বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: তুষারাবৃত্ত দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে ভারতীয় সেনা (Indian Army) জওয়ানদের কাছে জরুরি পণ্য, রেশন বা তৈরি খাবার পাঠানো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়ায়। এবার সেই সমস্যা দূর করতেই বড় পদক্ষেপ নিল নয়া দিল্লি। জানা যাচ্ছে, সিয়াচেন ও লাদাখ সীমান্তে দুর্গম অঞ্চলে কর্মরত সেনাদের কাছে প্রয়োজনীয় ওষুধ থেকে শুরু করে খাবার সহ অন্যান্য জরুরী পণ্য পৌঁছে দিতে এবার অত্যাধুনিক ড্রোন (Drone) ব্যবহার করবে ভারত। সেই মর্মে, 2,700 ড্রোন বা উড়ুক্কু যান কিনতে চলেছে ভারতীয় সেনা।
উড়ে উড়েই পৌঁছে খাবার থেকে জরুরি পণ্য
রিপোর্ট অনুযায়ী, দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে ভারতীয় সেনাদের কাছে জরুরি পরিস্থিতিতে ওষুধ সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য দ্রব্য পাঠানোর জন্য ভারত যে 2,700 ড্রোন কিনতে চলেছে সেগুলি স্বল্প, মাঝারি এমনকি অধিক উচ্চতার ক্ষেত্রেও কাজে আসবে। জানা যাচ্ছে, একসাথে এই ড্রোন 20 কেজি থেকে সর্বোচ্চ 200 কেজি ওজন নিয়ে মাইনাস 30 ডিগ্রি থেকে 50 ডিগ্রি সেলসিয়াসে, কঠিন আবহাওয়ার মধ্যেও দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে পৌঁছে যেতে পারবে।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি সূত্র বলছে, মূলত চিন সীমান্ত অর্থাৎ সিয়াচেন এবং পূর্ব লাদাখের মতো দুর্গম অঞ্চলে সেনাদের কাছে প্রয়োজনীয় ওষুধ, জরুরী পরিস্থিতিতে নানান পণ্য এবং খাবার পৌঁছে দেওয়ার জন্যই এই ড্রোনগুলিকে কাজে লাগানো হবে। দিন এবং রাত নির্বিশেষে যেকোনও ধরনের আবহাওয়ায় কাজ করতে পারবে এই ড্রোন। কাশ্মীরের পুলওয়ামায় অবস্থিত অবন্তিপোরা বিমান বাহিনী স্টেশনের তরফে এ নিয়ে ইতিমধ্যেই বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
Indian Army plans massive drone purchase for Himalayan outposts
A tender for 2,715 drones capable of delivering supplies to troops at altitudes between 6,000 and 20,000 feet.
They’ll operate in temperatures from -30°C to 50°C, fly 10-20 km one way, and land at night using… pic.twitter.com/AJSYB3yyej
— Sputnik India (@Sputnik_India) August 7, 2026
অবশ্যই পড়ুন: এভাবে জানান স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা, রইল দেশভক্তির সেরা কিছু মেসেজ
প্রকাশ্যে আসা ওই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পার্বত্য অঞ্চলে দুর্গম পরিবেশে জরুরী পরিস্থিতি সেনাদের কাছে ওষুধ থেকে শুরু করে খাবার পৌঁছে দেওয়ার সাথে সাথে বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ, গোলাবারুদ এমনকি ছোট আকারের অস্ত্রশস্ত্রও পৌঁছে দিতে পারবে এই ড্রোনগুলি। এ প্রসঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত উইং কমান্ডার মনীশ কুমারের দাবি, ভারতীয় সেনাবাহিনী একাধিক নিরাপত্তা চৌকি নানান প্রত্যন্ত এবং দুর্গম অঞ্চলে অবস্থিত। যেখানে সহজে প্রবেশ করতে পারে না সেনার হেলিকপ্টারও। সেই সব জায়গায় প্রয়োজনীয় পণ্যদ্রব্য পৌঁছে দিতে অত্যন্ত কার্যকরী হবে ড্রোনগুলি। সব মিলিয়ে বলাই যায়, এবার আকাশ পথেই দিন, রাতের পার্থক্য নির্বিশেষ যেকোনও সময় উড়ে উড়েই সেনাদের কাছে পৌঁছে যাবে প্রয়োজনীয় রসদ।










