বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: এমনিতেই গোটা দেশজুড়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে চলছে বিক্ষোভ। এমতাবস্থায়, জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar) সহ বাকি দুই নির্বাচন কমিশনারের নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court Of India) দায়ের হল জনস্বার্থ মামলা। মামলাকারী আদালতে দাবি করেছেন, নরেন্দ্র মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর 2023 সালে নতুন আইন আনে। সেই আইনেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার পদে নিয়োগ করা হয় জ্ঞানেশ সহ বাকি দুজনকে। তবে ওই আইনে বর্ণিত নির্দিষ্ট বিধি লঙ্ঘন করা হয়েছে জ্ঞানেশ কুমারদের নিয়োগের ক্ষেত্রে, এমনটাই দাবি মামলাকারী সুরি পায়ালারের।
জ্ঞানেশ কুমারদের নিয়োগ বেআইনি?
মূলত সংবিধানের 32 নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন জমা দিয়েছেন মামলাকারী। সেখানেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সহ বাকি দুই কমিশনারের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে। মামলাকারীর দাবি, আইনের 6 নম্বর ধারা মেনে প্রত্যেকটা শূন্য পদের জন্য সার্চ কমিটিকে 5 জনের নির্দিষ্ট প্যানেল তৈরি করতে হয়। তবে 2024 সালের মার্চ মাসে নির্বাচন কমিশনের দুটি শূন্য পদের জন্য সার্চ কমিটি 10 জনের নাম না করে 6 জনের নাম সুপারিশ করেছিল। ওই মামলাকারী 2024 সালের 22 মার্চে দেওয়া সুপ্রিম কোর্টের এক পুরনো নির্দেশের কথা উল্লেখ করেন।
আদালতে মামলাকারী আরও জানান, 2024 সালের 13 মার্চ নামের তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার আগে বিরোধী দলনেতার কাছে 200 জনের একটি তালিকা পাঠানো হয়েছিল। আর এই ঘটনার ঠিক পরের দিনে 6 জন সদস্যের সুপারিশ কমিটি একই দিনে সিলেকশন করে জ্ঞানেশ কুমার ও সুখবীরকে সরাসরি নিয়োগ করে। মূলত সে কারণেই তড়িঘড়ি তৈরি 6 সদস্যের তালিকাকে বৈধ প্যানেল বলা যায় কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মামলাকারী।
আরও পড়ুন: সরকারি চাকরি পাচ্ছেন ৭৮ জন ক্রীড়াবিদ, নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করল নবান্ন
ওই মামলাকারী সুপ্রিম কোর্টে এও জানান, 2023 সালের বিশেষ আইনের 5 নম্বর ধারায় স্পষ্ট করে বলা আছে, প্রত্যেক প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এদিকে জ্ঞানেশ কুমারের পাশাপাশি বাকি দুজনের কারোরই সেই অভিজ্ঞতা ছিল না। বর্তমান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার তাঁর কর্মজীবনে মোট 26 বার বিভিন্ন জায়গায় পোস্টিং পেয়েছেন। তবে সেগুলির একটিও নির্বাচন সংক্রান্ত নয়।










