অনন্যা সরকার, অন্ধ্রপ্রদেশ: ভারতীদের সোনার (Gold) প্রতি অনুরাগ সর্বজনবিদিত। এবার দেশবাসীদের জন্য সুখবর এসেছে দক্ষিণের রাজ্য অন্ধ্রপ্রদেশ (Andhra Pradesh) থেকে। কুর্নুল জেলায় প্রায় ৫০ টন সোনার এক বিশাল ভান্ডার (Gold Mine) আবিষ্কৃত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঐতিহাসিক আবিষ্কার আগামী কয়েক বছরের মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশকে দেশের বৃহত্তম সোনা উৎপাদনকারী ও সরবরাহকারী রাজ্যে পরিণত করতে পারে। এই বিপুল স্বর্ণভান্ডার শুধু ভারতের সোনা উৎপাদনই বাড়াবে না, তার সাথে সাথে বিদেশ থেকে ব্যয়বহুল সোনা আমদানির ওপর ভারতের নির্ভরতাও অনেকাংশে কমিয়ে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্ধ্রপ্রদেশে চার সোনার খনি আবিষ্কার
অন্ধ্রপ্রদেশ খনি বিভাগের প্রধান সচিব মুকেশ কুমার মীনা সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিরাট সাফল্যের খবরটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, রাজ্যের খনি বিভাগ শুধু জোননাগিরিই নয়, মোট চারটি সম্ভাব্য স্বর্ণখনির স্থান চিহ্নিত করতে পেরেছে। অন্য স্থানগুলি হল – রামগিরি, জাব্বাকুলা এবং চিগুরুকুন্তা বিসনাথম। তবে, এগুলির মধ্যে জোননাগিরি সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য, যেখানে প্রায় ৫০ টন সোনা রয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। অন্ধ্রপ্রদেশে সরকার বর্তমানে এই খনিজ সম্পদ সমৃদ্ধ অঞ্চলগুলিতে আরও অনুসন্ধান চালানো ও স্থানগুলির সর্বাঙ্গীন উন্নয়নের জন্য বৃহৎ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
মুকেশ কুমার মীনা বলেন যে, প্রায় এক দশক আগে কুর্নুলের জোনাগিরি গ্রামে ১,৫০০ একর জমি স্বর্ণখনির জন্য বরাদ্দ করা হয়। তবে, প্রাথমিকভাবে মাত্র ৫০০ একর জমিতে অনুসন্ধান চালানো হয়েছিল, যেখানে আনুমানিক ১৩ টন সোনা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হয়। বর্তমানে, বাকি ১,০০০ একর জমিতে শীঘ্রই নতুন করে অনুসন্ধান অভিযান শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে। কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই পুরো অঞ্চলটিতে মোট ৫০ টনের বেশি সোনা মজুত থাকতে পারে। এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্পে গতি আনার জন্য অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু চলতি মাসের শেষের দিকেই আনুষ্ঠানিকভাবে জোনাগিরি স্বর্ণখনি খননের কার্জক্রমের উদ্বোধন করবেন।
ভারতীয় বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে বলা যায় যে, জোনাগিরিতে পাওয়া এই ৫০ টন সোনার আনুমানিক মূল্য ৭,৫০০ কোটি টাকা থেকে ৯,০০০ কোটি টাকার মধ্যে থাকতে পারে। যেহেতু আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে কমোডিটি মার্কেটে সোনার দাম প্রতিদিন ওঠানামা করে, তাই আবিষ্কৃত এই সম্পদের চূড়ান্ত দামে সামান্য তারতম্য হতে পারে। তবে, এত বিপুল পরিমাণ সোনার খোঁজ দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা করতে এবং স্থানীয় কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে ব্যাপকভাবে সাহায্য করতে পারে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, খনি সোনা উত্তোলন করা শুনতে যতটা আকর্ষণীয়, বাস্তবে এই প্রক্রিয়াটি ততটাই জটিল এবং ব্যয়বহুল। মুকেশ কুমার মীনা বলেছেন যে, খনি থেকে সোনা বের করে আনার জন্য অনেক মূলধন ও অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয়। সেই কারণেই সরকার স্বচ্ছ টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই কাজ করার জন্য বেসরকারি সংস্থাগুলোকে নিযুক্ত করার পরিকল্পনা করেছে। তার দাবি, সাম্প্রতিককালে প্রতি টন খনিজ বর্জ্য থেকে পাওয়া খাঁটি সোনার পরিমাণ অনেকটাই কমে গেছে। বর্তমানে, এক টন খনিজ পদার্থ থেকে বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মাত্র এক গ্রাম বিশুদ্ধ সোনা উদ্ধার করা যাচ্ছে, যেখানে আগে প্রতি টনে তিন গ্রাম সোনা মিলতো। এই পরিমাণ যদি প্রতি টনে ০.৮ গ্রামের নীচে নেমে যায়, তাহলে খনি থেকে সোনা উত্তোলন করে কার্যত কোনও লাভের অঙ্ক বাঁচে না।
আরও পড়ুনঃ আয়ুষ্মান ভারত কার্ড থাকা সত্ত্বেও ভর্তি নিচ্ছে না হাসপাতাল? এভাবে জানান অভিযোগ
জানিয়ে রাখি, ভারত বছরে প্রায় ৮০০ টন সোনা ব্যবহার করে, কিন্তু এর তুলনায় দেশের খনি থেকে নগণ্য পরিমাণেই উৎপাদিত হয়। বর্তমানে, কর্ণাটকের হুট্টি স্বর্ণখনিই দেশের একমাত্র বৃহৎ ও সক্রিয় স্বর্ণখনি, যেখান থেকে প্রতি বছরে মাত্র ১.৫ টন সোনা উত্তোলিত হয়। এই পরিস্থিতিতে ভারতকে তার বিপুল চাহিদা মেটাতে সম্পূর্ণরূপে বিদেশ থেকে আমদানি করা সোনার প্রতি নির্ভরশীল থাকতে হয়। তাই অন্ধ্রপ্রদেশের এই নতুন আবিষ্কারটিকে সোনা উৎপাদনের ক্ষেত্রে দেশকে আত্মনির্ভরশীল করে তোলার দিকে এক ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।










