অনন্যা সরকার, উত্তরাখণ্ড: উত্তরাখণ্ডের গাড়োয়াল অঞ্চলের পৌরি গাড়োয়াল জেলায় অবস্থিত ধারি দেবীর মন্দির (Dhari Devi Temple) শুধু একটি তীর্থস্থানই নয়, এই সিদ্ধ পিঠের সাথে জড়িয়ে রয়েছে অনেক রহস্য। এই সুপ্রসিদ্ধ মন্দিরের মূল আকর্ষণ হলো মা ধারি দেবীর প্রস্তর মূর্তি, যা দিনজুড়ে তিনবার রূপ বদলায় বলে দাবি করা হয়। স্থানীয় লোকবিশ্বাস ও দর্শনার্থীদের বর্ণনা অনুযায়ী, মায়ের মূর্তিটি সকালে একজন ফুটফুটে শিশুর, দুপুরে একজন পূর্ণবয়স্কা নারীর এবং সন্ধ্যায় একজন বৃদ্ধার রূপ ধারণ করে। বিজ্ঞান আজও এই রূপান্তরের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করতে পারেনি, তাই মা ধারি দেবীর মন্দিরটি রয়ে গেছে এক গভীর রহস্যে আবৃত।
মা ধারি দেবীর মাহাত্ম্য
সিদ্ধপীঠ ধারি দেবীর মন্দিরটি শ্রীনগর থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। আগে মন্দিরটি অলকানন্দা নদীর তীরে একটি পাথুরে টিলার উপর অবস্থিত ছিল। তবে শ্রীনগর জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের হ্রদের কারণে অলকানন্দা নদীর জলস্তর ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। তাই, প্রকল্পটি পরিচালনাকারী সংস্থাটি মন্দিরটিকে স্তম্ভের উপর তুলে তার মূল অবস্থানের ঠিক ওপরে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে। এখন মন্দিরটি স্তম্ভের ওপর ভর করে নদীর মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে। তবে, একটি স্থায়ী মন্দির নির্মাণের কাজ চলছে।
ধারি দেবীকে মা কালীর একটি রূপ বলে মনে করা হয়। কথিত আছে যে, এক বন্যার সময় ধারি দেবী কালিমঠ থেকে ভেসে এসেছিলেন। ধারি গ্রামের কাছে রাতে এক মহিলার কণ্ঠস্বর শুনতে পান গ্রামবাসীরা। তাঁরা নদীর তীরে গিয়ে দেখেন জলে একটি মূর্তি ভাসছে। ধারি গ্রামের কুঞ্জু ধুনার সহ গ্রামবাসীরা মূর্তিটি জল থেকে টেনে তোলেন। এরই মধ্যে, মহিলার কণ্ঠস্বর আবার মূর্তিটিকে পুনঃস্থাপন করার জন্য অনুরোধ করেন। বাসিন্দারা তখন মূর্তিটি স্থাপন করেন।
আরও পড়ুন: কালীপুজোর আগেই পুরভোটের বিজ্ঞপ্তি? রাজ্যের কাছে বড় প্রস্তাব কমিশনের
লোকবিশ্বাস, ধারি দেবী দিনে তিনবার তাঁর রূপ পাল্টান। তিনি সকালে বালিকা, দিনে যুবতী এবং রাতে বৃদ্ধা রূপ ধারণ করেন। দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা মায়ের কাছে মনোবাঞ্ছা জানাতে আসেন। বিবাহের পর নবদম্পতিরা আসেন দেবীর আশীর্বাদ নিতে। মন্দিরে প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় আরতি হয়। নবরাত্রির সময় বিপুল জনসমাগম ঘটে এই মন্দিরে। উল্লেখ্য, ধারি দেবী মন্দির ঋষিকেশ-বদ্রীনাথ জাতীয় মহাসড়কের কাছে অবস্থিত। এর দূরত্ব শ্রীনগর থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার ও রুদ্রপ্রয়াগ থেকে ১৯ কিলোমিটার। ধারি দেবীর মন্দিরে যাওয়ার জন্য কালিয়াসৌদ থেকে প্রায় ৫০০ মিটার পায়ে হেঁটে যেতে হয়।










