প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বাঙালি হেঁসেলে যেমন টক ঝাল নোনতার হরেক রকমের রেসিপি (Recipe) মিলবে ঠিক তেমনই আবার মিষ্টিরও নানারকম ভ্যারাইটি পাওয়া যাবে। তার ওপর যেহেতু সামনেই উৎসবের মরশুম আসছে তাই লাজবাব মিষ্টির (Sweet) একের পর এক রেসিপি পাওয়া যাবে বাঙালির ঘরে ঘরে, কেউ বাড়াচ্ছে রসগোল্লা, তো কেউ বানাচ্ছে রসমালাই। তাই আমাদের আজকের প্রতিবেদন নিয়ে এসেছে এক দারুন স্বাদের মিষ্টির রেসিপি, আর সেটি হল মতিচুর লাড্ডু (Motichur Laddu)।
উপকরণ
মতিচুর লাড্ডু বানানোর জন্য যে যে উপকরণ গুলো লাগবে সেগুলি হল – ৩০০ গ্রাম বেসন, ২০০ গ্রাম চিনি, ফুড কালার, লিকুইড গ্লুকোজ, আমন্ড কুচি, কাজু কুচি, পেস্তা কুচি, সাদা তেল।
রান্নার পদ্ধতি
উৎসবের মরশুমে আমরা প্রায় সময় দোকান থেকে লাড্ডু কিনে এনে ঠাকুরকে উৎসর্গ করে থাকি, এছাড়াও কোনো শুভ কাজেও আমরা লাড্ডু (Motichur Laddu) বিতরণ করে থাকি। তবে এবার আর দোকান নয়, বাড়িতে অল্প কিছু উপকরণ দিয়েই বানিয়ে ফেলতে পারবেন নরম এবং দারুন স্বাদের মতিচুর লাড্ডু , রইল রেসিপি –
- প্রথমে একটি পাত্রে বেসন ভালো করে ছেঁকে নিতে হবে। এরপর ৪ কাপ জল অল্প অল্প করে ভালো করে ফেটিয়ে নিতে হবে। প্রথমেই ভুল করে বেশি জল দিয়ে ফেটাবেন না। যখন মিশ্রণটা তৈরি হয়ে যাবে, সেটিকে ঢাকা দিয়ে রাখতে হবে।
- এরপর কড়াইতে সাদা তেল গরম করে নিতে হবে। এবং একটি পাইপিং পেপারের মধ্যে বেসনের মিশ্রণটা ঢেলে ভালো করে বেঁধে দিয়ে কাগজের পাইপের মুখটা খানিক কেটে নিতে হবে। যেমনটা কেক ডেকোরেশনের সময় ওপর থেকে ক্রিম ছড়িয়ে দিই সেই একই রকম পদ্ধতিতে এটি করতে হবে।
- এবার তেল গরম হয়ে এলে পাইপিং কাগজের মাধ্যমে হালকা করে চারিদিকে ছড়িয়ে দিলেই দেখবেন ছোট গোল গোল আকারে বুন্দি তৈরি হয়ে যাচ্ছে। এইভাবে অসংখ্য বুন্দি বানিয়ে আলাদা একটি পাত্রে রেখে দিতে হবে। অন্যদিকে আরও একটি বড় কড়াই নিয়ে সেটিকে একদম সামান্য আঁচে গরম করতে দিতে হবে।
আরও পড়ুন: বাজারে আর টাকা খরচ করার দরকার নেই! বাড়িতেই বানিয়ে ফেলুন ময়দা, রইল পদ্ধতি
- গরম হয়ে এলে শুকনো কড়াই এর মধ্যেই ৩০০ গ্রাম চিনি সরাসরি ঢেলে দিতে হবে। এবং তার সঙ্গে মিশিয়ে দিতে হবে জল, ভালো করে খুন্তি দিয়ে নাড়াচাড়া করতে হবে যতক্ষণ না চিনিটা সম্পূর্ণভাবে গলে যাচ্ছে। প্রায় তিন থেকে চার মিনিট পর যখন চিনির সিরাপ তৈরি হয়ে যাবে তখন ওর মধ্যে সামান্য কমলা রঙের ফুড কালার ছড়িয়ে দিতে হবে। এই ফুড কালার যে কোন দোকান থেকেই পাওয়া যায় তবে অর্গানিক কিনা সেটা বুঝে কেনাই ভালো।
- ফুড কালারটি চিনির সিরাপের সঙ্গে ভালোভাবে মেশানোর পর ওর মধ্যে ভেজে রাখা বুন্দিগুলো ঢেলে দিতে হবে। মাঝারি আছে ভালো করে সমস্তটা মাখিয়ে নিতে হবে। দেখবেন ধীরে ধীরে এই বুন্দিগুলো চিনির সিরাপটি শোষণ করে নিচ্ছে এবং যতক্ষণ না বুন্দিগুলো নরম হচ্ছে ততক্ষণ এটাকে নাড়া দিয়ে যেতে হবে।
- বুন্দিগুলো পুরোপুরি নরম হয়ে গেলে এবার ওর মধ্যে মিশিয়ে দিতে হবে সামান্য লিকুইড গ্লুকোজ। আসলে দোকানের লাড্ডু গুলোর মধ্যে এই গ্লুকোজ দেওয়া হয় যাতে বেশি দিন নরম থাকে তবে আপনারা চাইলে এটা নাও দিতে পারেন। ৩-৪ মিনিট ভালো করে নাড়াচাড়া দিয়ে একটি পাত্রে ঢেলে ঠান্ডা করতে দিতে হবে।
- এরপর ঠান্ডা হলে ওর মধ্যে কেটে রাখা আমন্ড, কাজুবাদাম এবং পেস্তা ছড়িয়ে দিতে হবে। অনেকে ড্রাই ফ্রুটস না মিশিয়েই লাড্ডু বানায় সে ক্ষেত্রেও একই স্বাদ আসে। এবার হাতে সামান্য জল মাখিয়ে বড় বড় আকারে গোল গোল করে বানিয়ে নিতে হবে মতিচুর লাড্ডু (Motichur Laddu)। যার স্বাদ হার মানাবে দোকানের লাড্ডুকেও।










