তৃণমূল ধরাশায়ী হতেই কেল্লাফতে! শহিদ মিনারে ২১ জুলাই পালনের ঘোষণা কংগ্রেসের

Published:

Indian National Congress

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: রাজনৈতিক পালা বদল ঘটেছে বাংলার। তৃণমূলকে হারিয়ে একচেটিয়া ভাবে ক্ষমতা দখল করেছে বিজেপি সরকার। আর সেই ফাঁকা মাঠে এবার বিরাট ছক্কা হাঁকাল কংগ্রেস। আগামী ২১ জুলাই কলকাতার প্রকাশ্যে শহীদ দিবস পালন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল প্রদেশ কংগ্রেস (Indian National Congress)। শনিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের নব নিযুক্ত সভাপতি শুভঙ্কর সরকার এমনই ঘোষণা করেন। দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে বন্ধ ঘরে বা বিধান ভবনের নিচে দিনটি পালন করার পর এবার ধর্মতলার শহীদ মিনারের চত্বরে সমাবেশে ডাক দিয়েছে হাত শিবির।

ইতিহাসের পুনরুত্থান

আসলে কংগ্রেসের প্রবীণ নেতাদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ছিল যে, ১৯৯৪ সালের ২১ জুলাই সেই ঐতিহাসিক দিনটিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল কংগ্রেস গড়ার পর নিজেকে একচেটিয়া সম্পর্কে পরিণত করেছিলেন। কংগ্রেসের অভিযোগ, ২০১১ সালে তৃণমূল রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সরকারি প্রশাসন এবং পুলিশের প্রভাব খাটিয়ে কংগ্রেসকে কলকাতার কোথাও প্রকাশ্যে শহীদ দিবস করার পর্যাপ্ত অনুমতি দেওয়া হয়নি। এমনকি প্রশাসনের অসহযোগীতার কারণে বাধ্য হয়েই কংগ্রেস নেতারা মৌলালির রাজ্য সদর দফতর বিধান ভবনের চার দেওয়ালের ভিতরে ত্রিপল খাটিয়ে এই দিনটি স্মরণ করে আসছিলেন। কিন্তু রাজনৈতিক পালাবদল ঘটতেই এবার সেই দশা ঘুচতে চলেছে।

না উল্লেখ করলেই নয়, ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই তৎকালীন যুব কংগ্রেসের সভাপতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাইটার্স বিল্ডিং অভিযানের ডাক দেওয়া হয়। ভোটার পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করার দাবিতেই সেই আন্দোলন। তবে অভিযোগ ওঠে, বামফ্রন্ট সরকারের পুলিশ বাহিনীর গুলিবর্ষণের মুখে পড়ে যুব কংগ্রেসের ১৩ জন কর্মী প্রাণ হারিয়েছিলেন। সেই কারণে তৎকালীন নিখিল ভারত যুব কংগ্রেসের সভাপতি মনিন্দর সিং বিট্টা, তৎকালীন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সী, এবং যুবনেতা পরেশ পালের উপস্থিতিতেই দিনটিকে শহীদ প্রকাশ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

এদিকে কংগ্রেসের নেতারা এই সুযোগে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চরম আক্রমণ করেন। ১৯৯৩ সালের সেই রক্তক্ষয়ী ঘটনার সময় রাজ্যের মুখ্য সচিব ছিলেন আইএএস অফিসার মণীশ গুপ্ত। তবে কংগ্রেসের অভিযোগ, যার নির্দেশে এবং উস্কানিতে সেদিন পুলিশের বন্দুক থেকে ১৩ জন নিরীহ মানুষের প্রাণ গিয়েছিল, পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক স্বার্থে তাঁকেই নিজের দলে স্বাগত জানিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি ২০১১ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে বামেদেরকে হারিয়ে মণীশ গুপ্তকেই যাদবপুর কেন্দ্রে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে প্রার্থী করেছিল ঘাসফুল শিবির। আর পরবর্তী সময়ে তাঁকেই রাজ্যের মন্ত্রী ও রাজ্যসভার সাংসদ নির্বাচিত করা হয়। সেই থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর কংগ্রেস কর্মীদের ক্ষোভ জমে রয়েছে।

আরও পড়ুন: ফ্রিতে সার্ভাইক্যাল ক্যানসার ভ্যাকসিন, মহিলাদের জন্য বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

এদিকে গত ৪ মে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই তৃণমূলের নেতা কর্মীদের একেবারে দুর্দশা অবস্থা। খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পর্যন্ত ঘরবন্দি। এমনকি দলের ডানহাত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না। এমতাবস্থায় দল আগামী দিন কীভাবে চলবে তা নিয়েই এখন ঘাসফুল শিবিরের মধ্যে তৈরি হচ্ছে চরম অনিশ্চয়তা। আর সেই সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইল না হাত শিবির।