৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে দেশব্যাপী আন্দোলন, বড় ঘোষণা ককরোচদের

Published:

Abhijeet Dipke

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দিল্লির যন্তরমন্তরে ককরোচদের আন্দোলন সফল হওয়ার পর এবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধেই আন্দোলনে নামল অভিজিৎ দীপকের (Abhijeet Dipke) নেতৃত্বাধীন ককরোচ জনতা পার্টি! বৃহস্পতিবার রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি তুললেন অভিজিৎরা। এমনকি আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিনি যদি পদত্যাগ না করেন, তাহলে দেশব্যাপী আন্দোলনের ডাক দিয়েছে সিজেপি।

জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন সিজেপির

সম্প্রতি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন দুই নির্বাচনী আধিকারিক। তার পরপরই বিরোধী দলগুলি একের পর এক সুর চড়াতে শুরু করেছে। এমনকি গতকাল তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জ্ঞানেশ কুমারকে গ্রেফতারের দাবিও জানান। এদিকে সিজেপির অভিজিৎ ছাড়া আরও দুই শীর্ষ নেতা আশুতোষ রঙ্কা এবং সৌরভ দাস দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা করেছিলেন গতকাল। তাঁরা জানান, সমস্ত কাজ ছেড়ে দ্রুত রাজধানীর দিকে রওনা দিচ্ছেন।

এর আগে এক্স হ্যান্ডেলে অভিজিৎ লিখেছিলেন, “নির্বাচন কমিশনকে ঠিক করুন। আগামীকাল দিল্লিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলন রয়েছে। জ্ঞানেশ, কাজটা হয়ে গেছে ভাই।” পাশাপাশি আশুতোষ রঙ্কা লিখেছেন, “ইসিআই-র বিশ্বাসযোগ্যতা সংক্রান্ত সাম্প্রতিক ঘটনাগুলির পরিপ্রেক্ষিতে অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস এবং আমি আমাদের পূর্বনির্ধারিত সমস্ত কর্মসূচি বাতিল করছি এবং অবিলম্বে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছি। আমরা আগামীকাল দুপুর বারোটায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলন করব। জ্ঞানেশ, কাজটা হয়ে গেছে ভাই।”

দিল্লিতে আজ সাংবাদিক সম্মেলন করে ককরোচ জনতা পার্টি জানিয়ে দিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যদি জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করেন, তাহলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী আন্দোলন শুরু করা হবে। এমনকি দিল্লিতে যন্তরমন্তর ২.০ প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি সিজেপি নির্বাচন কমিশন এবং সরকারের কাছে তিনটি দাবি পেশ করেছে।

১) তাদের প্রথম দাবি হল, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ করা উচিত এবং অবিলম্বে তাঁর বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা উচিত। কারা তাঁকে নির্দেশ দিচ্ছিল তা নির্ধারণ করতে নিরপেক্ষ তদন্ত দরকার।

২) তাদের দ্বিতীয় দাবি হল, আসন্ন সকল নির্বাচন অবিলম্বে স্থগিত করা উচিত। ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসের ভোটার তালিকা পুনর্বহাল করা এবং এসআইআর বন্ধ করা উচিত। সুপ্রিম কোর্টের উচিত এসআইআর সম্পর্কিত সমস্ত নথি বাজেয়াপ্ত করে দেওয়া।

৩) তাদের তৃতীয় দাবি হল, নির্বাচন কমিশনারদের আইনি ব্যবস্থা থেকে সুরক্ষা প্রদানকারী ২০২৩ সালের আইন প্রত্যাহার করা উচিত এবং একটি নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যেখানে বর্তমান শিক্ষিত সমাজকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

আরও পড়ুন: “স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, উন্নয়ন…” নিউটাউনে হাসপাতালের শিলান্যাসে বড় ঘোষণা আদানির

এদিন সংবাদ সম্মেলনে অভিজিৎ দীপকে বলেন, “জ্ঞানেশ কুমার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ না করলে ককরোচ জনতা পার্টি দেশব্যাপী প্রতিবাদ শুরু করবে এবং পরে দিল্লিতে অবস্থান ধর্মঘট করবে। আমরা প্রতিটি রাজ্যের প্রতিটি শহরে যাব এবং সচেতনতা তৈরি করব। যন্তরমন্তর প্রতিবাদের আগে আমরা যেমনটা করেছিলাম, ঠিক তেমনই দেশব্যাপী জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চালিয়ে যাব। এখনও আমরা যখন যাচ্ছি, তখন মানুষ বলছে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল ভোট চুরি এবং নির্বাচনে কারচুপি। মানুষ ইতিমধ্যেই ক্ষুব্ধ। তাঁর অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত। তিনি গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। জ্ঞানেশ কুমার প্রধান নির্বাচন কমিশনার হওয়ার পর থেকেই সরকার ঠিক করে দিচ্ছে কে ভোট দেবে আর কে দেবে না।”