গ্রেটার নয়ডায় এসি বাসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, জীবন্ত দগ্ধ ৯

Published:

Fire In Greater Noida

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: মধ্যরাতে ভয়ংকর অগ্নিকাণ্ড! গ্রেটার নয়ডায় চলন্ত এসি বাসে (Fire In Greater Noida) দাউদাউ করে জ্বলে উঠল আগুন, ঘুমের মধ্যেই ঘটনাস্থলে ঝলসে মৃত্যু হলো ৯ জনের। আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। আশঙ্কা করা হচ্ছে এই ঘটনায় (Greater Noida AC Bus Fire) হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সমগ্র এলাকায়।

চলন্ত এসি বাসে আগুন

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গতকাল, বুধবার ৩৫ জন যাত্রীকে নিয়ে নয়ডা থেকে মাহোবার দিকে যাচ্ছিল এক শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস। মধ্যরাতে যমুনা এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে যাওয়ার সময় জেওয়ারের নিকটবর্তী দয়ানটপুর গ্রামে বাসটিতে আচমকা আগুন ধরে যায়। দুঃখের বিষয় সেই সময় অধিকাংশ যাত্রীই ঘুমোচ্ছিলেন। ফলে আগুন লাগার বিষয়টি বুঝে ওঠার আগেই সব শেষ হয়ে যায়। অন্যদিকে বাসে আগুন লাগার বিষয়টি স্পষ্ট হতেই বাসের মধ্যে হইচই শুরু হয়। অনেকেই আগুনের লেলিহান শিখা থেকে বাঁচতে অনেকেই কাচের জানলা ভেঙে বাইরে ঝাঁপ দেন। কিন্তু ততক্ষণে পুরো বাসে আগুনের গ্রাসে চলে যায়।

ঝলসে মৃত্যু অন্তত ৯ যাত্রীর

এদিকে গ্রেটার নয়ডায় এরকম ভয়ংকর অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় পুলিশ এবং দমকল। দ্রুততার সঙ্গে কোনোরকমে বাসের ভিতর থেকে যাত্রীদের উদ্ধার করার চেষ্টা করা হয়। তবে এখনও বাসের ভিতরে কোনও যাত্রী আটকে আছেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কারণ গোটা বাস ধোঁয়ায় ভরে গিয়েছে।

ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে এক যাত্রী জানিয়েছেন যে, “আমি ঘুমোচ্ছিলাম। কেউ আমাকে ডেকে দিয়ে বলল বাসে আগুন লেগে গিয়েছে। চোখ খুলে দেখলাম চারিদিকে ধোঁয়া। কোনওরকমে আতঙ্কের মধ্যে হাতে প্রাণ নিয়ে বাস থেকে বেরিয়েছি।” প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে বাসটি থেকে আপাতত ৯টি মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছে। তবে আর কোনও যাত্রী দগ্ধ হয়েছেন কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়।

আরও পড়ুন: জনস্বার্থ মামলা করছেন? এবার হবে ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা! হুঁশিয়ারি কলকাতা হাইকোর্টের

পুলিশ সূত্রে খবর, এখনও বাসে আগুন লাগার কারণ জানা যায়নি, তবে প্রাথমিক অনুমান শর্ট সার্কিট থেকে হয়ত এই ঘটনা ঘটেছে। বাসটিকে আপাতত এক্সপ্রেসওয়ের ধারে এনে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ মৃতদের পরিবার সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সমবেদনা জানিয়েছেন। পাশাপাশি আহতদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থার জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।