হয়েছে এবং তাঁর ছেলের ওপর থেকে ‘খুনি’ বা অপরাধীর তকমা মুছে গিয়েছে।”










