আপনিও রেল নীর-র প্ল্যান্ট লাগিয়ে করতে পারবেন আয়, জানুন কত বিনিয়োগ?

Published:

Rail Neer

অনন্যা সরকার, কলকাতা: ভারতীয় রেলে (Indian Railways) ভ্রমন করার সময় দেশের যে প্রান্তেই থাকুন না কেন, ট্রেনের ভেতর থেকে স্টেশন চত্বর – সর্বত্রই রেল নীর (Rail Neer) পাবেন। বর্তমানে, ১ লিটার রেল নীরের দাম ১৪ টাকা। কোথায় প্যাকেটজাত হয় এই রেল নীরের জল? কিংবা রেলওয়ে এই প্যাকেটজাত জল থেকে কত আয় করে?- এই ধরনের প্রশ্ন আপনার মাথায় ঘুরপাক খেলে এই প্রতিবেদনটি আপনার জন্যই। রেল নীর সর্ম্পকে যাবতীয় তথ্যের সঙ্গে আপনাকে জানাবো, কীভাবে আপনিও একটি রেল নীরের প্লান্ট স্থাপন করে, সেখান থেকে আয় করতে পারেন। 

আইআরসিটিসি (IRCTC)-এর দায়িত্বে রেল নীর 

রেলওয়ের খাদ্য সরবরাহকারী সংস্থা আইআরসিটিসি-কে প্রয়োজন ও চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন স্থানে রেল নীর প্ল্যান্ট স্থাপনের দায়িত্ব দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থিত মোট ১৯টি প্লান্ট থেকে সমস্ত প্রধান রেল স্টেশন ও প্রধান ট্রেনগুলিতে এই বোতলজাত জল সরবরাহ করে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতিটি রেল নীর প্ল্যান্টে দিনে প্রায় ১,০০,০০০ বোতল উৎপাদিত হয়। এই প্ল্যান্টগুলি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) মডেলে স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে বেসরকারি ঠিকাদাররা উৎপাদন ও বোতলজাত করার কাজটি করে এবং আইআরসিটিসি প্রতিটি বোতলের জন্য তাদের একটি নির্দিষ্ট চুক্তিমূল্য দেয়। রেল মন্ত্রক জানিয়েছে, প্রতিদিন ১ লক্ষ বোতল উৎপাদন করতে সক্ষম প্লান্ট তৈরি করতে প্রায় ১০ কোটি টাকা খরচ হয়। তবে এর মধ্যে কারখানার শেড নির্মাণ, অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি এবং অন্যান্য সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্ত থাকলেও, জমির খরচ এর মধ্যে ধরা হয়নি।

আরও পড়ুন: বৃষ্টি বা কুয়াশা নয়, ট্রেন লেট করার মূল ৬টি কারণ জানেন?

দেশের ১৯টি রেল নীর প্লান্ট  রয়েছে –

  • ১.নাংলোই – দিল্লি
  • ২.হাপুর – উত্তরপ্রদেশ
  • ৩.জাগিরোড – আসাম
  • ৪.সাঁকরাইল – পশ্চিমবঙ্গ
  • ৫.মানেরি – মধ্যপ্রদেশ
  • ৬.আমেঠি – উত্তরপ্রদেশ
  • ৭.নাগপুর – মহারাষ্ট্র
  • ৮.মন্দিদীপ – মধ্যপ্রদেশ
  • ৯. সানন্দ – গুজরাট
  • ১০.ভুসাওয়াল – মহারাষ্ট্র
  • ১১.কোটা – রাজস্থান
  • ১২.বিলাসপুর – ছত্তিশগড়
  • ১৩.সিংহদ্রি – অন্ধ্রপ্রদেশ
  • ১৪.বিজয়ওয়াড়া – অন্ধ্রপ্রদেশ
  • ১৫.ভুবনেশ্বর – ওড়িশা
  • ১৬.দানাপুর – বিহার
  • ১৭.অম্বরনাথ – মহারাষ্ট্র
  • ১৮.পালুর – তামিলনাড়ু
  • ১৯.উনা – হিমাচলপ্রদেশ

যাত্রীদের সাশ্রয়ী মূল্যে বিশুদ্ধ ও নিরাপদ জল সরবরাহ করাই এই রেল নীর প্রকল্পের উদ্দেশ্যে। তাই আইআরসিটিসি-এর এই প্ল্যান্টগুলি আধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত, যা জলের সম্পূর্ণ বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করে। উল্লেখ্য, আইআরসিটিসি-ই হল রেল নীর ব্র্যান্ডের মালিক এবং পরিবেশক। তাই রেল নীরের জন্য আইআরসিটিসি-র রেভিনিউ মডেলটি রয়্যালটি এবং নেট প্রফিট মার্জিন বা ইবিআইটি মার্জিন-এর উপর ভিত্তি করে গঠিত। আইআরসিটিসি-র আনুষ্ঠানিক আর্থিক ফলাফল অনুযায়ী, সংস্থাটির রেল নীর বিভাগের জন্য মুনাফার মার্জিন প্রায় ৮% থেকে ৯%। অর্থাৎ, যদি ১ লিটার রেল নীরের দাম ১৪ টাকা হয়, তবে আইআরসিটিসি প্রতি বোতলে প্রায় ১.১০ থেকে ১.৩০ টাকা নেট প্রফিট লাভ করে।

আরও পড়ুন: বাংলায় ১৭ টি নতুন রেল রুটের কাজ শুরু, কোথায় কোথায়? প্রকাশ্যে এল তালিকা

কীভাবে আপনি একটি প্ল্যান্ট তৈরি করতে পারেন?

রেল নীর প্ল্যান্ট স্থাপন করার জন্য, আইআরসিটিসি-এর অনুমোদিত একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি বা বটলিং প্ল্যান্টের জন্য আবেদন করতে হবে। আবেদনকারীদের জলের উৎস, কমপক্ষে ২,০০০ থেকে ৪,০০০ বর্গমিটারের খালি জমি এবং আনুমানিক ৪ থেকে ৮ কোটি টাকা বিনিয়োগ করার জন্য থাকতে হবে। একটি প্লান্ট তৈরির জন্য ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস (BIS)-এর সার্টিফিকেশন, ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার (FSSAI) প্রদত্ত লাইসেন্স এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের নন অবজেকশন সার্টিফিকেট (NOC) প্রয়োজন। এই সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য  আইআরসিটিসি-র অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে মিলবে।