অনন্যা সরকার, কলকাতা: ট্রেনের কামরার ভেতরে ডাস্টবিন উপচে পড়া এবং বর্জ্য জমে থাকা রেলের (Indian Railways) একটি নিত্যনৈমিত্তিক সমস্যা, বিশেষ করে দূরপাল্লার ট্রেনগুলোতে যখন সফর করা হয়, তখন আবর্জনা ক্রমাগত বাড়তে থাকে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য, ভারতীয় রেল একটি পরিবর্তিত আবর্জনা নিষ্কাশন ব্যবস্থা (Garbage Disposal System) নিয়ে কাজ করছে, যা ট্রেনের মধ্যে বর্জ্যের ধারণ ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে। আশা করা হচ্ছে, এই ব্যবস্থাটি বাস্তবায়িত হলে বগির ভেতরে আবর্জনা উপচে পড়ার দৃশ্য আর দেখতে হবে না যাত্রীদের।
রেলের নতুন গারবেজ ডিসপোজাল সিস্টেম কীভাবে কাজ করে?
নতুন এই ব্যবস্থাটি ঝাঁসির ওয়াগন রিপেয়ার ওয়ার্কশপে একটি প্রোটোটাইপ হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। রেলওয়ে ওয়ার্কশপের তরফে জানানো হয়েছে যে, এই নয়া উদ্ভাবনটির উদ্দেশ্য হল ট্রেনে আবর্জনা ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং ট্রেনের ভেতরের ওয়েস্ট বিনগুলি ঘন ঘন নাড়াচাড়া করার প্রয়োজনীয়তা কমানো। প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থায় তিনটি অংশ যুক্ত রয়েছে, এগুলি হল – একটি আবর্জনা ফেলার বক্স, একটি কানেক্টর এবং একটি আন্ডারগিয়ার ওয়েস্ট কালেক্টর।
কোচের মেঝেতে বসানো এই ড্রপ বক্সটিতে যাত্রীদেরকে স্বাভাবিক পদ্ধতিতে আবর্জনা ফেলতে পারবেন। কানেক্টরটিকে আন্ডারগিয়ার কাঠামো এবং ট্রেনের কেবিনের মেঝের মধ্যে বসানো হবে। এটি বর্জ্যকে কোচের নীচে বসানো একটি উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন কালেক্টরের মধ্যে পাঠাবে।
আরও পড়ুন: স্ত্রীকে “আপত্তিকর অবস্থায়” দেখা মানেই পরকীয়া নয়, বিবাহ বিচ্ছেদের মামলায় হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ
কালেক্টরটি রক্ষণাবেক্ষণের সময় খালি করার আগে পর্যন্ত আবর্জনা ধরে রাখবে। এই ব্যবস্থাটি একটি মাধ্যাকর্ষণ-চালিত প্রক্রিয়া ব্যবহার করে, যা নিশ্চিত করে যে যাত্রাপথে কোনো অতিরিক্ত হস্তক্ষেপের প্রয়োজন ছাড়াই বর্জ্য নীচের দিকে চলে যায়। এটি দীর্ঘ যাত্রার সময় বারবার ময়লার পাত্র খালি করার প্রয়োজনীয়তা কমায়।
প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি, এলএইচবি (LHB) কোচগুলিতে বর্তমানে যে আবর্জনা ফেলার ব্যবস্থা রয়েছে, তাতে দুটি সাধারণ ময়লার পাত্র আছে, যার প্রতিটির ধারণক্ষমতা প্রায় ১৫-২০ লিটারটির মতো। নতুন সিস্টেমে ওয়েস্ট কালেক্টরের ধারণক্ষমতা হবে ৩৭৬.৪ লিটার। এই সিস্টেমে স্টেইনলেস স্টিল ব্যবহার করা হয়, যা কাঠামোগত শক্তি ও দীর্ঘ পরিষেবা জীবন প্রদান করতে সক্ষম।
বর্জ্য সহজে সরানো ও খালি করার জন্য, আন্ডারগিয়ার কালেক্টরটি একটি বিশেষ ৩:১০ টেপার দিয়ে ডিজাইন করা হয়েছে। এটিতে ড্রপ বক্স এবং কালেক্টর উভয় দিক থেকে আলাদাভাবে পরিষ্কার করা যায়, যা পরিচ্ছন্নতা এবং দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণকে আরও সহজ করে তুলবে। যেহেতু ওয়েস্ট কালেক্টরটি কোচের নীচের দিকে লাগানো থাকবে, তাই এই ডিজাইনটি বিদ্যমান আন্ডারগিয়ার বা কাঠামোগত উপাদানগুলির সাথে কোনো সমস্যা তৈরি করবে না।
আরও পড়ুন: ১৬ লাখের চাকরি ছেড়ে UPSC-র প্রস্তুতি দুই বোনের, একসাথে IAS অঙ্কিতা ও বৈশালী
রেলের তরফে জানানো হয়েছে যে, এই নয়া ওয়েস্ট ডিসপোজাল সিস্টেমটি ইতিমধ্যেই পরিদর্শন ও অনুমোদন করার জন্য রিসার্চ ডিজাইনস অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অর্গানাইজেশন (RDSO)-এর কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। পরিদর্শনের সময় আরডিএসও-এর পক্ষ থেকে কোনো প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের পরামর্শ দেওয়া হলে, তা পরবর্তী বাস্তবায়নের আগে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। প্রতিটি বর্জ্য ফেলার বিন অ্যাসেম্বল করার আনুমানিক খরচ প্রায় ১২,০০০ টাকা। অনুমোদন পেলে, প্রতিটি কোচে দুটি করে বিন থাকবে, যা দুই এক্সিটে স্থাপন করা হবে।










