সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: জনপ্রিয় ইউটিউবার সেলিম ওয়াস্টিক (Saleem Wastik) যিনি নিজেকে একজন প্রাক্তন মুসলিম হিসেবে পরিচয় দিয়ে ধর্ম ও সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভিডিও বানাতেন, তাঁকেই এবার পুলিশ গ্রেফতার করল। তবে কোনও সাধারণ ঘটনার জন্য এই গ্রেফতারি নয়, বরং আজ থেকে ৩১ বছর আগে এক স্কুল ছাত্রকে অপহরণ ও খুনের দায়ে তাঁকে আটক করা হয়েছে। নিজের পরিচয় গোপন করেই এতদিন ঘাপটি মেরে ছিলেন এই অভিযুক্ত।
কী ঘটেছিল সেই দিন?
আসলে ঘটনাটি ১৯৯৫ সালের ২০ জানুয়ারির। দিল্লির এক সিমেন্ট ব্যবসায়ীর ১৩ বছরের ছেলে সন্দীপ বনসল স্কুল থেকে সেদিন আর বাড়ি ফেরেনি। পরের দিন ওই ব্যবসায়ীর কাছে ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ চেয়ে ফোন আসে। আর অপহরণকারীরা হুমকি দেয় যে, পুলিশকে জানালে তাঁর ছেলেকে প্রাণে মেরে ফেলা হবে। এদিকে পুলিশ তদন্ত করে জানতে পারে যে, এক মাস্টারের সঙ্গে অটোতে চেপে সন্দীপকে যেতে দেখা গিয়েছিল। আর সেই সূত্র ধরেই পুলিশ সেলিম খানকে গ্রেফতার করে। সলিম তখন দরিয়াগঞ্জের একটি স্কুলে মার্শাল আর্ট শেখাতেন। জেরা করার সময় তিনি অপরাধ স্বীকার করেন এবং মোস্তফাবাদের একটি ড্রেন থেকে ওই কিশোরের পচাগলা দেহ উদ্ধার হয়।
এদিকে ১৯৯৭ সালে আদালত সেলিমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল। তবে ২০০০ সালে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়ে চম্পট দেন তিনি। এরপর নিজেকে মৃত ঘোষণা করে সলিম আহমেদ ও সেলিম ওয়াস্টিক নামে নতুন পরিচয় ধারণ করেছিলেন এই অভিযুক্ত। পরবর্তী কয়েক বছর হরিয়ানার কারানাল ও আম্বালায় আলমারি মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করেছেন। এমনকি ২০১০ সালে গাজিয়াবাদের লোনিতে এসে পাকাপাকিভাবে বসবাস শুরু করেন তিনি। তবে সেখানে একটি কাপড়ের দোকান খোলেন এবং সমাজসেবী ও ইউটিউবার হিসেবে পরিচিত পান।
এদিকে সেলিমের জীবনকাহিনী শুনে এক বলিউড প্রযোজক এতটাই হমুগ্ধ য়েছিলেন যে, তাঁর উপর বায়োপিক তৈরির সিদ্ধান্ত নেন। এমনকি সেই বায়োপিকের জন্য সেলিমকে ১৫ লক্ষ টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়েছিল। তবে সিনেমা শুরুর আগেই সেলিমের আসল পরিচয় ফাঁস হয় এবং তাঁকে গ্রেফতার করে তিহাড় জেলে পাঠানো হয়।
আরও পড়ুন: গরমে যাত্রীদের বিনামূল্যে জল, ৯০০ স্পেশাল ট্রেনও চালাবে রেল
উল্লেখ করার বিষয়, গত মাসেই সেলিম ওয়াস্টিকের উপর জিশান ও গুলফাম নামে দুই ভাই হামলা চালিয়েছিল। এমনকি ইউটিউবে পয়গম্বরকে নিয়ে অপমানজনক মন্তব্যের অভিযোগে সেলিমকে বাড়িতে ঢুকে এলোপাথাড়ি কোপানো হয়েছিল। প্রাণে বেঁচে গেলেও পরে এনকাউন্টারে দুই আততায়ী নিহত হয়। তবে সলিমকে দিল্লির জিটিবি হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর সময় তাঁর পুরনো রেকর্ড, আঙুলের ছাপ এবং সমস্ত তথ্য যাচাই করে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, এই সেলিমই সেই ১৯৯৫ সালের খুলি সেলিম খান।










