উন্মোচন হতে পারে হরপ্পা সভ্যতার অজানা অধ্যায়, খননে মিলল প্রাচীন কঙ্কাল ও মৃৎপাত্র 

Published:

Survey of India

সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ আবারও একবার নজির গড়ল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (Survey of India)। ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ (Archaeological Survey of India) একটি বড় সাফল্য অর্জন করেছে। সিন্ধু উপত্যকা সভ্যতার বৃহত্তম প্রত্নস্থল হিসেবে পরিচিত রাখিগড়িতে খননকার্য চালিয়ে আটটি মানব কঙ্কাল ও মৃৎপাত্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। জানা গেছে, এই কঙ্কালগুলো ৭ নম্বর ঢিবিতে পাওয়া গিয়েছে, যেখানে হরপ্পা সভ্যতার মানুষেরা তাদের মৃতদেহ কবর দিত।

মিলল হরপ্পা যুগের আরও কঙ্কাল ও মৃৎপাত্র

এই প্রসঙ্গে এএসআই-এর কর্মকর্তা মনোজ সাক্সেনা জানিয়েছেন যে, এখন পর্যন্ত পাঁচটি কঙ্কাল তোলা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি পরীক্ষার জন্য কলকাতায় পাঠানো হয়েছে। একটি কঙ্কালের নমুনা লখনউতে পাঠানো হয়েছে। সেটির ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। তিনি বলেন, দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে রিপোর্ট পাওয়া যেতে পারে। এক রিপোর্ট অনুযায়ী, দুটি কঙ্কাল চল্লিশোর্ধ্ব দুই নারীর এবং একটি পুরুষের ছিল। এক কর্মকর্তা জানান, প্রতিটি মৃতদেহের কাছে মাটির পাত্র পাওয়া গেছে, যা সম্ভবত সমাধিস্থ করার সময় রাখা হয়েছিল। উল্লেখ্য, এর আগে, একটি কঙ্কালের কাছে ২৭টি মাটির পাত্র পাওয়া গিয়েছিল। তিনি আরও বলেন, নারীর কঙ্কালটির হাতে চুড়িও ছিল, যেগুলোতে সোনার পুঁতি ছিল।

এখনও পর্যন্ত ৭০টি কঙ্কাল পাওয়া গেছে

তিনি বলেন, আরও তিনটি কঙ্কাল পাওয়া গেছে যেগুলো অক্ষত ছিল না। সম্ভবত কৃষিকাজের কারণে এই কঙ্কালগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাখিগড়িকে সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করার আগে এখানে ব্যাপকভাবে চাষাবাদ করা হতো। গত কয়েক বছরে এএসআই এবং পুনের ডেকান কলেজ যৌথভাবে অন্তত ৭০টি কঙ্কাল খনন করে বের করেছে। ২২শে ফেব্রুয়ারি, এএসআই ৫৫০ হেক্টর এলাকা জুড়ে খননকাজ শুরু করে।

আরও পড়ুনঃ কলকাতার স্কুলে মিড-ডে মিল রান্না করবে ইসকন, পাতে পড়বে কি ডিম? মিলল জবাব

বিশেষজ্ঞদের অনুমান, ৪,০০০ থেকে ৫,০০০ বছর আগে মানুষ মৃতদেহের সাথে দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিসপত্র কবর দিত। তাই প্রায়শই মৃতদেহের পাশে মাটির পাত্র রাখা হতো। ৫ নং ঢিবির খননকার্যের সময় এএসআই মাটির পাত্র ও অন্যান্য দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিসপত্রের সাথে একটি বাড়ির কাঠামোও আবিষ্কার করেছে। বলা হয়ে থাকে যে ৪,০০০ থেকে ৫,০০০ বছর আগে সিন্ধু উপত্যকা সভ্যতা একটি বিশাল অঞ্চলের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র ছিল। এএসআই কর্মকর্তারা বলছেন যে রাখিগড়িতে এখনও অনেক রহস্য লুকিয়ে আছে। এখানে প্রাপ্ত সামগ্রীগুলো আমাদের হরপ্পা সভ্যতা এবং তৎকালীন নগর জীবন সম্পর্কে বুঝতে সাহায্য করতে পারে।